১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮৬
বৈদেশিক বাজার হইতে পণ্য-ক্রয়
বর্তমান সময় সকল প্রকার ব্যবসায়-বাণিজ্যের মূল ভিত্তিই হইতেছে সুদ। ইহার ধ্বংসকারিতা ও মারাত্মক প্রভাব এত তীব্র ও সর্বগ্রাসী হইয়া দেখা দিয়াছে যে, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদগণও উহার বিলুপ্তির জন্য সুপারিশ করিতে বাধ্য হইয়াছেন। কিন্তু ইহা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীগণ ইহা পরিত্যাগ করিতে প্রস্তুত নয়। তাহারা বলে যে, সুদ বন্ধ করিলে ব্যবসায়-বাণিজ্যে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হইবে। বিশেষতঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইহা অপরিহার্য। বৈদেশিক বাজার হইতে পণ্য ক্রয় করিলে উহার মুল্য আদায় করার দুইটি স্থান হইতে পারে- প্রথমত, যে দেশ হইতে পণ্য ক্রয় করা হইল সেই দেশের বন্দরেই উহার মূল্য আদায় করা হইবে (Advance payment system)। দ্বিতীয়ত, উক্ত পণ্য ক্রেতার নিজ দেশের বন্দরে আসিয়া পৌঁছার পর মাল খালাস করিয়া লওয়ার সময় আদায় করিবে। প্রথম পন্থা গ্রহণ করিলে, পণ্যের কারখানা হৈইতে রওয়ানা হওয়ার সময়ই উহার মূল্য আদায় করিলে সুদ দেওয়া তো দূরের কথা আসল মূল্যের অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার মোটেই অবশ্যই হইবে না। ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ সাদাসিধা নীতি গ্রহণ করিবে- পণ্যের মূল্য উহার বন্দরেই আদায় করিয়া পণ্যবাহী জাহাজ-কর্তৃপক্ষের নিকট উহা সোপর্দ করিয়া দিবে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ উক্ত পণ্য ব্যবসায়ীর বন্দরে পৌছাইয়া দিয়া প্রাপ্য ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ আদায় করিয়া লইবে।