১
ইসলামের অর্থনীতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩
ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংক
বর্তমান সময় বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ক প্রয়োজনশীল লোকদিগকে সুদের বিনিময়ে ঋণদানের কাজ করিতেছে। সে ঋণ ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্যও পাওয়া যাইতেছে, আবার ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিনিয়োগের জন্যও। এইরূপ ঋণদানে অভাবগ্রস্ত লোকদের আপাতদৃষ্টিতে যথেষ্ট উপকার হইতেছে বলিয়া মনে হয় এবং বিরাট বিরাট ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্প-কারখানা এই ব্যাংক হইতে প্রাপ্ত মূলধনের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত হইতেছে এবং চলিতেছে, এ কথাও অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এই আপতঃ উপকার ও ব্যবসায়-শিল্পের এই বাহ্যিক চাকচিক্য প্রকৃতপক্ষে মানব সমাজকে এক বিরাট বাঙন ও কঠিন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলিয়া দিতেছে। ইহার দরুন সমাজের মূল বুনিয়াদ চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইতেছে। শোষন-পীড়নের প্রচন্ডতায় মানব সমাজের একাংশ নিঃস্ব ও সর্বস্বা্ত হইয়া পড়িতেছে, আর অপর অংশ-যাহাদের সংখ্যা শতকরা দশ জনেরও কম-হইয়অ যাইতেছে পুঁজিপতি ও কোটিপতি। মানব সমাজকে এই মারাত্মক বিপদের গ্রাসহইতে উদ্ধার করার অন্যতম প্রধান উপায় হইল বিনাসুদে ঋণদানের ব্যবস্থা। বিনাসুদে ঋণদান কার্য বায়তুলমালের মাধ্যমেই সম্পন্টন হইদে পারে। আর মে জন্য ব্যাংকও স্থাপন করা যাইতে পারে। বর্তমান ব্যাংক আধুনিক কালের ধন-বিনিময়ের এক উন্নততর ব্যবস্থা, সন্দেহ নাই। আর সত্য বলিতে কি, ব্যাংকের সাহায্য ভিন্ন অর্থনৈতিক লেন-দেন ও আদান-প্রদান বর্তামানে প্রায় অসম্ভব। উপরন্তু বর্তমান সময় আন্তর্জাতিক ধন-বিনিময় তো ইহা ভিন্ন অন্য কোন প্রকারের সম্পন্নই হইতে পারে না। কাজেই ব্যাংক চালু না রাখিয়া উপায় নাই। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রে বর্তমান নিয়ম-নীতি অনুযায়ী ব্যাংক-ব্যবস্থা কিছুতেই চলিতে দেওয়া যাইতে পারে না। কারণ সুদ হইল বর্তমান ব্যাংক-ব্যবস্থার ভিত্তি, আর এই সুদ ইসলামী ব্যাংকই স্থাপিত করিতে হইবে। কিন্তু সুদ ছাড়াও কি ব্যাংক চলিতে পারে? সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিলে ব্যাংক কে মূলধন দিকে কে? বৃহদায়তন শিল্পোৎপাদন- যাহা ব্যতীত জাতীয় উন্নতির কল্পনাও করা যায় না- কিরূপে সম্ভব হইবে? উপরন্তু, বর্তমান সময়ে ব্যাংক হইতে সমাজ যে ব্যাপক কল্যাণ লাভ করিতেছে, সুদ বন্ধ করিয়া দেওয়া হইলে অনুরূপ সুবিধা ও কল্যাণ লাভের আর কি পন্থা হইতে পরে?…. আধুনিক শিক্ষিত লোকদের মনে সাধারণভাবে এই জিজ্ঞাসা প্রচন্ড হইতে দেখা দিয়াছে। তাহাদের জ্ঞান মতে সুদ ছাড়া ব্যাংক আদৌ চলিতে পারে না, আর ব্যাংক ভিন্ন অর্থনৈতিক লেনদেন বর্তমান যেহেতু অসম্ভব, তাই ইসলামী অর্থনীতিও এ যুগে অচল।
কিন্তু একটু গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করিলেই বুঝিতে পারা যায় যে,সুদ ভিন্ন ব্যাংক চলা এবং তাহা হইতে বর্তমানের ন্যায় সকল কল্যাণ লাভ করা- আর সঙ্গে সঙ্গে সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক সকল ধ্বংসকারিতা হইতে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা- কিছুমাত্র অসম্ভব নয়। এখানে ইসলামী ব্যাংক-ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক ও সহজবোধ্যভাবে আলোচনা করিতে চেষ্টা করিব। কিন্তু তাহার পূর্বে ব্যাংক ব্যবস্থা এবং উহার কাজ ও ও কর্ম-পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ আবশ্যক।
কিন্তু একটু গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করিলেই বুঝিতে পারা যায় যে,সুদ ভিন্ন ব্যাংক চলা এবং তাহা হইতে বর্তমানের ন্যায় সকল কল্যাণ লাভ করা- আর সঙ্গে সঙ্গে সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক সকল ধ্বংসকারিতা হইতে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা- কিছুমাত্র অসম্ভব নয়। এখানে ইসলামী ব্যাংক-ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক ও সহজবোধ্যভাবে আলোচনা করিতে চেষ্টা করিব। কিন্তু তাহার পূর্বে ব্যাংক ব্যবস্থা এবং উহার কাজ ও ও কর্ম-পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ আবশ্যক।