১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
প্রচলিত ব্যবস্থাসমূহ
সৃষ্টিজগত ও প্রকৃতি সম্পর্ক ব্যাখ্যা এবং মানব জীবনের তাৎপর্য সম্বন্ধে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে। এ সকল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ফলশ্রুতি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জীবন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা তার নিজস্ব বিশ্ববীক্ষণ ও অন্তর্নিহিত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিটি ব্যবস্থাই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদা কৌশল গ্রহণ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বে তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে-পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও তাদের যুক্তফল সেকুলারিজম। এ সকল ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করার কারণে তার মূল বক্তব্যেও উল্লেখযোগ্য সংশোধন এসেছে এবং সমস্যা সমাধানের জন্যই পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এসবের বর্তমান অবস্থা তার মূল থেকে দূরে সরে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবস্থার সংশোধনী সত্ত্বেও এসব ব্যবস্থার ফলে ঐ সকল দেশে যে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে এবং আপেক্ষিকভাবে তাদের যে সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে এবং আপেক্ষিকভাবে তাদের যে সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে তারপর এদেশগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্নভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এদের মধ্যে আবার অনেকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা করেছে। তাদের সমস্যা অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ বাড়ছে এবং সাধারণ লোক এসব সংকটজনক পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।
এ গ্রন্থে যে সমস্যাগুলোর উপর আলোকপাত করা হবে, সেগুলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরিকাঠামোর সম্ভাব্য অথচ অকস্মাৎ ঘটনা (contingent event) নয়। বরং সেগুলো ঐ ব্যবস্থাসমূহের নিজস্ব অন্তর্নিহিত কাঠামোগত দুর্বলতার সহজাত ও মোটামুটি অপরিহার্য পরিণতি। এসব দুর্বলতা হচ্ছে তাদের লক্ষ্যের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি, যার উৎস নিহিত রয়েছে তাদের বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশলে। এগুলো সেকুলারিজমের ফল এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে বৈসাদৃশ্যের প্রতিফলন। অতএব ব্রুটের ভাষায় বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর নিজেদের যেখানে ‘মানুষের শুদ্ধ দর্শন সম্পর্কে পুনঃচিন্তা’ প্রয়োজন, সেখানে তাদের পক্ষে এমন কোনো আদর্শ (model) দেয়া সম্ভব নয় যা মুসলিম দেশগুলো অনুকরণ করতে পারে এবং অপেক্ষাকৃত অনুসরণকারী দেশগুলোকে যেখানে পৌঁছেছে তার কাছাকাছি পৌঁছতেও মুসলিম দেশগুলোর কয়েক দশক লেগে যাবে।
এ গ্রন্থে যে সমস্যাগুলোর উপর আলোকপাত করা হবে, সেগুলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরিকাঠামোর সম্ভাব্য অথচ অকস্মাৎ ঘটনা (contingent event) নয়। বরং সেগুলো ঐ ব্যবস্থাসমূহের নিজস্ব অন্তর্নিহিত কাঠামোগত দুর্বলতার সহজাত ও মোটামুটি অপরিহার্য পরিণতি। এসব দুর্বলতা হচ্ছে তাদের লক্ষ্যের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি, যার উৎস নিহিত রয়েছে তাদের বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশলে। এগুলো সেকুলারিজমের ফল এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে বৈসাদৃশ্যের প্রতিফলন। অতএব ব্রুটের ভাষায় বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর নিজেদের যেখানে ‘মানুষের শুদ্ধ দর্শন সম্পর্কে পুনঃচিন্তা’ প্রয়োজন, সেখানে তাদের পক্ষে এমন কোনো আদর্শ (model) দেয়া সম্ভব নয় যা মুসলিম দেশগুলো অনুকরণ করতে পারে এবং অপেক্ষাকৃত অনুসরণকারী দেশগুলোকে যেখানে পৌঁছেছে তার কাছাকাছি পৌঁছতেও মুসলিম দেশগুলোর কয়েক দশক লেগে যাবে।