hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৪

ভূমিকা সংস্কার

মুসলিম দেশগুলোর পল্লী অঞ্চলে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বাস করে, সেখানে স্বল্প সংখ্যক অনুপস্থিত ভূস্বামী বিশাল ভূমিখণ্ড নিয়ন্তণ করে এবং একইভাবে স্বল্প সংখ্যক অর্থলগ্নীকারী মহাজনগোষ্ঠী অর্থের উপর একচেটিয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এ সকল ভূস্বামী ও মহাজনরা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক সেই বিশাল ভূমিখণ্ডের মালিকরা ভূমিহীন বা ক্ষুদ্র এবং কৃষক শ্রেণীর উপর প্রভু সেজে বসে আছে। তারা পুলিশ ও বিচার বিভাগসহ সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠাসমূহের উপর প্রভূত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ও এভাবে কৃষকদেরকে তাদের খেয়ালখুশি ও মর্জির দাসত্ব করতে বাধ্য করে। এর ফলে পল্লীর জনগণ শোষণের শিকার পরিণত হয়, তাদের উদ্যোগ বিনষ্ট হয়, উৎপাদন প্রবৃদ্ধি পঙ্গু হয় এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্য চিরস্থায়ী হয়।

পল্লীর জনগণ দারিদ্র্যের কারণে অধিকতর উৎপাদনমুখী প্রশিক্ষণ, সার ক্রয়, উন্নতমানের বীজ ও যন্ত্রপাতি বীজ ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং তাদের স্বল্প আয়ের পরিপূরক ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগ পরিচালনার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত থাকে। কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর খপ্পরে পড়ে তারা চিরস্থায়ী দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার হয় এবং কর্মবিমুখ, অসৎ ও উদাসীন হয়ে পড়ে। ফলে পল্লীর যুবকরা কাজের সন্ধানে শহরমুখী হয়। সেখানে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সম্মুখীন হয় এবং স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে এবং স্বল্প মজুরি ও অন্যান্য হতাশার কারণে অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ ঘটায়।

মুসলিম দেশগুলোতে পল্লী এলাকার ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে নিষপ্রভ না করে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন অথবা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শক্তিশালীকরণ সম্ভব নয়। এটা হচ্ছে একটি কাজ, তবে ‘মাকাসিক’ হাসিলের লক্ষ্যে যেহেতু অন্য কোনো আর্থ-সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির সুদূরপ্রসারী কার্যকারিতা নেই, সেহেতু দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রয়াসের প্রয়োজন অপরিহার্য। এখন সকল অর্থনৈতিক কর্মসূচির মূলভিত্তি হওয়া উচিত ভূমি ও আর্থিক সংস্কার। মুসলিম দেশগুলোর যে সকল সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত বলে দাবি করে, কিন্তু তাদের কর্মসূচিতে এ সকল সংস্কার কর্মসূচিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে না, তাতে তাদের সে দাবিকে আন্তরিক বলে বিবেচনা করা যায় না।

ভূমি সংস্কারের বিষয়টি ভূমি মালিকানার আকার ও ভূমিস্বত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট। যতদিন পর্যনত না আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচারের আয়োজনের সাথে সংগতি রেখে এ সকল বিষয় নিষ্পত্তি করা হবে, ততদিন পর্যন্ত ‘মাকাসিদ’ হাসিলের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধান করা যাবে না।