hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০১

দশম অধ্যায়ঃ আর্থিক পুনর্গঠন

আধুনিক বিশ্বে অর্থব্যবস্থা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনেতিক অস্ত্র। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ণয় করে তাদের মধ্যে প্রয়োজন মোতাবেক সীমিত সম্পদের বিলিবণ্টনে অর্থব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতায়ও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। অর্থনীতিতে ব্যক্তি মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার ভিতও অর্থব্যবস্থা দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই দেখা যায়, অর্থব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন আনয়ন সম্ভব নয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এর কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও কর্মপদ্ধতির সার্বিকভাবে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যাতে অর্থব্যবস্থার সম্ভাবনাময় সকল শক্তিকে আর্থিক সম্পদের দক্ষ ও সুষম ব্যবহারের কাজে লাগানো যায় এবং অর্থনীতির উন্নতির পথে সকল বাধাবিঘ্নকে অপসারণ করা যায়।

ব্যাংক তথা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি আসে সাধারণ জনগণের ডিপোজিট বা আমানত হতে। পানির ট্যাংক হতে যেমন পানির সরবরাহ হয়, তেমনি জনগণের উৎস হতে ব্যাংকের আমানত সঞ্চিত হয়। শুধু বিত্ত ও ক্ষমতাশালীদের জন্য নয়, সর্বসাধারণের কল্যাণের জন্য ব্যাংক আমানত ব্যবহৃত হওয়া উচিত। পানির সরবরাহের তুলনায় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়ী আমানত অনেক বেশি দুষ্প্রাপ্য। তাই সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সুষ্ঠতার সাথে এর ব্যবহার কাম্য। ব্যাংক আমানত ব্যবহারের সার্বিক লক্ষ্য হওয়া উচিতঃ (ক) সবার্ধিক সংখ্যক শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান; এবং (খ) সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন, আমদানি ও সুষ্ঠ বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ। সুদভিত্তিক প্রচলিত অর্থব্যবস্থা এ দু’লক্ষ্যের কোনোটিই পূরণ করতে পারেনি। ব্যাংক আমানতের ব্যবহার ও ঋণ দান পদ্ধতিতে প্রচলিত ব্যবস্থা চরম বৈষম্য ও অদক্ষতা প্রদর্শন করেছে।