hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৫

ভূমি দখলীস্বত্বের আকার

যদি বৈধ উপায়ে ভূমি মালিকানা অর্জিত হয় এবং ভূমি মালিক নিজে অথবা বর্গাচাষী উপযুক্ত শর্তে চাষাবাদ করে এবং বিশ্বস্ততার সাথে ইসলামের উত্তরাধিকার নীতি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ভূমির দখলীস্বত্ব স্বল্প সংখ্যক পরিবারের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হবে না। যেহেতু শত শত বছর ধরে অবৈধ উপায়ে ভূমির দখলীস্বত্ব অর্জিত হচ্ছে এবং ইসলামের উত্তরাধিকার নীতির প্রতি অবহেলা প্রদর্শিত হচ্ছে, ভূমির দখলীস্বত্ব বৈষম্যমূলকভাবে বণ্টিত হচ্ছে, সেহেতু ফলশ্রুতিতে পল্লীর জনগোষ্ঠী কার্যত দাসত্ব, দারিদ্র্য ও দুর্দশায় নিপতিত হচ্ছে। এরূপ উচ্চমাত্রার বৈষম্যমূলক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভূমির দখলীস্বত্বের সর্বোচ্চ মাত্রা (সিলিং) নির্ধারণ করা এবং উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাভাবিক অবস্থঅয় শরীয়াহ দৃশ্যত বেসরকারি সম্পদের উপর এরূপ সীমা নির্ধারণ করে না। এর কারণ সঠিক পদ্ধতি যদি কার্যকর হয় ও সমতা বিরাজ করে, তাহলে সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন হয় না। অবশ্য বর্তমানে মুসলিম দেশগুলো যে সমস্যা মোকাবিলা করছে, তা হলো বিদ্যমান অত্যধিক মাত্রার সম্পদ ন্দ্রেীভূতকরণের অবস্থা থেকে ইসলামী ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। এভাবে শরীয়াহ ‘মাকাসিদ’ হাসিলের লক্ষ্যে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রকে কর্তৃত্ব প্রদান করে। অবশ্য এরূপ পদক্ষেপসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

বিদ্যমান কেন্দ্রীভূত অবস্থা অব্যাহত রাখা হলে তা দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সম্পদের সুষম বন্টন বাস্তবাস্তবায়িত করার লক্ষ্য স্থায়ীভাবে হতাশাগ্রস্ত হবে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে, পরিবার পিছু সর্বোচ্চ ভূমি মালিকানার একটি যুক্তিসংগত সীমা নির্ধারণ করে ভূস্বামীদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার অবসান ঘটানো। সীমিত আকারের ভূমির লভ্যতার বিপরীতে পল্লী অঞ্চলে বিশাল জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও মাকাসিদ হাসিলের জন্য এরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ইমাম হাসান আল-বান্না ও সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদীসহ বিশিষ্ট পণ্ডিতগণ মালিকানার সুষম ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক স্বার্থরক্ষার জন্য এ ধরনের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন। যেহেতু ভূমির প্রকৃত মালিকদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দানের ব্যবস্থা শরীয়তে রাখা হয়েছে, সেহেতু তাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে জমি নেয়ার প্রয়োজন নেই; বরং এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত মূল্য প্রদান করা উচিত। পুরো মূল্য কুষকের আয় থেকে সরকার কর্তৃক কয়েক বছরের মধ্যে আদায় করা যেতে পারে এবং তার অংশ বিশেষ প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কিছু অংশ পল্লী উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।