hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

অনাস্থা ও আস্থা

প্রথমত, মার্কসীয় বিশ্লেষণ সামাজিক কল্যাণকামীতার সীমারেখার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মানুষের অবমতাকে নির্দেশ করে। এ মার্কসীয় সিদ্ধান্তের আলোকে ধারণা করে নেয়া হয়েছে যে, সমাজতান্ত্রিক ব্যস্থা প্রবর্তনের পর একই ব্যক্তি ভোক্তা, শ্রমিক, সরকারি কর্মচরী বা ব্যবস্থাপক হিসেবে নিজের ব্যক্তিস্বার্থকে ভুলে যেয়ে একমাত্র সমাজের সার্বিক কল্যাণবোধ দ্বারাই উদ্বুদ্ধ হবে। এর অর্থ দাঁড়ায় (ক) শ্রমিক শ্রণী আনুপাতিক হারে বস্তুগত প্রাপ্তির আশা ব্যতিরেকেই স্বার্থহীনভাবে দক্ষতা ও সততার সাথে কাজ করবে; (খ) কলকারখানার ব্যবস্থাপকগণ নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ, বাজার প্রতিযোগিতা, বাজার শক্তি দ্বারা নির্দেশিতভাবে উৎপাদনের উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের ক্রয় বিক্রয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি প্রক্রিয়া দ্বারা চালিত না হয়ে দক্ষতার সাথে কর্ম সম্পাদনে সক্ষম হবে; (গ) সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিপুল কার্যনির্বাহী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার কোনো অন্যায় সুযোগ নেবেনা। তাছাড়া সকল শ্রেণীর মানুষ ভোক্তা হিসেবে তাদের চাহিদা প্রয়োজনের সীমারেখার মধ্যে রেখে সম্পদের উপর অহেতুক চাপ হ্রাস করবে। উপর্যুক্ত পূর্বসিদ্ধান্তসমূহ বস্তুতপক্ষে অবাস্তব ধারণাপ্রসূত। কারণ সেকুলার একটি ব্যবস্থাপনায় সর্বজ্ঞ এক স্রষ্টার সামনে জবাবদিহিতার কোনো ধারণা বা অনুশাসন কাজ করেনা এবং একজন ব্যক্তি মানুষের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভংগি মৃত্যু পরবর্তী কোনো জীবন সম্পর্কিত ধারণা দ্বারা প্রভাবিত নয়। এমতাবস্থায় একজন মানুষ বিত্ত-বৈভবের হাতছানিকে অগ্রাহ্য করে সব সময় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবে- ধরণের ধারণা পোষণ করা অবান্তর আশাবাদ মাত্র। তাই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে কাজ করে যাবে -এ ধারণর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। বিশেষত যখন আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিহীন এ ধরণের জীন ব্যবস্থায় বস্তুগত জীবনের ভোগ বাসনাকে চরিতার্থ করাই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে থাকে। এ কথা বিবেচনায় রখা হয়নি যে, ব্যক্তিগত লাভালাভের সুযোগের অভাবে তাদের উৎপাদন ও কর্মপ্রেরণা বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উপরন্তু জোরজবরদস্তিমূলক উপায়ে তা করতে চেষ্টা করা হলে নির্ধারিত সামাজিক লক্ষ্য অর্জনই ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।