hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৭

করারোপের অধিকার

সকল মতের বেশ কিছু ইসলামী আইনবেত্তাগণ ‘যাকাত’ ছাড়াও করারোপের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রের সম্পদ সংগ্রহের অধিকারকে সমর্থন করেছেন। কারণ যাকাতের মাধ্যমে সংগৃহীত সম্পদ প্রাথমিকভাবে দুঃস্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কিন্তু বরাদ্দ, বণ্টন ও স্থিতিমূলক সকল দায়িত্ব কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য রাষ্ট্রের তহবিল সংগ্রহের অন্য উৎসও প্রয়োজন। আইনবেত্তাগণ রাসূল (ﷺ) এর নিম্নোক্ত উক্তির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের এ অধিকার সমর্থন করেছেন। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “তোমাদের সম্পদে ‘যাকাত’ ছাড়াও আরো বাধ্যবাধকতা রয়েছে”। ইতঃপূর্বে বর্ণিত ইসলামী আইনের ৪ ও ৫ নং নীতিসূত্র দ্বারাও এ অধিকারকে সমর্থন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বৃহত্তর ত্যাগ এড়ানোর লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতর ত্যাগ আরোপ করা যায়’। আবু ইউসুফ জনগণের বহন ক্ষমতা অনুযায়ী শাসক কর্তৃক কর বৃদ্ধি বা হ্রাস করার অধিকার সমর্থন করেছেন। মার্গিনানী বলেন, যদি রাষ্ট্রের সম্পদ পর্যাপ্ত না হয়, তবে জনস্বার্থে কাজ করার জন্য জনগণের নিকট থেকে তহবিল সংগ্রহ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। যদি এর দ্বারা জনগণের কল্যাণ হয়, তবে এর ব্যয়ভার বহন করা জনগণেরই কর্তব্য।

অবশ্য যাকাত ছাড়া করারোপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ সংগ্রহের অধিকার সম্পর্কে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম আইনবেত্তাগণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। হাসান তুরাবীর মতে এ প্রত্যাশিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণ হচ্ছে, ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সময় ধরে মুসলিম দেশসমূহে অধিষ্ঠিত সরকারসমূহের ‘প্রায় সবাই অবৈধ’। এ কারণে আইনবেত্তাগণ আশংকা করেছিলেন যে, করারোপের অনুমতি দেয়া হরে তার অপব্যবহার হতে পারে এবং নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। অবশ্য এ মতকে অলঙ্ঘনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। কারজাভী সঠিকভাবেই মন্তব্য করেছেন, ‘সে সময় রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব ছিল সীমিত’। যেহেতু কালের বিবর্তনে রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে সেহেতু তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে, তাহলে রাষ্ট্র কোন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে?