১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৮
জে ফরেস্টার
Paradox: হেঁয়ালি
মুসলিম দেশগুলো যে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে তা হলো, তাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রত্যেক মানুষের জন্য ‘ফালাহ’ ও ‘হায়াতে তাইয়্যিবা’র ইসলামী দর্শন বাস্তবে রূপদান করা। এর জন্য কেবলমাত্র নৈতিক উন্নয়নেরই প্রয়োজন নয়, সেই সাথে প্রয়োজন ভ্রাতৃত্ব ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার। আর তা অর্জন করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না দুর্লভ সম্পদ দারিদ্র্য দূরীকরণ, চাহিদা পূরণ এবং আয় ও সম্পদের বৈষম্য নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে আসায় ব্যবহৃত হয়। এর পরিবর্তে মুসলিম দেশগুলো অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের মতো বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বহিস্থ ভারসাম্যহীনতার এক কঠিন গোলকধাঁধায় নিপতিত হয়েছে। ফলে তারা লক্ষ্যের নাগালের কাছাকাছি পৌঁছুতে পারছে না। এ গ্রন্থে একথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় তারা যে নীতি অনুসরণ করে আসছে, এ পরিস্থিতি হচ্ছে তারই যৌক্তিক পরিণতি। যদি তা না হতো তাহলে যেসব দেশ এসব পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তারা তাদের জনগণের জন্য উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হতো। কিন্তু তারা তা পারেনি। এটাই হচ্ছে সম্পদের হেঁয়ালি। ‘ধনী দেশ মাত্রই গরীব দেশের চেয়ে সুখি নয়’-রিচার্ড ইস্টারলিন ১৯টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ৩০টি গবেষণার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তাই ডাহরেনডরফ এর যুক্তিসংগত জিজ্ঞাসা-‘চার দশকের শান্তি ও সমৃদ্ধির পরেও ধনী সমাজের এত লোক কেন অসুখি; সেখানে কেন এরকম এত কষ্ট, শুধু অর্থের অভাবে নয় বরং প্রাচুর্যের মধ্যে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও বিশৃঙ্খলা’।
মুসলিম দেশগুলো যে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে তা হলো, তাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রত্যেক মানুষের জন্য ‘ফালাহ’ ও ‘হায়াতে তাইয়্যিবা’র ইসলামী দর্শন বাস্তবে রূপদান করা। এর জন্য কেবলমাত্র নৈতিক উন্নয়নেরই প্রয়োজন নয়, সেই সাথে প্রয়োজন ভ্রাতৃত্ব ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার। আর তা অর্জন করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না দুর্লভ সম্পদ দারিদ্র্য দূরীকরণ, চাহিদা পূরণ এবং আয় ও সম্পদের বৈষম্য নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে আসায় ব্যবহৃত হয়। এর পরিবর্তে মুসলিম দেশগুলো অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের মতো বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বহিস্থ ভারসাম্যহীনতার এক কঠিন গোলকধাঁধায় নিপতিত হয়েছে। ফলে তারা লক্ষ্যের নাগালের কাছাকাছি পৌঁছুতে পারছে না। এ গ্রন্থে একথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় তারা যে নীতি অনুসরণ করে আসছে, এ পরিস্থিতি হচ্ছে তারই যৌক্তিক পরিণতি। যদি তা না হতো তাহলে যেসব দেশ এসব পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তারা তাদের জনগণের জন্য উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম হতো। কিন্তু তারা তা পারেনি। এটাই হচ্ছে সম্পদের হেঁয়ালি। ‘ধনী দেশ মাত্রই গরীব দেশের চেয়ে সুখি নয়’-রিচার্ড ইস্টারলিন ১৯টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ৩০টি গবেষণার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তাই ডাহরেনডরফ এর যুক্তিসংগত জিজ্ঞাসা-‘চার দশকের শান্তি ও সমৃদ্ধির পরেও ধনী সমাজের এত লোক কেন অসুখি; সেখানে কেন এরকম এত কষ্ট, শুধু অর্থের অভাবে নয় বরং প্রাচুর্যের মধ্যে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও বিশৃঙ্খলা’।