১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৫
অপ্রত্যাশিত সমস্যাবলী
উন্নয়ন অর্থনীতির পণ্ডিতগণ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যে সরকারের বৃহৎ ভূমিকার উপর জোর দিলেও এসব দেশের সম্পদ যেভাবে অপচয় হয়ে যাচ্ছে তা রোধের জন্যে কার্যকর কৌশল উদ্ভাবনের দিকে তেমন কোনো নজর দেয়নি। পশ্চিমা ভোগবাদী সংস্কৃতির একচেটিয়া প্রচারণা চলছে। এমনকি অর্থনীতিবিদ রসটো অর্থনৈতিক উন্নয়নের পঞ্চম ধাপে যে বিলাসী জীবন যাপনের উল্লেখ করেছেন, তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই সে জীবনযাত্রার দিকে তাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে বিলাস দ্রব্যের আমাদানী বৃদ্ধি পেয়ে বাণিজ্য ঘাটতিকে প্রকট করে তুলেছে। বিলাস দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ সঞ্চয় প্রবণতাকে হ্রাস করেছে। অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তার তুলনায় অপ্রতুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাঝে দূরত্ব বেড়ে চলছে। অপ্রয়োজনীয় ও বিলাস দ্রব্যের খাতে সম্পদের অপচয়কে রুখতে হলে প্রয়োজন ছিল মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার ধারা গড়ে তোলা। পশ্চিমা অর্থনৈতিক উন্নয়ন পদ্ধতিতে এ ধরণের কোনো সামাজিক মূল্যবোধের দর্শন নেই। তাদের উন্নয়নের জন্যে কর মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে ভোগ হ্রাসের জন্যে ব্যবহৃত একমাত্র অস্ত্র।
করের ভিত্তি সংকীর্ণ হওয়ায় এবং অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ন কর প্রশাসনের কারণে উন্নয়নশীল দেশে বিপুল হারে কর-রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ নেই। বাটে ঘাটতি তাই তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ঘাটতি পুরণের জন্যে কীনসীয় অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধির কথা বলো হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবক্তারা একথা ভুলে যান যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহ কাঠামোগত দুর্বলতা ও সরবরাহ জটিলতার কারণে উন্নত দেশের তুলনায় এসব দেশে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি ও আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি অধিকহারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক সাহায্যের প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এর ক্ষুদ্রাংশ আসে অনুদান হিসেবে, বৃহদাংশ আসে ঋণ হিসেবে যা সুদে আসলে চক্রবৃদ্ধি হারে পরিশোধ করতে হয়। টাকা ছাপানো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ- দুই ক্রাচের উপর ভর করে তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহকে চলতে হয়। একবার এ দুটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে আর ফেরার পথ থাকেনা। কেননা উচ্চহারে কর বৃদ্ধি বা উল্লেখযোগ্য সরকারি ব্যয় হ্রাস কোনোটাই রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় নয়।
করের ভিত্তি সংকীর্ণ হওয়ায় এবং অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ন কর প্রশাসনের কারণে উন্নয়নশীল দেশে বিপুল হারে কর-রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ নেই। বাটে ঘাটতি তাই তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ঘাটতি পুরণের জন্যে কীনসীয় অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধির কথা বলো হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবক্তারা একথা ভুলে যান যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহ কাঠামোগত দুর্বলতা ও সরবরাহ জটিলতার কারণে উন্নত দেশের তুলনায় এসব দেশে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি ও আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি অধিকহারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক সাহায্যের প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এর ক্ষুদ্রাংশ আসে অনুদান হিসেবে, বৃহদাংশ আসে ঋণ হিসেবে যা সুদে আসলে চক্রবৃদ্ধি হারে পরিশোধ করতে হয়। টাকা ছাপানো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ- দুই ক্রাচের উপর ভর করে তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহকে চলতে হয়। একবার এ দুটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে আর ফেরার পথ থাকেনা। কেননা উচ্চহারে কর বৃদ্ধি বা উল্লেখযোগ্য সরকারি ব্যয় হ্রাস কোনোটাই রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় নয়।