hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৮

উলামাদের ভূমিকা

একদিকে যেমন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশিত নৈতিক উচ্চমানের নেতৃত্ব (কুদওয়াহ হাসানাহ) প্রদানে ব্যথ হয়েছে, অপরদিকে রানেতিক কাঠামোয় প্রভুত প্রভাবশালী ধর্মবেত্তা উলামাবৃন্দ ও পেশাজীবী শ্রেনী ঐ কাঙিক্ষত নৈতিক নেতৃত্বের পতাকা বহনে র্ব্যথ হয়েছে। আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ঝান্ডা উত্তোলন এবং জনগণের বত্তুগত ও নৈতিক উন্নয়নে নিজেদের ক্ষমতা ও প্রভাব বিসত্মারের পরিবর্তে তাদের অধিকাংশই চাটুকারিতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত রয়েছে। তারা একথা ভুলে গেছে যে, সমাজের ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালীদের উপর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কাঙিক্ষত পরিবর্তন আনয়নের জন্য ইসলাম এক দায়িত্বপূর্ণ গুরুভার অর্পণ করেছে। দুর্নীতি ও বেইনসাফির যে প্রচলিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে, বৈষয়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য এ শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গের তা সমর্থন করে যাওয়া বা সে ব্যবস্থার অংশে পরিচালিত হওয়াকে শরীয়াহ সামান্যতম অনুমোদন করে না। মহানবী (ﷺ) এ ধরনের অবাধ আচরণকে কুফরীর সামর্থক বলে ঘোষণা করেছেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশে নিঃস্বার্থ ও বিবেকমানদের জন্যও উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান রাখার সুযোগ নেই, বিশেষত যখন নিপীড়নমূলক সরকারসমূহ সংস্কারের ভয়ে শঙ্কিত এবং সংস্কারবাদীদের নির্যাতনের যূপকাষ্ঠে বলি দিতে যৎপরোনাসিত্ম বদ্ধপরিকর। রসূল পাক (ﷺ) তাই ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন,

“আমার উম্মত সম্পর্কে আমি তিনটি বিষয়ে শঙ্কিত- উলামাদের বিচ্যুতি ও অমনোযোগিতা, স্বেচ্ছাচারী শাসন এবং জাগতিক ভোগলিপ্সা”।

অবশ্য এ অবস্থা দীর্ঘকাল চলতে পারে না। গণবিড়্গোভ ধূমায়িত হয়ে উঠছে এবং মানুষ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ। মুসলিম বিশ্বের চলমান গণজাগরণ জনসাধারণের মধ্যে এ উপলব্ধি ও বিশ্বাসকে ক্রমাগত দৃঢ়তর করেছে যে, ইসলামের পুনর্জাগরণের মধ্যেই তাদের মুক্তি নিহিত। ফলে শাসক শ্রেণী ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক শেষ পর্যনত্ম ইসলামী ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।