১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
পূর্ণ প্রতিযোগিতা
চতুর্থত, এটাও স্বাভাবিক হিসেবে ধরে করে নেয়া হয়েছে যে, পূর্ণ প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাজার অর্থনীতি চালিত হবে। পূর্ণ প্রতিযোগিতা বলতে বোঝায় অসংখ্য ক্রেতার সাথে অসংখ্য বিক্রেতাও থাকবে, উৎপাদন করার জন্য কোনো আগ্রহী উৎপাদকের বাজারে প্রবেশে কোনো প্রকার বাধা থাকবে না। বর্তমানে ও ভবিষ্যতের বাজার তথ্যের উপর পরিপূর্ণ ধারণাও সবার জানা থাকবে। কিন্তু এসব শর্তের উপস্থিতি কোথাও দেখা যায় না। পরিপূর্ণভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাজার একটি অবাস্তব স্বপ্ন। বড় বড় ব্যবসা ও উৎপাদক প্রতষ্ঠান এবং সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণকে যেখানে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উৎসাহিত ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে, সে অবস্থায় পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভবিষ্যতে প্রবর্তনের আশা করাও দুরাশা মাত্র। অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ও বাধাবিঘ্ন বাজার শক্তিসমূহের সুচারুরূপে পরিচালনার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদনে সামাজিক সম্পদসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে যে প্রকৃত খরচ পড়ে তা দ্রব্য সামগ্রীর বাজার দরের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না। কোথাও দেখা যায় দ্রব্যমূল্য উক্ত দ্রব্য তেরির সামাজিক ব্যয়ের চেয়ে বেশি, আবার কোথাও দেখা যায় দ্রব্যমূল্য উক্ত দ্রব্য তৈরির সামাজিক ব্যয়ের চেয়ে কম। এরকম অবস্থায় সমাজের সীমিত সম্পদের যে সুদক্ষ ও সুচারুরূপে ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদনে চারটি উপকরণ ভূমি, পুঁজি, শ্রম ও সংগঠনের যে আনুপাতিক অবদান রয়েছে তার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। উৎপাদন উপকরণগুলো উৎপাদনে তাদের অবদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিময় মূল্য পায় না অর্থাৎ কেউ পায় বেশি আর কেউ পায় কম। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় মানুষের কর্মপ্রচেষ্টা ও অনুপ্রেরণার একমাত্র উৎস যেখানে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ এবং যতবেশি তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই মুনাফা অর্জনে যখন সবাই ব্যস্ত, তখন তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সামাজিক লাভ-ক্ষতি কী দাঁড়াবে তা কেউ হিসেবের মধ্যেই আনে না। অথচ সমাজকল্যাণ ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে উৎপাদন প্রচেষ্টা থেকে উদ্ভূত এই সামাজিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বাজার অর্থনীতিতে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যনির্ধারণী ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘ সময়ের কোনো সীমারেখা এসে ব্যক্তিস্বার্থ ও সমাজস্বার্থের ফারাক ঘুচিয়ে উভয়ের সমন্বয় ঘটাবে- এই আশাবাদ এতই সুদূর পরাহত যে, একে এক প্রকার অর্থহীন আশাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা ছাড়া আর গত্যন্তর নেই।