১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬৪
ভোক্তার চাহিদা পরিবর্তন: দ্বৈত ছাঁকনির ব্যবস্থা
সঞ্চয় ও মূলধন সৃষ্টির জন্য ভোগ সংকুচিত করার উদ্দেশ্য দ্বৈত সমস্যার সৃষ্টি করে। ইসলামী সৌভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সাম্যের দ্ব্যর্থহীন দাবি হচ্ছে, সামগ্রিক ভোগ এমনভাবে কমাতে হবে, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বরং তা যেন পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। সীমিত সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে যদি সকলের চাহিদা পূরণ করার সাথে যুগপৎভাবে মূলধন গঠন করতে হয়, তবে সমাজ যতটুকু বহন করতে পারে কেবল ততটুকু ভোগ সীমিত করা সমীচীন। বিশেষ করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রচলিত জীবনযাপন পদ্ধতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার ন্যায় ভোগকে ব্যক্তি জীবনের একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত হওয়াকে অনুমোদন করা যাবে না।
কয়েক দশক ধরে মুসলিম দেশসমূহ নিজেদের ভোগ পদ্ধতিতে পাশ্চাত্যের ভোগসংস্কৃতির হুবহু অনুকরণ করে চলেছে, যেখানে বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও ভোগর পৌনঃপুনিকতা দিয়ে কোনো ব্যক্তির গুরুত্ব পরিমাপ করা হয়্ ফলে যে ধরনের বিলাসবহুল জীবনযাপন পদ্ধতি দরিদ্র মুসলিম দেশে মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেরূপ বিলাসী জীবনযাপন অনেক শিলেপান্নত ধনী দেশেও সম্ভব নয়। এ ধরনের জীবনযাত্রার পদ্ধতি এবং জন্ম থেকে বিবাহ ও মৃত্যু পর্যন্ত অগণিত অনৈসলামিক প্রথা ও অনুষ্ঠানাদি পূর্বোক্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে অবাস্তব ভোগ প্রবণতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা তাদের মূল্যবোধ এবং সামর্থ্যের নিরিখে কাম্য নয়। এই প্রতিযোগিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিগণ অবাস্তব সামর্থ্যের বাইরে জীবনযাপনের ফলে আয়ের অতিরিক্ত ব্যয়ের ঘাটতি পূরণ করার জন্য দুর্নীতি ও অনৈতিক পন্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এতে সামগ্রিক ভোগ বৃদ্ধি পায়, সঞ্চয় পিছিয়ে পড়ে ও অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের ভিত্তিতে মূলধন গঠন অপর্যাপ্ত থেকে যায়। অধিকন্তু প্রায় সকল বিলাস দ্রব্য ও সেবা বিদেশ থেকে আমদানি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ প্রচণ্ড বৃদ্ধি পায়। সম্পদের এ ঘাটতি বৈদেশিক ঋণ দ্বারা পূরণ করতে হয়, যা থেকে উচ্চহারে ঋণভার সৃষ্টি হয় এবং এতে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ আরো সীমিত হয়ে পড়ে।
কয়েক দশক ধরে মুসলিম দেশসমূহ নিজেদের ভোগ পদ্ধতিতে পাশ্চাত্যের ভোগসংস্কৃতির হুবহু অনুকরণ করে চলেছে, যেখানে বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও ভোগর পৌনঃপুনিকতা দিয়ে কোনো ব্যক্তির গুরুত্ব পরিমাপ করা হয়্ ফলে যে ধরনের বিলাসবহুল জীবনযাপন পদ্ধতি দরিদ্র মুসলিম দেশে মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেরূপ বিলাসী জীবনযাপন অনেক শিলেপান্নত ধনী দেশেও সম্ভব নয়। এ ধরনের জীবনযাত্রার পদ্ধতি এবং জন্ম থেকে বিবাহ ও মৃত্যু পর্যন্ত অগণিত অনৈসলামিক প্রথা ও অনুষ্ঠানাদি পূর্বোক্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে অবাস্তব ভোগ প্রবণতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা তাদের মূল্যবোধ এবং সামর্থ্যের নিরিখে কাম্য নয়। এই প্রতিযোগিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিগণ অবাস্তব সামর্থ্যের বাইরে জীবনযাপনের ফলে আয়ের অতিরিক্ত ব্যয়ের ঘাটতি পূরণ করার জন্য দুর্নীতি ও অনৈতিক পন্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এতে সামগ্রিক ভোগ বৃদ্ধি পায়, সঞ্চয় পিছিয়ে পড়ে ও অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়ের ভিত্তিতে মূলধন গঠন অপর্যাপ্ত থেকে যায়। অধিকন্তু প্রায় সকল বিলাস দ্রব্য ও সেবা বিদেশ থেকে আমদানি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ প্রচণ্ড বৃদ্ধি পায়। সম্পদের এ ঘাটতি বৈদেশিক ঋণ দ্বারা পূরণ করতে হয়, যা থেকে উচ্চহারে ঋণভার সৃষ্টি হয় এবং এতে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ আরো সীমিত হয়ে পড়ে।