১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
দক্ষতা ও ন্যায়পরতা
এমন কেন হলো যে, বিশ্বের কোনো দেশই মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির বস্তুগত উপাদানগুলো পর্যন্ত বাস্তবে উপলদ্ধি করতে সক্ষম হয়নি? এ ব্যর্থতার জন্য কি সম্পদের অপ্রতুলতাকে দায়ী করা যায়? অধিকাংশ অর্থনীতিবিদই নেতিবাচক জবাব দিতে চাইবেন, কারণ প্রকৃত বিচারে তারা সম্পদকে নিরঙ্কুশভাবে দুষ্প্রাপ্য বলে বিবেচনা করেন না। কেবল সম্পদের উপর দাবির প্রেক্ষিতেই আপেক্ষিক দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে। অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ স্বীকার করেন যে, সম্পদের আপেক্ষিক দুষ্প্রাপ্যতা সত্ত্বেও যদি লভ্য সম্পদ ’দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’র সাথে ব্যবহার করা যায় তাহলে বস্তুগত লক্ষ্য অর্জন এবং অস্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যহীনতা দূর করা সম্ভব। এটা হচ্ছে মানবতার প্রতি সম্ভাব্য সেই চ্যালেঞ্জ যাতে লভ্য সম্পদ ‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’র সাথে ব্যবহার করার ফলশ্রুতিতে বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত বস্তুগত সুখ-সমৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে এবং অস্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যহীনতা দূর করবে। ‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’ এবং তার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বহু জটিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এসে যায়।
‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’ কে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। এ আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা হবে সেটি, যা বিশ্বজনীন স্বীকৃত বস্তুগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বলা যেতে পারে যে, একটি অর্থনীতি কাম্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যদি লভ্য মোট কার্যক্রম জনশক্তি ও বস্তুগত সম্পদকে কর্মসংস্থানে এমনভাবে নিয়োজিত করা যায়, যাতে যুক্তিসংগত পর্যায়ের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংরক্ষিত (reserved) হারে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিসহ সর্বাধিক সম্ভাব্য পরিমাণ চাহিদা পূরণকারী পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয়। সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘায়িত অথবা পৃথিবীতে মানুষের জীবন বিপন্ন করে এরূপ পরিবেশ নষ্ট না করে সমাজের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য সুফল অর্জনে ব্যর্থ হলে সে ক্ষেত্রে দক্ষতার প্রশ্ন এসে যায়।
একটি অর্থনীতি সমতা (equality) অর্জন করতে পারে, যদি তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা এমনভাবে বণ্টন করা হয়, যাতে সকল মানুষের চাহিদা পর্যাপ্তভাবে পূরণ করা যায় এবং কাজের প্রেরণা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন করা যায়। যেহেতু দক্ষতা ও সমতার বিষয়টি বাস্তবে রূপদান করার কাজটি মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাজ, সেহেতু সবচেয়ে যুক্তিসংগত পন্থা হবে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা যা ঐ দুটো জিনিসকেই কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’ কে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। এ আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা হবে সেটি, যা বিশ্বজনীন স্বীকৃত বস্তুগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বলা যেতে পারে যে, একটি অর্থনীতি কাম্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যদি লভ্য মোট কার্যক্রম জনশক্তি ও বস্তুগত সম্পদকে কর্মসংস্থানে এমনভাবে নিয়োজিত করা যায়, যাতে যুক্তিসংগত পর্যায়ের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংরক্ষিত (reserved) হারে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিসহ সর্বাধিক সম্ভাব্য পরিমাণ চাহিদা পূরণকারী পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয়। সামষ্টিক অর্থনীতিতে দীর্ঘায়িত অথবা পৃথিবীতে মানুষের জীবন বিপন্ন করে এরূপ পরিবেশ নষ্ট না করে সমাজের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য সুফল অর্জনে ব্যর্থ হলে সে ক্ষেত্রে দক্ষতার প্রশ্ন এসে যায়।
একটি অর্থনীতি সমতা (equality) অর্জন করতে পারে, যদি তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা এমনভাবে বণ্টন করা হয়, যাতে সকল মানুষের চাহিদা পর্যাপ্তভাবে পূরণ করা যায় এবং কাজের প্রেরণা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন করা যায়। যেহেতু দক্ষতা ও সমতার বিষয়টি বাস্তবে রূপদান করার কাজটি মূলত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাজ, সেহেতু সবচেয়ে যুক্তিসংগত পন্থা হবে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা যা ঐ দুটো জিনিসকেই কার্যকর করতে সাহায্য করবে।