hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯৪

প্রতিকূল অবস্থা দূরীকরণ

সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকূলতা হলো একটি কার্যকর অবকাঠামের বাহ্যিক অর্থনীতির (External Economies) অনুপস্থিতি, যার মধ্যে সেচ ও পানি নিষ্কাশন, সমপ্রসারণ সার্ভিস, সড়ক, বিদ্যালয়, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো থাকার কথা। এর কারণ হলো সরকারি বাজেট ব্যয় বরাদ্দে কৃষি খাতের প্রতি অবহেলা। ধনী শিল্পোন্নত দেশসমূহে যেখানে কৃষকগণকে আমদানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে উৎসাহ দেয়া হয়ে থাকে, সেখানে উন্নয়নশলি দেশসমূহে কৃষিখাতের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। তারা বৈদেশিক মূল্য বাড়িয়ে এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্য প্রশাসনিক পন্থায় নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি ঘাটতি বাজেটজনিত মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব হ্রাস করতে চেষ্টা করে। এ পদ্ধতির ফলে বাণিজ্যের ভারসাম্য কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে যায়, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়, আমদানির উপর নির্ভরশলিতা বাড়ে, রপ্তানি সংকুচিত হয় এবং গ্রামীণ আয়-উপার্জনে মন্দা দেখা দেয়। অন্যায্য ভূমি মালিকানা ব্যবস্থার সাথে গ্রামীণ আয়-উপার্জনে মন্দাভাবের ফলে বর্গাচাষীর হাতে এমন কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না, যা দ্বারা তারা কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারে (যেমন- উন্নত বীজ ও যন্ত্রপাতি, সার কীটনাশক)। একই অবস্থা ঘটে ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। এর ফলে বেকারত্ব ও আংশিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এভাবে দারিদ্র্য, বিনিয়োগ স্বল্পতা, কম উৎপাদন ও বেকারত্বের এই দুষ্ট চক্রের আবির্ভাব ঘটে। ফলাফল হিসেবে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পায়, শহরে শ্রমের মজুরি হ্রাস পায় এবং বস্তির সৃষ্টি হয় যেখানে জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর। সুতরাং, proverty and Hunger গ্রন্থের লেখক সঠিকভাবেই বলেছেন, ‘গ্রামীণ এলাকায় কৃষি উৎপাদনের কৌশলের চেয়ে আয় বণ্টনই হলো আসল সমস্যা’।