hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮১

অব্যাহত বৈষম্য

তিক্ত সত্য এই যে, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও দৃশ্যত প্রগতিশীল করব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সম্পদ বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে গরীব আরো গরীব এবং ধনী আরো ধনী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৮ সালে দারিদ্র্য রেখার নিচে জনসংখ্যা ছিল ১১.৪%, যা ১৯৮৬ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৩.৬%। ধনী দরিদ্রের মাঝে আয়ের ব্যবধানও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮০ সালের আয় সিঁড়ির নিম্নধাপের এক পঞ্চমাংশ পরিবার জাতীয় আয়ের ৫.৩% লাভ করত।

অপরদিকে উপরের সিঁড়ির এক পঞ্চমাংশ পরিবার পেত জাতীয় আয়ের ৩৮.২%। ১৯৮৬ সালে মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে নিচের এক পঞ্চমাংশ জনগণের হিস্যা ৪.৬% এ নেমে আসে। অপর দিকে উপরের এক পঞ্চমাংশ জনগণের হিস্যা ৪৩.৭% এ বৃদ্ধি পায়। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে ডেমোক্রেট দলের সদস্যগণ মন্তব্য করেছেন যে, গত দুই দশকে সম্পদের কেন্দ্রীভূতকরণ আরো বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬২ সালে ০.৫% জনগণ সম্পদের ২৫.৬% নিয়ন্ত্রণ করত। ১৯৮৩ সালে তারা সম্পদের ৩৫.১% নিয়ন্ত্রণ করে। ৯০% মার্কিন জনগণের গৃহস্থালী সম্পদের হিস্যা গত ২১ বছরে ৩৪.৯% হতে ২৮% এ হ্রাস পেয়েছে। যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির সভাপতি কংগ্রেস সদস্য ডেভিড আর ওবে রিপোর্টের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, ধনী অধিকতর ধনী হয়েছে। তিনি আরো মন্তব্য করেন, যদি সম্পদ ক্ষমতা হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হয় ১৯৬০ এর দশকের চেয়ে অধিকাংশ মার্কিন জনগণ বর্তমানে কম ক্ষমতার অধিকারী। অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশের অবস্থার তেমন কোনো হেরফের নেই। সুইডেন যাকে দৃশ্যত আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র বিবেচনা করা হয়, সেখানে উপরের ১০% পরিবারের জাতীয় আয়ে অংশ ছিল ১৯৭২ সালে ২১.৩%। ১৯৮১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৮.১% এ পরিণত হয়েছে। নিচের দিকের এক-পঞ্চমাংশ পরিবারের হিস্যা জাতীয় আয়েল ৬.৬% হতে ৭.৪% এ বৃদ্ধি পেলেও এ বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।