১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৯
দু’টি কারণ
এ হেঁয়ালির দু’টি প্রাথমিক কারণ আছে। প্রথমত, সুখ বস্তুগত উন্নতি ও শারীরিক পরিতৃপ্তি থেকে আসে বলে পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্রের সেকুলার মতাদর্শগুলো খুব জোর দিয়ে যা বলেছে তা সঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, সম্পদের বস্তুগত কল্যাণও অর্জন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ লভ্য সম্পদ দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে ব্যবহৃত না হচ্ছে।
আজকাল একথা সাধারণভাবে স্বীকৃত যে, সুখ হচ্ছে মনের প্রশান্তির প্রতিফলন (কোরআনের ভাষায় আল নাফ্স আল-মুত’মা ইন্নাহ: ৮৯:২৭) যা কেবল তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন কোনো মানুষের জীবন তার আত্মিক প্রকৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়। এটা ঘটে যখন তার ব্যক্তিত্বের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত চাহিদা পর্যাপ্তভাবে পরিতৃপ্ত হয়। যেহেতু বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সত্তা পৃথক নয়, ঈপ্সিত পরিতৃপ্তি তখনই সম্ভব, যখন সকল বস্তুগত লাভ-লোকসানের পিছনে আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য ক্রিয়াশীল থাকে।
সম্পদের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে সমাজের সকল সদস্যের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সম্পদের অপব্যবহার নির্মূল বা কমিয়ে ফেলা যায় এবং অন্যায়ের উৎস সকল আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংশোধন হয়। তবে এটাও সম্ভব হবে না, যদি প্রত্যেক মানুষ সম্পদ ব্যবহারে সামজিক অগ্রাধিকারকে অবজ্ঞা করে এবং কেবল তাদের আর্থিক সংগতি ও ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধাকে বিবেচনায় আনে। অতএব প্রত্যেককেই উদ্বুদ্ধ করতে হবে যাতে সম্পদ ব্যবহারে সামাজিক অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয় এবং সে অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে সে সচেতন থাকে। তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে যাতে নিজের কল্যাণ্যের চেষ্টা চালানোর সময় অন্যদের ‘কল্যাণের’ ব্যাপারেও চিন্তুা করে। এ ধরনের জবাবদিহিদা ছাড়া সহায়ক আর কী হতে পারে। এমন ধরনের শৃঙ্খলার একটি কাঠামোর আওতায় বস্তুগত সম্পদ তাদের নিজেদের কোনো মূল্য বহন করে না। হাদের মূল্য ততক্ষণই থাকে, যতক্ষণ তারা মূল্যবোধ ব্যবস্থার বর্ণনা অনুসারে সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণ করে। এ ধরনের মনোভাব দুর্লভ সম্পদ ব্যবহারে একটি স্বয়ংক্রিয় বাধা সৃষ্টি করে, যে বাধা অপ্রয়োজনীয় দাবি সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনে এবং দুষ্প্রাপ্যতা সত্ত্বেও সকলের প্রয়োজন পূরণ সম্ভব করে তোলে। আর এভাবেই মানব ভ্রাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। এতে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ হ্রাস পায়।
নৈতিক আবেদনের অনুপস্থিতিতে বস্তুগত সম্পদ অর্জন ও চাহিদা পূরণই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে থাকে। পরিতৃপ্তি তখন আর চাহিদা পূরণের বিষয় থাকে না। বরং তার চেয়ে বেশি অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা, জাঁকজমক ও সকলকে ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আদর্শ আচরণ ধারায় পরিণত হয়। তবে দৃষ্টি আকর্ষক ভোগ কেবল অস্থায়ী পরিতৃপ্তি দেয়। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া ফ্যাশন ও মডেল একটির পরিবর্তে আরেকটি শূন্যতার অবতারণা করে। জোর কেনাকাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকেই সৎ বা অসৎ পথে সম্পদ অর্জনে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের প্রতি দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা সময়ের উপরে চাপ সহ্য করার ক্ষমতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ফলে মনের শান্তি ব্যাহত হয়। উৎপাদনের সমগ্র যন্ত্র ঐ বেশি পরিমাণ চাহিদার পরিতৃট্তি ঘটাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিচালিত হয়। যদি ব্যাংকব্যবস্থা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে, তবে মানুষ তার আয়ের চেয়েও বেশি ব্যয় করতে সক্ষম হয়। অতএব সম্পদের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, ভারসাম্যহীনতা বাড়ে এবং এ সংগ্রামে যারা সমানতালে চলতে পারে না তারা পিছিয়ে পড়ে। দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য উর্ধ্বমুখী হয়। প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য ক্রমাগত ব্যাহত হয়। অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পায় এবং বিশৃঙ্খলা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।
আজকাল একথা সাধারণভাবে স্বীকৃত যে, সুখ হচ্ছে মনের প্রশান্তির প্রতিফলন (কোরআনের ভাষায় আল নাফ্স আল-মুত’মা ইন্নাহ: ৮৯:২৭) যা কেবল তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন কোনো মানুষের জীবন তার আত্মিক প্রকৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়। এটা ঘটে যখন তার ব্যক্তিত্বের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত চাহিদা পর্যাপ্তভাবে পরিতৃপ্ত হয়। যেহেতু বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সত্তা পৃথক নয়, ঈপ্সিত পরিতৃপ্তি তখনই সম্ভব, যখন সকল বস্তুগত লাভ-লোকসানের পিছনে আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য ক্রিয়াশীল থাকে।
সম্পদের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে সমাজের সকল সদস্যের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সম্পদের অপব্যবহার নির্মূল বা কমিয়ে ফেলা যায় এবং অন্যায়ের উৎস সকল আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংশোধন হয়। তবে এটাও সম্ভব হবে না, যদি প্রত্যেক মানুষ সম্পদ ব্যবহারে সামজিক অগ্রাধিকারকে অবজ্ঞা করে এবং কেবল তাদের আর্থিক সংগতি ও ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধাকে বিবেচনায় আনে। অতএব প্রত্যেককেই উদ্বুদ্ধ করতে হবে যাতে সম্পদ ব্যবহারে সামাজিক অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয় এবং সে অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে সে সচেতন থাকে। তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে যাতে নিজের কল্যাণ্যের চেষ্টা চালানোর সময় অন্যদের ‘কল্যাণের’ ব্যাপারেও চিন্তুা করে। এ ধরনের জবাবদিহিদা ছাড়া সহায়ক আর কী হতে পারে। এমন ধরনের শৃঙ্খলার একটি কাঠামোর আওতায় বস্তুগত সম্পদ তাদের নিজেদের কোনো মূল্য বহন করে না। হাদের মূল্য ততক্ষণই থাকে, যতক্ষণ তারা মূল্যবোধ ব্যবস্থার বর্ণনা অনুসারে সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণ করে। এ ধরনের মনোভাব দুর্লভ সম্পদ ব্যবহারে একটি স্বয়ংক্রিয় বাধা সৃষ্টি করে, যে বাধা অপ্রয়োজনীয় দাবি সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনে এবং দুষ্প্রাপ্যতা সত্ত্বেও সকলের প্রয়োজন পূরণ সম্ভব করে তোলে। আর এভাবেই মানব ভ্রাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। এতে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ হ্রাস পায়।
নৈতিক আবেদনের অনুপস্থিতিতে বস্তুগত সম্পদ অর্জন ও চাহিদা পূরণই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে থাকে। পরিতৃপ্তি তখন আর চাহিদা পূরণের বিষয় থাকে না। বরং তার চেয়ে বেশি অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা, জাঁকজমক ও সকলকে ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আদর্শ আচরণ ধারায় পরিণত হয়। তবে দৃষ্টি আকর্ষক ভোগ কেবল অস্থায়ী পরিতৃপ্তি দেয়। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া ফ্যাশন ও মডেল একটির পরিবর্তে আরেকটি শূন্যতার অবতারণা করে। জোর কেনাকাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকেই সৎ বা অসৎ পথে সম্পদ অর্জনে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের প্রতি দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা সময়ের উপরে চাপ সহ্য করার ক্ষমতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ফলে মনের শান্তি ব্যাহত হয়। উৎপাদনের সমগ্র যন্ত্র ঐ বেশি পরিমাণ চাহিদার পরিতৃট্তি ঘটাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিচালিত হয়। যদি ব্যাংকব্যবস্থা সহযোগীর ভূমিকা পালন করে, তবে মানুষ তার আয়ের চেয়েও বেশি ব্যয় করতে সক্ষম হয়। অতএব সম্পদের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, ভারসাম্যহীনতা বাড়ে এবং এ সংগ্রামে যারা সমানতালে চলতে পারে না তারা পিছিয়ে পড়ে। দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য উর্ধ্বমুখী হয়। প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য ক্রমাগত ব্যাহত হয়। অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পায় এবং বিশৃঙ্খলা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।