১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭
প্রথম অধ্যায়ঃ পুঁজিবাদ সীমাবদ্ধতা
এক দিকে প্রাণহীন বিশাল প্রাচুর্য, অন্যদিকে দারিদ্র্য
প্রকৃতপক্ষে গভীর বিশৃঙ্খলারই প্রকাশ ও চিহ্ন।
-টিবর সিটোকভস্কি
ক্লাসিক্যাল ‘লেইজে- ফেয়ার’ ধারণা সম্বলিত পুঁজিবাদের অস্তিত্ব বর্তমান পৃথিবীর কোথাও নেই। শতাব্দীকাল ধরে এর পরিমার্জন ও পরিবর্তন ঘটেছে। পুঁজিবাদের ত্রুটিগুলো, বিশেষত অর্থনীতির উপর এর বিরূপ প্রভাব দূর করার জন্য বিভিন্ন সরকার সংশোধনমূলক বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে পুঁজিবাদ তার আকর্ষণীয় আবেদন অব্যাহত রেখেছে। সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতা, অর্থনীতিতে সরকারের বিশাল ভূমিকার নেতিবাচক ফলাফল এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রভৃতির কারণে পুঁজিবাদের আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। উদারনীতিবাদ বা স্বল্পতম সরকারি হস্তক্ষেপ সম্বলিত ক্লসিক্যাল মডেলে প্রত্যাবর্তনের প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের আহবান বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু পাশ্চাত্যের শিল্পোন্নত জগতেই নয়, বরং তৃতীয় বিশ্বের বৃহদাংশে ও প্রাক্তন কমিউনিস্ট দেশসমূহে এ ধরনের চিন্তাধারা অর্থনৈতিক নীতিকে প্রভাবান্বিত করেছে। এমতাবস্থায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যৌক্তিকতা কতটুকু, কোন উপাদানগুলো এর বিকাশে সহায়তা করেছে, এ ব্যবস্থা দ্বারা এর সাফল্য হিসেবে দাবিদার ও বহুল প্রচারিত উৎপাদন দক্ষতা এবং একই সাথে সম্পত্তি অর্জন করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখা বাঞ্ছনীয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংশোধনমূলক পদক্ষেপের কতিপয় অংশ বর্তমান অধ্যায়ে এবং ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায়ে বাকি অংশ আলোচিত হয়েছে।
পুঁজিবাদের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ
(ক) পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত মানুষের পছন্দের ভিত্তিতে সম্পদ বৃদ্ধি ও পণ্য উৎপাদন এবং চাহিদা পূরণকে মানব কল্যাণের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে,
(খ) পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যক্তিমালিকানা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণে অবারিত স্বাধিনতাকে পুঁজিবাদ অপরিহার্য মনে করে,
(গ) পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক সম্পদ বণ্টনে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উৎপাদক শ্রেণী কর্তৃক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অত্যাবশ্যক মনে করে,
(ঘ) উৎপাদন দক্ষতা বা ন্যায়সঙ্গত বণ্টন কোনো ক্ষেত্রেই সরকারের বৃহৎ ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে পুঁজিবাদ মনে করে না, এবং
(ঙ) পুঁজিবাদ দাবি করে, মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ পূরণের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক স্বার্থও পূরণ হবে।
প্রকৃতপক্ষে গভীর বিশৃঙ্খলারই প্রকাশ ও চিহ্ন।
-টিবর সিটোকভস্কি
ক্লাসিক্যাল ‘লেইজে- ফেয়ার’ ধারণা সম্বলিত পুঁজিবাদের অস্তিত্ব বর্তমান পৃথিবীর কোথাও নেই। শতাব্দীকাল ধরে এর পরিমার্জন ও পরিবর্তন ঘটেছে। পুঁজিবাদের ত্রুটিগুলো, বিশেষত অর্থনীতির উপর এর বিরূপ প্রভাব দূর করার জন্য বিভিন্ন সরকার সংশোধনমূলক বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে পুঁজিবাদ তার আকর্ষণীয় আবেদন অব্যাহত রেখেছে। সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতা, অর্থনীতিতে সরকারের বিশাল ভূমিকার নেতিবাচক ফলাফল এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া প্রভৃতির কারণে পুঁজিবাদের আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। উদারনীতিবাদ বা স্বল্পতম সরকারি হস্তক্ষেপ সম্বলিত ক্লসিক্যাল মডেলে প্রত্যাবর্তনের প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের আহবান বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু পাশ্চাত্যের শিল্পোন্নত জগতেই নয়, বরং তৃতীয় বিশ্বের বৃহদাংশে ও প্রাক্তন কমিউনিস্ট দেশসমূহে এ ধরনের চিন্তাধারা অর্থনৈতিক নীতিকে প্রভাবান্বিত করেছে। এমতাবস্থায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার যৌক্তিকতা কতটুকু, কোন উপাদানগুলো এর বিকাশে সহায়তা করেছে, এ ব্যবস্থা দ্বারা এর সাফল্য হিসেবে দাবিদার ও বহুল প্রচারিত উৎপাদন দক্ষতা এবং একই সাথে সম্পত্তি অর্জন করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখা বাঞ্ছনীয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংশোধনমূলক পদক্ষেপের কতিপয় অংশ বর্তমান অধ্যায়ে এবং ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ শীর্ষক তৃতীয় অধ্যায়ে বাকি অংশ আলোচিত হয়েছে।
পুঁজিবাদের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ
(ক) পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত মানুষের পছন্দের ভিত্তিতে সম্পদ বৃদ্ধি ও পণ্য উৎপাদন এবং চাহিদা পূরণকে মানব কল্যাণের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে,
(খ) পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যক্তিমালিকানা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণে অবারিত স্বাধিনতাকে পুঁজিবাদ অপরিহার্য মনে করে,
(গ) পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক সম্পদ বণ্টনে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উৎপাদক শ্রেণী কর্তৃক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অত্যাবশ্যক মনে করে,
(ঘ) উৎপাদন দক্ষতা বা ন্যায়সঙ্গত বণ্টন কোনো ক্ষেত্রেই সরকারের বৃহৎ ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে পুঁজিবাদ মনে করে না, এবং
(ঙ) পুঁজিবাদ দাবি করে, মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ পূরণের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক স্বার্থও পূরণ হবে।