hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

এ গ্রন্থ প্রসঙ্গে

এ প্রশ্নের জবাব দেয়ার একটি প্রয়াস এ গ্রন্থ। এর দুটি ভাগ রয়েছে। প্রথম অংশে ব্যর্থ মতবাদসমূহের আলোচনা করা হয়েছে। মুসলিম দেশসমূহ আর্থ-সামাজিক লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে চাইলে তদেরকে ঐসব মতবাদ পরিত্যাগ করতে হবে। এ অংশের প্রথম তিনটি অধ্যায়ে বিদ্যমান ব্যবস্থাসমূহের বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে; কিন্তু তা নিছক সমালোচনার জন্য নয়, বরং ঐ সকল ব্যবস্থার লক্ষ্য, তার বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশলের মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে তার কারণ, ধরন ও ফলাফল সনাক্ত করাই আসল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে পাঠকরা উপলদ্ধি করতে পারেন যে, সে সকল ব্যবস্থার অনুসারী দেশগুলোতে দুষ্প্রাপ্য সম্পদের দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে বরাদ্দের বিষয়টি কিভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই পরিণতি হবে। চতুর্থ অধ্যায়ের আলোচনায় দেখা যাবে যে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর প্রেক্ষিতে যে নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছে, তা কিভাবে অর্থনৈতিক নীতি কৌশলের সাথে অসংগতিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং তার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পড়েছে। এর ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি ও বহির্দেশীয় ভারসাম্যহীনতা পরিস্থিতির শুধু অবনতিই ঘটাচ্ছে না, বরং ন্যায়পরতা আনয়নের লক্ষ্যকেও বানচাল করে দিয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে সাতটি অধ্যায় যাতে ইসলামের জবাব তুলে ধরা হয়েছে। এ অধ্যায়গুলোর প্রথমটিতে অর্থাৎ পঞ্চম অধ্যায়ে বিশ্ববীক্ষণ ও ইসলামের কৌশল এবং মাকাসিদের সাথে অন্তর্নিহিত সংগতির বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধায়ে মুসলিম বিশ্বের অস্থিরতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে পাঁচটি নীতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘায়িত না করে মাকাসিদ বাস্তবায়নের জন্য ইসলামী আদর্শের আলোকে মুসলিম দেশগুলোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ সকল নীতি কৌশলের উপর প্রতিটি আলাদা অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এগুলো একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যবস্থার জন্য এতটা তাৎপর্যপূর্ণ যে, সকল আর্থ-সামাজিক সংস্কার এবং দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এগুলো কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্থান করে আছে। অষ্টম অধ্যায়ে সম্পদের পুঞ্জিভূতকরণ হ্রাস করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে যা আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দরকারি এবং ইসলাম এ মূল্যবোধ ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। নবম ও দশম অধ্যায়ে ইসলামের আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একাদশ অধ্যায়ে ইসলামী আদর্শের নীতিগত বিষয়াদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৌশলগত নীতি পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

উপসংহারে সমগ্র বইয়ের ১১টি অধ্যায়ের আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে পাঠকরা সার্বিক বিষয়গুলোর সারমর্ম দেখতে পারবেন। যেহেতু এ গ্রন্থে মৌলিকভাবে অর্থনৈতিক সমস্যার আলোচনা করা হয়েছে, সেহেতু এতে ফালাহ ও হায়াতে তাইয়্যেবার অর্থনৈতিক সমস্যা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা ব্যতীত আধ্যাত্মিক দিকগুলোর উপর আলোকপাত করা হয়নি।

একটি মাত্র পুস্তকে সকল মুসলিম দেশের সমস্যার আলোচনা অযৌক্তিক। অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ আয়, মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে। অবশ্য এটা সত্য যে, তাদের সমস্যাগুলোর বৈশিষ্ট্য একই ধরনের, পার্থক্য শুধু তাদের মাত্রায়। তারা সবাই সম্পদের আপেক্ষিক দুষ্প্রাপ্যতায় ভুগছে। এসব সত্ত্বেও বিদ্যমান ভারসাম্যহীনতা আর দীর্ঘায়িত না করে ‘মাকাসিদ’ হাসিলের লক্ষ্যে কাজ করা মুসলিম দেশগুলোর অলঙ্ঘনীয় নৈতিক দায়িত্ব। সুতরাং তারা সবাই বিভিন্ন মাত্রায় এ আলোচনা থেকে উপকৃত হতে পারেন। এ গ্রন্থে অবশ্য প্রধানত দরিদ্রতর ও মধ্য আয়ের অধিকতর সমস্যা সংকুল দেশগুলো সম্পর্কেই আলোচনা করা হয়েছে।