১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
মানুষের যৌক্তিক অর্থনৈতিক আচরণ
দ্বিতীয় ধারণা হলো, “মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ সব সময় যুক্তিবুদ্ধির ভিত্তিতে হবে”- এই ধারণাটি আধুনিক অর্থনীতির মূল কথা। মানুষ কেবলমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। জেভনস এর ভাষায় ‘মানুষের সমগ্র আচরণ স্বীয় স্বার্থ ও উপযোগিতা দ্বারা সুনিপুণভাবে তথা যান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়’। ফ্রিডম্যান বলেন,’মানুষের একমাত্র সামাজিক দায়িত্ব হচ্ছে মুনাফা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা’। অর্থনীতির এই সব সূত্র ব্যক্তিস্বার্থকে যুক্তিশীলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে। এজওয়ার্থ তাই সুউচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, অর্থনীতির প্রথম সূত্র হচ্ছে, ‘প্রত্যেকটি অর্থনৈতিক এজেন্ট তার স্বীয় স্বার্থবোধ দ্বারা উজ্জীবিত’। প্রায় সকল আধুনিক অর্থনৈতিক মডেলই এই নীতিমালার ভিত্তিতে রচিত।
কিন্তু বাধাবন্ধনহীনভাবে এভাবে ব্যক্তিস্বার্থকে অনুসরণের মনোভাব ও মতবাদকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে কলুষমুক্ত মনে করতে পশ্চিমের খৃষ্টিয় সমাজে সামাজিক আশীর্বাদ বা গ্রহণযোগ্যতা লাভের জন্য নতুন ধারণা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে ধারণাটি হচ্ছে, প্রকৃতির মধ্যে মধ্যাকর্ষণ শক্তি যেভাবে সামঞ্জস্যতা বিধানের কাজ করে, তদ্রুপ ব্যক্তি মানুষের স্ব-স্ব স্বার্থের অনুসরণও সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্যতা বিধানের কাজ করে। এডাম স্মিথ যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, যদি প্রত্যেকে স্ব-স্ব স্বার্থ অনুযায়ী চলে তবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার অর্থনীতির ‘অদৃশ্য হাত’ সমগ্র সমাজের সামগ্রিক স্বার্থকে রক্ষা ও নিশ্চিত করবে এবং এভাবে ব্যক্তি ও সমাজে স্বার্থের মাঝে সমন্বয় সাধিত হবে। তাই দেখা যাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিস্বার্থ প্রকৃতপক্ষে সামাজিক স্বার্থকেই সংরক্ষণ করছে। ব্যক্তিস্বার্থকে এভাবে এক ধরনের পবিত্রতা দানই অর্থনীতিতে এডাম স্মিথের অন্যতম প্রধান অবদান।
অর্থনীতির অধিকাংশ পণ্ডিতই একমত যে, মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ যুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত। তবে এই যৌক্তিতার স্বরূপ কি তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। কেবলমাত্র আর্থিক স্বার্থ ও পারস্পারিক সমাঞ্জস্যতাকে অর্থনৈতিক যুক্তির উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই আর্থিক স্বার্থের আওতায় পড়ে সীমাহীন সম্পদ আহরণের প্রয়াস ও যথেচ্ছ ভোগবিলাস। যৌক্তিক আচরণের বিষয়ে মানুষের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, জীবনের উদ্দেশ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যান্য মানবিক দিককে বিবেচনার মধ্যে ধরা হয়নি। যেহেতু উল্লিখিত এই সব উপাদান ও বিষয়কে পরিমাপ করা যায় না, তাই ক্লাসিক্যাল অর্থনীতি ও পুঁজিবাদের সূত্রের মাঝে এসব উপাদানগুলো কোনো তাত্ত্বিক দখল করে নিতে পারেনি।
কিন্তু বাধাবন্ধনহীনভাবে এভাবে ব্যক্তিস্বার্থকে অনুসরণের মনোভাব ও মতবাদকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে কলুষমুক্ত মনে করতে পশ্চিমের খৃষ্টিয় সমাজে সামাজিক আশীর্বাদ বা গ্রহণযোগ্যতা লাভের জন্য নতুন ধারণা প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে ধারণাটি হচ্ছে, প্রকৃতির মধ্যে মধ্যাকর্ষণ শক্তি যেভাবে সামঞ্জস্যতা বিধানের কাজ করে, তদ্রুপ ব্যক্তি মানুষের স্ব-স্ব স্বার্থের অনুসরণও সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্যতা বিধানের কাজ করে। এডাম স্মিথ যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, যদি প্রত্যেকে স্ব-স্ব স্বার্থ অনুযায়ী চলে তবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার অর্থনীতির ‘অদৃশ্য হাত’ সমগ্র সমাজের সামগ্রিক স্বার্থকে রক্ষা ও নিশ্চিত করবে এবং এভাবে ব্যক্তি ও সমাজে স্বার্থের মাঝে সমন্বয় সাধিত হবে। তাই দেখা যাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিস্বার্থ প্রকৃতপক্ষে সামাজিক স্বার্থকেই সংরক্ষণ করছে। ব্যক্তিস্বার্থকে এভাবে এক ধরনের পবিত্রতা দানই অর্থনীতিতে এডাম স্মিথের অন্যতম প্রধান অবদান।
অর্থনীতির অধিকাংশ পণ্ডিতই একমত যে, মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ যুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত। তবে এই যৌক্তিতার স্বরূপ কি তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। কেবলমাত্র আর্থিক স্বার্থ ও পারস্পারিক সমাঞ্জস্যতাকে অর্থনৈতিক যুক্তির উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই আর্থিক স্বার্থের আওতায় পড়ে সীমাহীন সম্পদ আহরণের প্রয়াস ও যথেচ্ছ ভোগবিলাস। যৌক্তিক আচরণের বিষয়ে মানুষের ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, জীবনের উদ্দেশ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যান্য মানবিক দিককে বিবেচনার মধ্যে ধরা হয়নি। যেহেতু উল্লিখিত এই সব উপাদান ও বিষয়কে পরিমাপ করা যায় না, তাই ক্লাসিক্যাল অর্থনীতি ও পুঁজিবাদের সূত্রের মাঝে এসব উপাদানগুলো কোনো তাত্ত্বিক দখল করে নিতে পারেনি।