১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
বিস্তীর্ণ ব্যবধান
দুর্ভাগ্যবশতঃ কতকগুলো ঐতিহাসিক কারণে শরীয়াহ ও মুসলিম দেশগুলোর বাস্তব অবস্থার মধ্যে বিস্তীর্ণ ব্যবধান রয়েছে। এর মধ্যে দুটো কারণ হচ্ছেঃ মুসলমানদের অধঃপতন এবং পরবর্তীতে পুঁজিবাদী ও সমাজবাদী উভয় সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক শাসন-শোষণ। বর্তমান মুসলিম সমাজ ইসলামের আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার প্রতিফলন ঘটায় না। সত্যি বলতে কি, সমাজের বিশাল অংশের মধ্যে ইসলামী সমাজের জন্য যে আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন, সে সম্পর্কেও তাদের সচেতনতা নেই। মুসলিম দেশগুলোতে প্রধান আদর্শ ইসলাম নয়, বরং সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ ও সমাজবাদের সমন্বয়ে গঠিত সেকুলারিজম। ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মুসলিম বিশ্বের কোনো অংশেই প্রচলিত নেই। মুসলিম দেশগুলো বিদ্যমান ব্যবস্থাসমূহের সেকুলার মতাদর্শের পরিপ্রক্ষিতে রচিত নীতির মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের সমস্যার আরো অবনতি ঘটেছে এবং মাকাসিদের উপলদ্ধি থেকে তারা বহুদূরে সরে যাচ্ছে। দেশের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য কমেনি, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। আয় ও সম্পদে বৈষম্যের আরো অবনতি ঘটেছে এবং তাদের জনগণের মৌলিক চহিদা এখনো অপূরণীয় রয়ে গেছে। সরকারি খাতে বাজেট ঘাটতি এবং একইভাবে লেনদেনের ভারসাম্যে (balance of payment) ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋনের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির হুমকি তো রয়েছেই। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র্য দূরীকরণের ধারণা দৌড়ে পালিয়েছে। উন্নত অর্থনীতির সাথে আলোচনার মধ্যে সমাধান খোঁজ করার বিষয়টি বাস্তবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তৃতীয় বিশ্বের কর্মকর্তারা এখন স্ফীত ঋণগ্রস্ততার মধ্য থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে টেনে তোলার জন্য নতুন ধারণা উদ্ভাবনের মতো নিরুৎসাহমূলক কাজে নিয়োজিত। কেন এরকম হলো? ইসলামীকরণ (ইসলামী শিক্ষার আলোকে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতির পুনর্গঠন) কি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে না?