১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭০
ব্যয়ের নীতিমালা
ইসলামী মূল্যবোধ ও মাকাসিদের প্রতি অঙ্গীকার পূর্বোক্ত চারটি ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে মাকাসিদের প্রতি অঙ্গীকার প্রণয়নের মানদণ্ড দিয়ে প্রচলিত সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। মুসলিম আইনবেত্তাগণ বহু শতাব্দী ধরে ইসলামী আইনশাস্ত্রেরই একটি যৌক্তিক ও সুবিন্যস্ত ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে যে আইনগত নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, তা থেকে সঞ্চয়িত ছয়টি ব্যাপকভিত্তিক নীতির প্রতি অবিচল থাকলে ‘মাকাসিদ’কে আরো দৃঢ় করা সম্ভব হবে। আইন সূত্রগুলো হলো :
১. জনগণের কল্যাণই সকল ব্যয় বরাদ্দের মূল নির্ণায়ক হবে (ধারা : ৫৮)
২. কষ্ট ও ক্ষতি লাঘব করা আরামপ্রদ ব্যবস্থার উপর প্রাধান্য পাবে (ধারা : ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩০, ৩১ ও ৩২)।
৩. সংখ্যালঘিষ্ঠের সংকীর্ণ স্বার্থের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠের বৃহত্তর স্বার্থ প্রাধান্য পাবে (ধারা : ২৮)।
৪. জনসাধারণের ত্যাগ বা ক্ষতি এড়ানোর জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগ বা ক্ষতি আরো করা এবং বৃহত্তর ত্যাগ বা ক্ষতি নিবারণের জন্য ক্ষুদ্রতর ক্ষতি আরোপ করা যায় (ধারা : ২৬, ২৭ ও ২৮)।
৫. যে কল্যাণ লাভ করে সে অবশ্যই ব্যয় বহন করবে (ধারা : ৮৭ ও ৮৮)।
৬. যা ব্যতীত কোনো দায় পূরণ করা যায় না সেটিও দায় বলে গণ্য হবে।
মুসলিম দেশসমূহে করারোপ ও সরকারি ব্যয়ের সাথে পূর্বোক্ত নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ সম্বন্ধ রয়েছে। সরকারি ব্যয় কর্মসূচির উপর এগুলোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণের জন্য কিচু দৃষ্টান্ত বিবেচনায় আনা সহায়ক হতে পারে।
যেহেতু এক নম্বর সূত্র অনুযায়ী সকল সরকারি ব্যয় বরাদ্দের আবশ্যকীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ কল্যাণ সাধন, সেহেতু সূত্র ছয় অনুযায়ী ত্বরিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অত্যাবশ্যক প্রয়োজন পূরণ দ্বারা পূর্বোক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবদান রাখতে সক্ষম, সে সকল বস্তুগত ও সামাজিক অবকাঠামো প্রকল্প অপরাপর প্রকল্পের উপর প্রাধান্য পাবে যেগুলো অনুরূপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবদান রাখে না। এমনকি অপরিহার্য অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের মধ্যে সূত্র দুই এর দাবি হলো, সেই প্রকল্পগুলোর উপর প্রধান্য দেয়া, যা পুষ্টিহীনতা, নিরক্ষরতা, গৃহহীনতা, মহামারী ও চিকিৎসা সেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব করতে সাহায্য করে। একইভাবে একটি সুদক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন সূত্র তিন মোতাবেক প্রাধান্য পাবে, কারণ এর অভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নগরবাসীর কষ্ট হয় এবং দক্ষতা ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং মোট গাড়ি ও পেট্রোলের অতিরিক্ত আমদানি দরকার হয়ে পড়ে। আবার মোটর গাড়ি সীমিত সংখ্যক উপশহরবাসীর অতিরিক্ত আয়েশ বৃদ্ধি করে। যদি এর আমদানি হ্রাস করে এ বাবদ সঞ্চয়কে গণপরিবহনের যানবাহন আমদানিতে সঞ্চালন করা হয়, তবে তা সূত্র চার অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপই কেবল হ্রাস করবে না, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে আরামদায়ক পরিবহন সেবা প্রদান করবে এবং যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমে যাবে। যদি সূত্র তিন মোতাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থকে প্রধান্য দেয়া হয়, তবে পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচিতে কম গুরুত্ব প্রদানের কোনো ভিত্তি নেই। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পল্লী অঞ্চলে বাস করে এবং পল্লী সমাজ ও পরিবার থেকে জনশক্তির ব্যাপক স্থানান্তর আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে, সেহেতু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্ম-কর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থান সুবিধা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন এবং পল্লীবাসীর অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণ অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই যানজট ও সেবাসমূহের উপর চাপ হ্রাসের মাধ্যমে নগর জীবনের উন্নয়ন ঘটবে।
যদি আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাস করতে হয়, তবে উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহের অর্থ সরবরাহে ব্যাপক ও অধিক সুবিধাজনক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা সৃষ্টি করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপার্জনক্ষমতা বৃদ্ধি করা সূত্র ছয় অনুযায়ী অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এর দাবি হচ্ছে, সরকারি ব্যয় কর্মসূচিতে পল্লী অঞ্চলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন অগ্রাধিকার পাবে, যাতে যোগ্যতাসম্পন্ন সকল নাগরিকের এতে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। এছাড়া অর্থব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যাতে পল্লী ও শহরাঞ্চলের সকল ধরনের শ্রেণীর উদ্যোক্তাগণ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য ও সেবার সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পায়।
১. জনগণের কল্যাণই সকল ব্যয় বরাদ্দের মূল নির্ণায়ক হবে (ধারা : ৫৮)
২. কষ্ট ও ক্ষতি লাঘব করা আরামপ্রদ ব্যবস্থার উপর প্রাধান্য পাবে (ধারা : ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩০, ৩১ ও ৩২)।
৩. সংখ্যালঘিষ্ঠের সংকীর্ণ স্বার্থের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠের বৃহত্তর স্বার্থ প্রাধান্য পাবে (ধারা : ২৮)।
৪. জনসাধারণের ত্যাগ বা ক্ষতি এড়ানোর জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগ বা ক্ষতি আরো করা এবং বৃহত্তর ত্যাগ বা ক্ষতি নিবারণের জন্য ক্ষুদ্রতর ক্ষতি আরোপ করা যায় (ধারা : ২৬, ২৭ ও ২৮)।
৫. যে কল্যাণ লাভ করে সে অবশ্যই ব্যয় বহন করবে (ধারা : ৮৭ ও ৮৮)।
৬. যা ব্যতীত কোনো দায় পূরণ করা যায় না সেটিও দায় বলে গণ্য হবে।
মুসলিম দেশসমূহে করারোপ ও সরকারি ব্যয়ের সাথে পূর্বোক্ত নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ সম্বন্ধ রয়েছে। সরকারি ব্যয় কর্মসূচির উপর এগুলোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণের জন্য কিচু দৃষ্টান্ত বিবেচনায় আনা সহায়ক হতে পারে।
যেহেতু এক নম্বর সূত্র অনুযায়ী সকল সরকারি ব্যয় বরাদ্দের আবশ্যকীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ কল্যাণ সাধন, সেহেতু সূত্র ছয় অনুযায়ী ত্বরিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অত্যাবশ্যক প্রয়োজন পূরণ দ্বারা পূর্বোক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবদান রাখতে সক্ষম, সে সকল বস্তুগত ও সামাজিক অবকাঠামো প্রকল্প অপরাপর প্রকল্পের উপর প্রাধান্য পাবে যেগুলো অনুরূপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অবদান রাখে না। এমনকি অপরিহার্য অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের মধ্যে সূত্র দুই এর দাবি হলো, সেই প্রকল্পগুলোর উপর প্রধান্য দেয়া, যা পুষ্টিহীনতা, নিরক্ষরতা, গৃহহীনতা, মহামারী ও চিকিৎসা সেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব করতে সাহায্য করে। একইভাবে একটি সুদক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন সূত্র তিন মোতাবেক প্রাধান্য পাবে, কারণ এর অভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নগরবাসীর কষ্ট হয় এবং দক্ষতা ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং মোট গাড়ি ও পেট্রোলের অতিরিক্ত আমদানি দরকার হয়ে পড়ে। আবার মোটর গাড়ি সীমিত সংখ্যক উপশহরবাসীর অতিরিক্ত আয়েশ বৃদ্ধি করে। যদি এর আমদানি হ্রাস করে এ বাবদ সঞ্চয়কে গণপরিবহনের যানবাহন আমদানিতে সঞ্চালন করা হয়, তবে তা সূত্র চার অনুযায়ী যুক্তিযুক্ত হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপই কেবল হ্রাস করবে না, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে আরামদায়ক পরিবহন সেবা প্রদান করবে এবং যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমে যাবে। যদি সূত্র তিন মোতাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থকে প্রধান্য দেয়া হয়, তবে পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচিতে কম গুরুত্ব প্রদানের কোনো ভিত্তি নেই। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পল্লী অঞ্চলে বাস করে এবং পল্লী সমাজ ও পরিবার থেকে জনশক্তির ব্যাপক স্থানান্তর আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে, সেহেতু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্ম-কর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থান সুবিধা সমপ্রসারণের লক্ষ্যে পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন এবং পল্লীবাসীর অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণ অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই যানজট ও সেবাসমূহের উপর চাপ হ্রাসের মাধ্যমে নগর জীবনের উন্নয়ন ঘটবে।
যদি আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাস করতে হয়, তবে উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহের অর্থ সরবরাহে ব্যাপক ও অধিক সুবিধাজনক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা সৃষ্টি করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপার্জনক্ষমতা বৃদ্ধি করা সূত্র ছয় অনুযায়ী অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এর দাবি হচ্ছে, সরকারি ব্যয় কর্মসূচিতে পল্লী অঞ্চলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন অগ্রাধিকার পাবে, যাতে যোগ্যতাসম্পন্ন সকল নাগরিকের এতে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। এছাড়া অর্থব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যাতে পল্লী ও শহরাঞ্চলের সকল ধরনের শ্রেণীর উদ্যোক্তাগণ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য ও সেবার সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পায়।