hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

‘লেইজে ফেয়ার’ ব্যবস্থার অবসান

দু’টি ঘটনা ‘লেইজে ফেয়ার’ পুঁজিবাদের ভিত বিশেষ করে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিল। ঘটনা দু’টি হচ্ছে, ১৯৩০ এর দিকে মহামন্দা এবং সমাজবাদের উত্থান। ঘটনাদ্বয় কিনেসিয়ান বিপ্লব ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। ‘লেইজে ফেয়ার’ পুঁজিবাদের কফিনে ঘটনা দু’টি শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। স্যুমপিটার ও টয়েনবির মতো মার্কসবাদী নয় এমন অনেক অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী পুঁজিবাদের মৃত্যুঘণ্টা বাজার কথা ভবিষ্যতদ্বাণী করেছিলেন। অবশ্য মিল্টন ফ্রিডম্যান ও ফ্রেডরিথ হায়েক এর মতো কতিপয় অর্থনীতিবিদ ‘লেইজে ফেয়ার’ অর্থনীতিকে সমর্থন করে যেতে লাগলেন, যদিও তা অনেকটা পরিবর্তিত কাঠামোয়। আশির দশকে এ ধরনের অর্থনীতিবিদের বলয় বৃদ্ধি পেতে লাগলো। মহামন্দার পর অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রবণতা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলছিল সে উৎসাহ ক্রমান্বয়ে সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের অদক্ষতা, বাজেট ঘাটতি পূরণের অসমর্থতা ও এসব কারণে কল্যাণ রাষ্ট্রের উপর সৃষ্ট বিরূর ধারণা ইত্যাদি কারণে হ্রাস পেতে লাগল।

ত্রিশ দশকের দীর্ঘস্থায়ী মহামন্দা অর্থনীতিবিদ ‘সে’ এর অর্থনীতির সূত্রের উপর দীর্ঘকালীন আস্থা বিনষ্ট করে দেয়। এত প্রতীয়মান হয় যে, অর্থনীতির নিজে নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হবার বা বিচ্যুতি ঠিক করে আদর্শ স্থানে ফিরে আসার ক্ষমতা নেই। অর্থনৈতিক সংকটকালীন সময়ে বৃটিশ ও অন্যান্য সরকারের লেইজে ফেয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রফেসর কিনস বিস্মিত হয়ে পড়েন। কিনসের ক্লাসিক্যাল পূর্বসূরিরা উনবিংশ শতাব্দীর পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাঠামোকে যেখানে স্বাভাবিক, প্রকৃতিসম্মত, যুক্তিসংগত, চিরকালীন ও সরল অভিধায় অভিষিক্ত করেছিলেন সেখানে কীনস তার Economic Consequence of the Peace গ্রন্থে পক্ষান্তরে লেইজে ফেয়ার পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ‘অস্বাভাবিক, অস্থিতিশীল, জটিল, অনির্ভরযোগ্য ও ভঙ্গুর’ বলে চিহ্নিত করেছেন।