hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

প্রারম্ভিক কথা

প্রায় সকল মুসলিম দেশেই চলমান ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রেক্ষিতে একটি সমন্বিত কর্মসূচি রূপায়ণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মানব জাতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, যে সংকট মোকাবিলা করেছে তা উত্তরণে ইসলামকে একটি কল্যাণমুখী ব্যবস্থা উপতার দিতে হবে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এখন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বহির্দেশীয় ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা করছে। এজন্য এমন একটা বিশেষ কৌশল গ্রহণ করতে হবে যাতে এ দু’য়ের ব্যবধানকে নিয়ন্ত্রণসাধ্য সীমার মধ্যে সামনে আনা যায় এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং আয় ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য হ্রাস করা যায়। মুসলিম দেশগুলো কি পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের বিশ্ববিপণনের আওতায় কোনো কৌশল প্রণয়ন করতে পারে? ইসলাম কি তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে? এ গ্রন্থে এসব বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশ্নের জবাব দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে।

পাণ্ডুলিপি প্রথম খসড়াটি ইসলামী ও প্রচলিত অর্থনীতির প্রায় ডজনখানেক পণ্ডিতের কাছে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেনঃ সৌদি আরবের ড. ফাহীম খান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর কেনেথ বোল্ডিং, প্রফেসর ইভার্ট হেগেন, প্রফেসর ফ্রাংক ভোগেল এবং যুবায়ের ইকবাল, যুক্তরাজ্যের প্রফেসর রুডনী নীনহাস এবং পাকিস্তানের প্রফেসর খুরশীদ আহমদ।

সকলেই তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে যত্নসহকারে আমার পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছেন এবং মূল্যবান মন্তব্য ও পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করেছেন, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের পরামর্শের আলোকে আমি পাণ্ডলিপিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। ফলশ্রুতিতে মূল অভিসন্দর্ভ অপরিবর্তিত থাকলেও তাদের মতামতের আলোকে সম্পাদনার ফলে এটি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।

আমি বিশেষ করে ড. জারকা, ড. মুনাওয়ার ইকবাল এবং প্রফেসর কেনেথ বোল্ডিং এর তীক্ষ্ম সমালোচনা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি এবং তা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি। প্রথমোক্ত তিনজন সৌদি আরবে বসবাস করার সুবাদে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আমাকে মূল্যবান সময় দিয়েছেন। এরূপ আলোচনার ফলে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জ্ঞানের পরিধি যেমন সম্প্রসারিত হয়েছে, তেমনি ইসলামী নীতি কৌশলের যুক্তিকে জোরদার করতেও সহায়ক হয়েছে।

সুতরাং পাঠকগণ যদি বইটিকে মূল্যবান বলে বিবেচনা করে তাহলে এর কৃতিত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ উপরে উল্লিখিত পণ্ডিতজনদের প্রাপ্য হবে। অবশ্য তাদের কেউই চূড়ান্ত খসড়াটি দেখেননি। ফলে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে সেজন্য আমাকেই দায়ী করতে হবে। বইটির কলেবর যাতে বৃদ্ধি না পায় এবং কৌশলগত পরিভাষায় ভারাক্রান্ত না হয় সেজন্য তাদের পরামর্শ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিব্রত ছিলাম। এ বইতে প্রকাশিত মতামত আমার নিজস্ব, আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি আমার মতামতের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ক্ল্যাসিকাল ও ইসলামী অর্থনীতির চলতি গ্রন্থাবলীর কাছে আমি এতটাই ঋণী যে, পাদটীকায় বিপুলসংখ্যক তথ্যসূত্রের উল্লেখ করা সত্ত্বেও দায়িত্ব শেষ হয় না। অধিকন্তু অর্থনীতির উপর বর্তমানে প্রকাশনার সংখ্যা এত বেশি যে, ব্যাপকভাবে তথ্যসূত্রের নির্দেশ সম্ভব নয়, বিশেষত এ ধরনের একটি বইতে, যেখানে তিনটি বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা ও ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এমতাস্থায় আমাকে বেছে বেছে তথ্যসূত্র নির্বাচন করতে হয়েছে। অবশ্য এমন কিছু তথ্যসূত্র বাদ পড়ে যেতে পারে যা অন্যদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বইটির কলেবর বৃদ্ধির বিষয়টি পরিহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই কেবল অন্য ভাষার বর্ণান্ত ব্যবহার করা হয়েছে। আমি ইসলামের বাণীকে বিশেষভাবে বুঝানোর জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরবি শব্দ ব্যবহার করেছি; ইংরেজি অনুবাদ করা হলে ইসলামী পরিভাষায় মূল ভাবার্থটি প্রস্ফুটিত হতো না।

এই বইটি রচনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আরো অনেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের কাছেও ঋণী। এদের মধ্যে আমার স্ত্রী ও আমার সন্তানদের আমার প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। আমার ভ্রাতৃদ্বয় আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ আমাকে অব্যাহত উৎসাহ দেন। আমি আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী, টি.বি. ইরভিং ও মুহাম্মদ আসাদের পবিত্র কোরআনের অনুবাদ থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি, যদিও তাদের অনুবাদ উদ্ধৃত করা হয়নি। ফিকাহ্, হাদিস ও অন্যান্য আরবি গ্রন্থের অনুবাদ আমার নিজস্ব। আমার মেয়ে সুমাইয়া অনুবাদের কতকগুলো জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়তা করেছে। পাণ্ডলিপি পরীক্ষা ও প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মুদ্রণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আমি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ড. এম.এম. আহসান ও অন্যান্য ভাইদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। বইটি রচনাকালে গবেষণা ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানে দক্ষতার সাথে সাহায্য করার জন্য আমি জনাব মবিন আহমদের কাছে ঋণী রইলাম। আল্লাহতায়াল এদের সবাইকে তাদের অবদানের জন্য পুরস্কৃত করুন!

এম. উমর চাপরা

রিয়াদ, সৌদি আরব

১১ জুমাদা আল-আখিরা ১৪১১, ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৯০