১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
তিক্ত ফলাফল
বাজারব্যবস্থা পশ্চিমা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দীর্ঘকালীন সমৃদ্ধি বয়ে এনেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সম্পদের বিপুল সম্প্রসারণ ঘটেছে। বাজারব্যবস্থার বিজয় দেখিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হতে বিরত থাকে। পোলেনি’র ভাষায় সমাজই যেন বাজারের সম্প্রসারিত এক রূপ পরিগ্রহ করলো না। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলল। এতে দেখা যায় দ্রুত উন্নয়ন ও বিপুল সমৃদ্ধি সত্ত্বেও দ্ক্ষতা ও ন্যায়পরতা স্বপ্ন সোনার হরিণই হয়ে রইল।
পুঁজিবাদের ত্ক্তি বাস্তব পরিণতি মানুষের বিবেকের ন্যয়নীতিবোধকে নাড়া না দিয়ে পারেনি। তাই দেখা যায়, অতীত বা বর্তমানে পুঁজিবাদের মৌলিক নীতিমালাসমূহ বিরোধিতা ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইংল্যান্ডের টমাস কার্লাইল (Pastand Present, 1843), রাস্কিন (Unto this Last, 1862) ও চার্লস ডিকেন্স (Hard Times, 1854-55) এবং আমেরিকার হেনরী জর্জ (Progress and Poverty, 1870) এর ন্যায় বিখ্যাত মনীষীবৃন্দ ‘লেইজে ফেয়ার’ নীতির স্বার্থপরতাকেন্দ্রিক মতবাদকে আক্রমণ করে লেখনী চালনা করেন। থমাস কার্লাইল এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে ‘ডিসমাল সাইন্স’ (Dismal Science) বলে অভিহত করেন। তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিস্বার্থ সমাজস্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে অনুকূল হতে তরান্বিত করবে- এ চিন্তাধারাকে প্রত্যাখ্যান করেন। হেনরী জর্জ বিত্ত ও দারিদ্র্যের বৈপরীত্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন এব মন্তব্য করেন, ‘যতদিন পর্যন্ত স্ফীত সম্পদরাজি শুধু ধনিক শ্রেণীর বিত্ত বেসাতি বিলাসের ঘরে জমা হবে, যতদিন ধনিক শ্রেণী ও দরিদ্র শ্রেণীর দূরত্ব তীব্রতর হবে, ততদিন সত্যিকার ও স্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলা যাবে না’।
যাই হোক, এসব খ্যাতিমান লেখকদের সকল সমালোচনা সত্ত্বেও পুঁজিবাদী অর্থনীতির চিন্তাধারার জোয়ার তীব্রভাবে প্রবাহিত হতে লাগল। খ্যাতিমান সমালোচক ও মনীষীদের সকল বিরূপ মন্তব্য শুধু ইতিহাসের প্রভাবহীন মন্তব্য রূপেই বিরাজ করল। আধুনিক যুগের কিছু কৃতি লেখকও পুঁজিবাদের তিক্ত ফলাফলে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। হীমেন মিনিস্কি’র মতে, ‘পুঁজিবাদী সমাজ বৈষম্যপূর্ণ ও অদক্ষ’।
সমাজের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাদের ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে, পুঁজিবাদের উদ্দেশ্য ও কৌশলের সাথে সমাজের লক্ষ্য ও চাহিদার সংঘাত। ব্যক্তিস্বার্থ ও সমাজস্বার্থের মাঝে বিরোধিতার বদলে সেতুবন্ধন রচিত হবে বলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা দাবি করেছে। কিন্তু যেসব ধারণা, পূর্বশর্ত ও প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে, তা অবাস্তব ও অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সমাজের চাহিদা ও লক্ষ্যপূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তা সামাজিক ডারউইনবাদ বাস্তবায়নেরই এক প্রকার অমানবিক প্রচেষ্টার নামান্তর। পুঁজিবাদের ভিত্তিভূমি হিসেবে যেসব শর্ত ও ধারণার কথা বলা হয়েছে তার সুস্পষ্ট ভাসা ভাসা ধারণার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’ অর্জিত হবে তা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
পুঁজিবাদের ত্ক্তি বাস্তব পরিণতি মানুষের বিবেকের ন্যয়নীতিবোধকে নাড়া না দিয়ে পারেনি। তাই দেখা যায়, অতীত বা বর্তমানে পুঁজিবাদের মৌলিক নীতিমালাসমূহ বিরোধিতা ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইংল্যান্ডের টমাস কার্লাইল (Pastand Present, 1843), রাস্কিন (Unto this Last, 1862) ও চার্লস ডিকেন্স (Hard Times, 1854-55) এবং আমেরিকার হেনরী জর্জ (Progress and Poverty, 1870) এর ন্যায় বিখ্যাত মনীষীবৃন্দ ‘লেইজে ফেয়ার’ নীতির স্বার্থপরতাকেন্দ্রিক মতবাদকে আক্রমণ করে লেখনী চালনা করেন। থমাস কার্লাইল এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে ‘ডিসমাল সাইন্স’ (Dismal Science) বলে অভিহত করেন। তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিস্বার্থ সমাজস্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে অনুকূল হতে তরান্বিত করবে- এ চিন্তাধারাকে প্রত্যাখ্যান করেন। হেনরী জর্জ বিত্ত ও দারিদ্র্যের বৈপরীত্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন এব মন্তব্য করেন, ‘যতদিন পর্যন্ত স্ফীত সম্পদরাজি শুধু ধনিক শ্রেণীর বিত্ত বেসাতি বিলাসের ঘরে জমা হবে, যতদিন ধনিক শ্রেণী ও দরিদ্র শ্রেণীর দূরত্ব তীব্রতর হবে, ততদিন সত্যিকার ও স্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলা যাবে না’।
যাই হোক, এসব খ্যাতিমান লেখকদের সকল সমালোচনা সত্ত্বেও পুঁজিবাদী অর্থনীতির চিন্তাধারার জোয়ার তীব্রভাবে প্রবাহিত হতে লাগল। খ্যাতিমান সমালোচক ও মনীষীদের সকল বিরূপ মন্তব্য শুধু ইতিহাসের প্রভাবহীন মন্তব্য রূপেই বিরাজ করল। আধুনিক যুগের কিছু কৃতি লেখকও পুঁজিবাদের তিক্ত ফলাফলে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। হীমেন মিনিস্কি’র মতে, ‘পুঁজিবাদী সমাজ বৈষম্যপূর্ণ ও অদক্ষ’।
সমাজের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাদের ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে, পুঁজিবাদের উদ্দেশ্য ও কৌশলের সাথে সমাজের লক্ষ্য ও চাহিদার সংঘাত। ব্যক্তিস্বার্থ ও সমাজস্বার্থের মাঝে বিরোধিতার বদলে সেতুবন্ধন রচিত হবে বলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা দাবি করেছে। কিন্তু যেসব ধারণা, পূর্বশর্ত ও প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে, তা অবাস্তব ও অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সমাজের চাহিদা ও লক্ষ্যপূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তা সামাজিক ডারউইনবাদ বাস্তবায়নেরই এক প্রকার অমানবিক প্রচেষ্টার নামান্তর। পুঁজিবাদের ভিত্তিভূমি হিসেবে যেসব শর্ত ও ধারণার কথা বলা হয়েছে তার সুস্পষ্ট ভাসা ভাসা ধারণার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ‘দক্ষতা’ ও ‘ন্যায়পরতা’ অর্জিত হবে তা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় না।