hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮১

সংযত ঘাটতি বাজেট

এতদসত্ত্বেও খরচের কর্মপরিকল্পনা ও করব্যবস্থা সংস্কারের বদলে মুসলিম দেশসমূহ সহজতম পন্থায় অর্থাৎ মুদ্রা সমপ্রসারণ ও ঋণ গ্রহণের পথে অগ্রসর হয়েছে। এ পদ্ধতি এমন একটি অসংযত আর্থিক সামর্থ্য দিয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে না। এর ফলে তুলনামূলক উচ্চহারে মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ও দায় পরিশোধের বার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এ পদ্ধতি নিজে নিজেই স্থায়িত্ব লাভ করে এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, অধিকতর মুদ্রামান হ্রাস, অ-টেকসই লেনদেন ঘাটতি ও অধিক উচ্চহারে ঋণভার সৃষ্টি করে। ফলে এ অবস্থায় উন্নয়নের জন্য পুনরায় সম্পদের ঘাটতি সৃষ্টি হয়, প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

মুসলিম সরকারসমূহ ঋণ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। প্রচলিত ধারণার একটি গ্রহণযোগ্য নীতি হলো, চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য নয়, মূলধন ব্যয় নির্বাহের জন্যই ঋণ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু দুর্বোধ্য কারণে এ সকল সরকার পূর্বোক্ত নীতিকে অগ্রাহ্য করে চলছে। এমনকি তারা তাদের চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্যও ঋণ গ্রহণ করে থাকে। এটি কেবল সাংঘাতিক অব্যবস্থাই নয়, বরং ভাবী বংশধরদের প্রতিও চরম অবিচার, যারা ঋণভার বহন করতে বাধ্য হবে। ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা ঋণ দ্বারা দূরীভূত হয় না, কেবল মুলতবি থাকে মাত্র। কিভাবে এটিকে ন্যায়বিচার বলা যায় বা নৈতিকভাবে সমর্থন করা যায় যে, বর্তমান প্রজন্ম তাদের চলতি অনুৎপাদনশীল ব্যয়ের দায় পরবর্তী প্রজন্মের উপর চাপিয়ে দেবে।