১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৩
ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্পে অর্থায়ন
বৈষম্যমূলক প্রচলিত ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা এক তিক্ত বাস্তবতা। ঋণ বিতরণের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ প্রবণতা সংশোধন করা প্রয়োজন। নচেৎ আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টনের প্রত্যাশা দুরাশা মাত্র। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও বেকার সমস্যার সমাধানের জন্য ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্প দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। কিন্তু এসব শিল্পে অর্থায়নের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এ লক্ষ্য অর্জন স্বপ্নই থেকে যাবে। ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্পের উন্নয়নের পথে অর্থসংস্থানই সবচেয়ে বড় বাধা। গরীব গরীব নয় এ কারণে যে, তারা কঠোর পরিশ্রমে অনাগ্রহী বা তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ধনীদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে। তাদের দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার তারা করতে পারে না। তাদের সমস্যা হচ্ছে আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য তাদের অর্থের কোনো সংস্থান নেই। যারা মজুরিভিত্তিক চাকরি করে তাদের ক্ষেত্রেও তাদের চাকরি তাদের দক্ষতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারে না। মজুরির পরিমাণও এমন যে বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয় করা দূরে থাকুক, তারা নিজেদের ন্যূনতম প্রয়োজনও মেটাতে পারে না। ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাই যথার্থই বলেছেন, আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জনসাধারণের প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা হচ্ছে সর্বপ্রথম মৌলিক অধিকার যা অন্যান্য মানবাধিকার অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Select Committe on Hunger- এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র শিল্পসমূহে সামান্য পরিমাণ ঋণ সরবরাহ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি সাধন করতে পারে। কমিটি আরো অভিমত ব্যক্ত করে যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহে শহর ও গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র মানুষদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হতে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করার অন্যতম উপায় হচ্ছে, অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরকে তাদের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণকালেই ঋণ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু এসব দেশের প্রতিষ্ঠানিক ঋণদানকারী সংস্থাসমূহ স্বল্পবিত্ত মানুষের উদ্যোগে চালিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের লাভজনকতায় আস্থাশীল নয়। তাই আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত অর্থব্যবস্থার সংস্কার।
প্রকৃত প্রস্তাবে ইসলামী অর্থব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। গরীব জনসাধারণের মাঝে শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে উদ্যোগ গ্রহণে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে তখন কাজে লাগানো যাবে। আয়, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে সমৃদ্ধ অবদান রাখতে পারে তা ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভাগ্যের উপর নির্ভর করার অনিশ্চিত অবস্থা হতে রক্ষা পাবে। দুঃসময়ে কোমর ভাঙা সুদের ভার বহনের পরিবর্তে তারা সুসময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অধিক মুনাফার ভাগ দিতে প্রস্তুত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অর্থ ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সমৃদ্ধির সময় অধিক মুনাফা অর্জন করে তারা মন্দাকালীন দুঃসময় দেউলিয়া হবার ভয় না করে ঝুঁকি বহনে সক্ষম।
Select Committe on Hunger- এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র শিল্পসমূহে সামান্য পরিমাণ ঋণ সরবরাহ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি সাধন করতে পারে। কমিটি আরো অভিমত ব্যক্ত করে যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহে শহর ও গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র মানুষদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হতে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করার অন্যতম উপায় হচ্ছে, অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরকে তাদের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণকালেই ঋণ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু এসব দেশের প্রতিষ্ঠানিক ঋণদানকারী সংস্থাসমূহ স্বল্পবিত্ত মানুষের উদ্যোগে চালিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের লাভজনকতায় আস্থাশীল নয়। তাই আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মৌলিক ভিত্তি হওয়া উচিত অর্থব্যবস্থার সংস্কার।
প্রকৃত প্রস্তাবে ইসলামী অর্থব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। গরীব জনসাধারণের মাঝে শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যে উদ্যোগ গ্রহণে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে তখন কাজে লাগানো যাবে। আয়, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে সমৃদ্ধ অবদান রাখতে পারে তা ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভাগ্যের উপর নির্ভর করার অনিশ্চিত অবস্থা হতে রক্ষা পাবে। দুঃসময়ে কোমর ভাঙা সুদের ভার বহনের পরিবর্তে তারা সুসময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অধিক মুনাফার ভাগ দিতে প্রস্তুত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অর্থ ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সমৃদ্ধির সময় অধিক মুনাফা অর্জন করে তারা মন্দাকালীন দুঃসময় দেউলিয়া হবার ভয় না করে ঝুঁকি বহনে সক্ষম।