১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০২
সুষম মধ্যস্থতা
প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থা ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় যে ইনসাফ পরিপন্থী নীতি অনুযায়ী চালিত হচ্ছে তা আজ সর্বজন স্বীকৃত। আর্নি বিগস্টেনের মতে, ‘ভূমি বৈষম্য হতেও পুঁজি ও ঋণ বিতরণ ব্যবস্থায় বৈষম্য অধিকতর প্রকট; বর্তমান ব্যাংকব্যবস্থা পুঁজি বিতরণ বৈষম্যকে আরো প্রকটতর করে তুলেছে’। এ অবস্থা কোনো দৈব-দুর্ঘটনা নয়, বরং সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বাভাবিক কুফল। যে অর্থনীতিতে সম্পদ বৈষম্য পাহাড় সমতুল্য, সেখানে ব্যাংক বা ঋণদানকারী সংস্থা চায় ঋুঁকিমুক্তভাবে প্রদত্ত ঋণ হতে নিশ্চিত মুনাফা অর্জন করতে; সেখানে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বিত্তশালীদের যে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে, সেই একই শর্তে সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণীকে ঋণ প্রদান করবে, তা আশা করা যায় না। প্রচলিত প্রথায় ব্যাংক তাদের ঋণ দেয়, যাদের অতিরিক্ত জামানত (Collateral) প্রদানের সামর্থ্য আছে; অথবা লেস্টার থুরোর ভাষায়, ‘যাদের কলকারখানায় বিনিয়োগের জন্য প্রচুর সঞ্চয় রয়েছে’। অন্য কোনো যোগ্যতা বিবেচনায় আনা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যাংক মর্গান গ্যারান্টি ট্রাস্ট কোম্পানিও স্বীকার করেছে, তাদের ব্যাংক বিশাল ও বিত্তশালী কোম্পানীকেই ঋণ দিতে অধিক আগ্রহী। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও কোম্পানীসমূহকে প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারে ঋণ প্রদানে তাদের অনাগ্রহ সুস্পষ্ট। এ প্রবণতা সমাজের জন্য এক গভীর সংকটের পূর্বাভাস। কেননা স্পষ্টতই একটি বিশেষ সামাজিক শ্রেণীর উদ্যোক্তাদের প্রষ্ঠপোষকতায় বর্তমান ব্যাংকব্যবস্থা আস্থাশীল। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও স্তরে যে বিশাল উদ্যোক্তা প্রতিভার ভাণ্ডার ছড়িয়ে আছে, তার সম্ভাবনাকে যথাযথ ব্যবহারে বর্তমান ব্যাংকব্যবস্থা উদাসীন।