hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

নৈতিক ছাঁকনির অভাব

ধর্মের আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব তার মূল্যবোধের সামাজিক প্রয়োগশক্তির উপর নির্ভরশীল। তাহলেই কেবল আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের উপর ধর্মের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে। এমতাবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অনাস্থার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বিপর্যয় বলা হয়। কেননা এর ফলে সমাজ জীবনকে মন্দ হতে পরিশুদ্ধ রাখার আর কোনো ব্যবস্থা থাকে না। স্বার্থপরতা, জিনিসপত্রের মূল্য ও মুনাফা ধর্মীয় মূল্যবোধের স্থান দখল করে নেয় এবং তা সম্পদের বণ্টন, চাহিদা ও সরবরাহের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তি মানুষের অভ্যন্তরীণ চেতনার মধ্যে কার্যকর বিবেকবোধ তখনো কিছুটা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করলেও ব্যক্তিস্বার্থ ও সমাজস্বার্থের মধ্যে সমন্বয় বিধানের জন্য যে সামগ্রিক নিয়ামক ব্যবস্থ থাকা দরকার তা আর কার্যকর থাকে না।

ধর্মীয় মূল্যবোধের নিয়ামক ব্যবস্থাকে অস্বীকারের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ায় একই স্রষ্টার সৃষ্টি সকল মানুষের ন্যায়পরতা ধারণাটি ধূলিস্যাৎ হয়ে পড়ে। উক্ত অনুশাসনের উদ্দেশ্য ছিল সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সকল মানুষের অভাব পূরণ এবং সম্পদ ও আয়ের সুষম বণ্টন। ইতিহাসের ব্যাপক অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে টয়েনবি ও ডুরান্ট এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধ ব্যতিরেকে নৈতিক উচ্চমান ও সামাজিক সংহতি অর্জন সম্ভব নয়। টয়েনবি’র ভাষায়, ‘ধর্ম মানুষের মাঝে সামাজিক দায়িত্বানুভূতিকে ধ্বংসের পরিবর্তে বৃদ্ধি করে। মানুষে মানুষ ভ্রাতৃত্ববোধের পূর্বশর্ত হচ্ছে সব মানুষের পিতা তথা স্রষ্টা হিসেবে ঈশ্বরের ধারনা। যদি মানব পরিবারের পিতা হিসেবে স্রষ্টাকে স্বীকার করে নেয়া না হয়, তবে মানব সমাজকে এক সূত্রে বন্ধনের আর কোনো বিকল্প থাকে না’। উইল এবং এরিয়েল ডুরান্টও জোরালোভাবে মন্তব্য করেছেন যে, ‘ ধর্মের সাহায্য ব্যতিরেকে কোনো সমাজ উচ্চ নৈতিক মান বজায় রেখেছে ইতিহাসে এর কোনো উদাহরণ নেই।