১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০০
মৌলিক প্রশ্ন
আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা যাকে দ্রুত পুঁজিগঠন ও প্রবৃদ্ধির যুপকাষ্ঠে এতদিন বলি দেয়া হয়েছে, তা আবার পুনরায় স্বীকৃতি লাভ করল। এ শুভ পরিবর্তনকে অবশ্যই সুস্বাগতম। দক্ষতা ও ন্যায়পরায়নতা অর্জনের প্রশ্নে উন্নয়ন অর্থনীতি রূপ পরিবর্তন করে নিওক্লাসিক্যাল, কীনেসীয় এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মতো অবয়ব ধারণ করল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল, বিশেষ দর্শন ও মূল্যবোধ নিরপেক্ষ নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির পক্ষে এ লক্ষ্যদ্বয় অর্জন করা সম্ভব হবে কিনা? বর্তমানে প্রতিটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এবং প্রতিটি লেখায় নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদগণ যে উন্নয়ন কৌশলের কথা তুলে ধরছেন, তা হলো ‘এডজাস্টমেন্ট’ বা সমন্বয় সাধন। সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। উন্নয়নশীল দেশসমূহই যে প্রকট ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে, তাতে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা কেবলমাত্র একটি বিকল্প পন্থা নয়, বরং অত্যাব্শ্যকীয় প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রামের উপাদানগুলো সম্পর্কে। সন্দেহ দেখা দিয়েছে, নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি যে উপাদানগুলো উপস্থাপন করছে, তা একই সাথে দক্ষতা ও ন্যায়পরতার লক্ষ্যদ্বয় অর্জনে সক্ষম হবে কিনা। সঠিক সমন্বয় প্রক্রিয়া হচ্ছে তাই যা অর্থনীতির উন্নয়ন পদ্ধতির চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিককে এমনভাবে মোকাবিলা করে যা প্রবৃদ্ধিকে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত করবে। চাহিদার দিকে অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক ব্যয়ের পরিমাণ কমাতে হবে; এ ব্যয় হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যয়ের সামগ্রিক মাত্রা। তবে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি অবুণ্ণ রাখার জন্য বিনিয়োগ ব্যয় ও ভোগব্যয়ের পরিমাণ অধিকমাত্রায় কমাতে হবে। আর্থ-সামাজিক সুবিচার অবুণ্ণ রাখার জন্য আবার ভোগব্যয় এমনভাবে কমাতে হবে, যাতে কৃচ্ছ্যতাসাধনের ভারটি সমাজের সক্ষম ব্যক্তিদের উপর পড়ে। দরিদ্র মানুষের ভোগের অবস্থার যেখানে উন্নয়ন কাম্য ও প্রত্যাশিত, সেখানে অন্তত যাতে তাদের ভোগের মাত্রা আরো কৃশকায় হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সরবরাহের দিকেও আবার আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার দাবি করে যে, উৎপাদন এমনভাবে বাড়াতে হবে যাতে সমাজের প্রয়োজন পূরণ হয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায় এবং বৈষম্য হ্রাস পায়।
পক্ষান্তরে দেখা যায় বিপরীত চিত্রটাই ঘটেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর আশীর্বাদধন্য নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির সমন্বয় কর্মসূচির ফলে অস্থায়ী বেকারত্ব দেখা দিচ্ছে, জীনযাত্রার মান অন্তত স্বল্পকালীন সময়ের জন্য কমে যাচ্ছে। প্রকৃত প্রস্তাবে সমাজের দরিদ্র অংশই সবচেয়ে বেশি কষাঘাত লাভ করছে, এ কথা অকপটে স্বীকার করছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনোবল। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ একটি অর্থনৈতিক পদ্ধতি সমন্বয় প্রক্রিয়ার মূল্য হিসেবে দরিদ্র মানুষের এ ভোগান্তিকে মেনে নিতে পারে না। এ ভোগান্তি সাময়িক ও স্বল্পমেয়াদী বলে যে প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এ ভোগান্তি প্রক্রিয়ায় স্থায়ী, দীর্ঘমেয়াদী ও পৌনঃপুনিক মাত্রা গ্রহণ করার সম্ভাবনাই বেশি। সমন্বয়ের ফলাফলের বিষয়ে কোনোবলের মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির প্রস্তাবনার নিরিখেই করা হয়েছে। এখন দেখা প্রয়োজন, মূল্যবোধ নিরপেক্ষ উন্নয়ন অর্থনীতির প্রসারণ পর্যায়ে যে দরিদ্র শ্রেণীকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে, তাদের কেন আবার নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির সমন্বয় প্রক্রিয়ার পর্যায়ে নতুনভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে?
পক্ষান্তরে দেখা যায় বিপরীত চিত্রটাই ঘটেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর আশীর্বাদধন্য নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির সমন্বয় কর্মসূচির ফলে অস্থায়ী বেকারত্ব দেখা দিচ্ছে, জীনযাত্রার মান অন্তত স্বল্পকালীন সময়ের জন্য কমে যাচ্ছে। প্রকৃত প্রস্তাবে সমাজের দরিদ্র অংশই সবচেয়ে বেশি কষাঘাত লাভ করছে, এ কথা অকপটে স্বীকার করছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনোবল। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ একটি অর্থনৈতিক পদ্ধতি সমন্বয় প্রক্রিয়ার মূল্য হিসেবে দরিদ্র মানুষের এ ভোগান্তিকে মেনে নিতে পারে না। এ ভোগান্তি সাময়িক ও স্বল্পমেয়াদী বলে যে প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এ ভোগান্তি প্রক্রিয়ায় স্থায়ী, দীর্ঘমেয়াদী ও পৌনঃপুনিক মাত্রা গ্রহণ করার সম্ভাবনাই বেশি। সমন্বয়ের ফলাফলের বিষয়ে কোনোবলের মূল্যায়ন ও প্রতিক্রিয়া নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির প্রস্তাবনার নিরিখেই করা হয়েছে। এখন দেখা প্রয়োজন, মূল্যবোধ নিরপেক্ষ উন্নয়ন অর্থনীতির প্রসারণ পর্যায়ে যে দরিদ্র শ্রেণীকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে, তাদের কেন আবার নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির সমন্বয় প্রক্রিয়ার পর্যায়ে নতুনভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে?