hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২১

১. চাহিদা পূরণ

ভ্রাতৃত্বের মৌলিক সংশ্লেষ এবং সম্পদের আমানত প্রকৃতির বিষয়টি হচ্ছে, সম্পদ প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ব্যবহার করতে হবে এবং প্রত্যেককে সম্মানজনক ও মানবিক মানের জীবন ধারনের নিশ্চয়তা দিতে হবে, আর তা হতে হবে স্রষ্টার খলিফা হওয়ার কারণে মানুষের সহজাত মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। নবী করিম (ﷺ) বলেছেন: ‘সে লোক ঈমানদার নয়, যে পেট ভরে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে’। যেহেতু সম্পদ তুলনামূলকভাবে সীমিত, তাই এ লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মানবতা ও সাধারণ কল্যাণের সীমানার মধ্যে সম্পদের উপর দাবি করা না হয়। চাহিদা পূরণ অবশ্যই এমনভাবে হতে হবে, যাতে জীবনধারণ খুব সাধাসিধে প্রকৃতির হয় এবং তাতে আরামআয়েশ থাকলে তা যেন অপচয় ও দাম্ভিকতার পর্যায়ে যেতে না পারে। ইসলামে এ ধরনের অপচয় নিষিদ্ধ হলেও মুসলিম দেশগুলোতে এর জোয়ার বইছে। ইসলামের চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব প্রদানকে এভাবে দেখা ঠিক হবে না যে, সাম্প্রতিককালে এ বিষয়ে পশ্চিমা সমাজে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইসলামে একে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটা প্রমাণিত যে, সমগ্র মুসলিম ইতহাসে ফিকাহ ও ইসলামী সাহিত্যের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আইনশাস্ত্রবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এ মত পোষণ করেন যে, গরীবদের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ মুসলিম সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব (ফরজে কিফায়া)। মূলত শাতিবীর মতে, সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের অস্তিত্ব সমাজের নিজের অস্তিত্বের জন্যই প্রয়োজন (raison d’etre)। মওলানা মওদূদী, ইমাম হাসান আল-বান্না, সাইয়্যেদ কুতুব, মুস্তফা-আল-সিবা’ই, আবু জাহরাহ, বাকির আল-সদার, মুহাম্মদ-আল-মুবারক এবং ইউসুফ আল-কারযাভী সহ সকল আধুনিক পণ্ডিতগণ এ ব্যাপারে একমত।