১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
দ্রব্যমূল্য চাহিদার প্রতিফলন
তৃতীয়ত, এটা ধরে নেয়া হয় যে, কোনো জিনিসের জন্য যত বেশি টাকা খরচের জন্য মানুষ আগ্রহ প্রদর্শন করে, সে জিনিস তত বেশি প্রয়োজনীয়। কিন্তু এ তত্ত্বটি তর্কসাপেক্ষ। একজন দরিদ্র বা ধনী পিতার সন্তানের জন্যে দুগ্ধ সমানভাবে আবশ্যক হলেও দরিদ্র পিতা দুগ্ধের জন্য যত টাকা দিতে প্রস্তুত বা সক্ষম, তার চেয়ে ঠুনকো বিলাসী খেয়ালি জিনিসের জন্য ধনী পিতাকে অনেক বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত দেখা যায়। তাই দেখা যায় দ্রব্যের উচ্চমূল্য তার প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিফলিত করে না। তাই সমাজের দুগ্ধের প্রয়োজন অনেক বেশি হলেও দরিদ্র শিশুদের সে চাহিদা পূরণ না হয়ে দেখা যায় ধনিক শ্রেণীর বিলাস সামগ্রী অনেক বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এর দ্বারা কিন্তু অনুৎপাদনশীল ও বিলাস সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত হয় না। আর্থার ওকুন (Arthur Okun) তাই পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিকভাবে মন্তব্য করেছেন, ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা দরিদ্র ঘরের সন্তানের মুখে এক মুঠো ভাতের সংস্থানের বদলে ধনী ঘরের পোষা কুকুরের মাংসের ব্যবস্থা করাকেই অগ্রাধিকার প্রদান করে’। শেষতক যে দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়-তা হলো বিলাস সামগ্রীর প্রতি বিত্তশালীদের আগ্রহের কারণে এসব জিনিস প্রচুর উৎপাদিত হয় এবং সরবরাহ বৃদ্ধির সাধারণ নিয়মে ক্রমান্বয়ে এসবের দাম পড়ে আসে। অন্য দিকে অগনিত দরিদ্র শিশু থাকলেও তাদের দরিদ্র পিতার ত্রয় ক্ষমতা না থাকায় দুগ্ধ প্রয়োজন মোতাবেক উৎপাদিত হয় না বরং ফলে এক সময়ে দুগ্ধের দাম বৃদ্ধি পায়।