hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৩

সরকারি ভূমিকা

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এসব দেশের সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালণ করেছে। একমাত্র হংকং কিছুটা ব্যতিক্রম যেখানে লেইজে ফেয়ার বা মুক্তবাজার অর্থনীতির চর্চা হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে সরকার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পকারখানা, ভর্তুকি, বিধিবিধান ও অন্যান্য বিভিন্ন পন্থায় সরকারি পুঁজিবাজার, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, বাণিজ্য তথা অর্থনীতির সকল অঙ্গনকে প্রভাবিত করেছে। এসব দেশের সরকারি শিল্প লাইসেন্স, বিদেশী ঋণ ও প্রযুক্তি চুক্তি ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য বাধানিষেধ ও উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে নির্দিষ্ট ধারায় প্রবাহিত করেছে। তাই নিওক্লাসিক্যাল অর্থে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরকে লিবারেল অর্থনীতি বলা যায় না। জাপান সম্পর্কে ইয়াসুও মাসাই বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সীমিত হলেও অর্থনীতির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিস্তৃত। এ নিয়ন্ত্রণ অব্শ্য প্রশাসনিক বা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংগঠিত হয় না, তা হয় এক সূক্ষ্ম, সুনিপুণ পদ্ধতিতে। শিল্প ও বণিক সমিতির সাথে সরকার সার্বক্ষণিক সংলাপের এক সংযোগ বজায় রাখে না, যা একজন বহিরাগতের নিকট বিচিত্র মনে হতে পারে। সরকার পরোক্ষভাবে অথচ নিবিড়ভাবে জড়িত থাকে ব্যাংকের ঋণ দানের সাথে। তাছাড়া অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তথা রপ্তানি, আমদানি, বিনিয়োগ, মূল্য এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সি রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের বিপুল অংশ গ্রহণের আর কোনো প্রয়োজন দেখা যায় না। অন্যান্য মুক্তবাজার অর্থনীতির মতো তাই জাপানী সরকারও অর্থনীতির প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনে অনীহা প্রদর্শনের একটি আবহ বজায় রাখতে পারে। সরকারের সক্রিয় ও শক্তিশালী ভূমিকা ব্যতিরেকে এ দেশগুলো উন্নয়নের বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে কিনা সে বিষয়ে তাই সন্দেহের অবকাশ আছে। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, এসব দেশের সরকারের ভূমিকা কখনো বেসরকারি খাতে উদ্যোগ ও উদ্যমকে ব্যাহত করেনি; বরং এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা হচ্ছে ইতিবাচক। সরকার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে উৎসাহ ও সহায়তা যুগিয়েছে। এ সব দেশের প্রজ্ঞাবান, একনিষ্ঠ ও অগ্রগতিমুখী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের সার্বিক স্বার্থে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কার্যকর সহায়তা প্রদান করেছে। সরকারের স্থিতিশীলতার কারণে অর্থনৈতিক নীতিমালা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দূরীভূত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা উজ্জীবিত হয়েছে।