১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫১
সাধারণ শিক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ
মানবসম্পদ উন্নয়ন, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অমূল্য অবদান এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। শিক্ষা সামাজিক সাম্য ও অর্থনৈতিক সুযোগের দুয়ার খুলে দেয়। তাই যথার্থভাবেই শিক্ষাকে মানুষের মাঝে ‘মহাসাম্য সংস্থাপনকারী’ এবং সমাজ প্রগতির চালিকাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু শিক্ষা খাতে সম্পদ বরাদ্দে মুসলিম দেশের সরকারসমূহ ক্ষমার অযোগ্য উদাসীনতা দেখিয়েছে। এমনকি মুসলিম দেশসমূহে শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ সাক্ষরতা কর্মসূচিকেও তেমন অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়নি। নারী শিক্ষা, যার উপর সুস্থ, সবল ও চরিত্রবান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেড়ে ওঠা নির্ভর করে তাকে নিদারুণভাবে অবহেলা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এ ধরনের অমার্জনীয় অবহেলা মুসলিম সমাজের ভিতে ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা। মুসলিম সমাজে সৃজনশীলতা, কর্মপ্রেরণা ও কর্মদক্ষমতার যে বিপুল ভাণ্ডার সুপ্ত রয়েছে, শিক্ষা তার জীয়নকাঠি। প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীকে ইসলামের মৌলিক ও গভীর গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু এটাই যথেষ্ট নয়। তাদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
মুসলিম দেশের বর্তমান সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রসমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও ইসলামী গুণাবলী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সাথে যুগের চাহিদা অনুযায়ী তাদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখা-প্রশাখায়ও দক্ষ করে তুলতে পারেনি। পর্যপ্ত পরিমাণ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যবস্থাপনার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহের অভাবে অগণিত প্রতিভাবান ছাত্রের কাছে এসব উচ্চশিক্ষার দিগন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। ঔপনিবেশিক যুগের সিলেবাস অনুযায়ী চালু কলাবিদ্যার মান্ধাতার আমলের প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে ডিগ্রি নিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে আসছে। অফিস-আদালতের কেরানির চাকরির জন্য এসব ডিগ্রিধারীদের চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা। সেসব পদসমূহও ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। একদিকে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী দক্ষ জনশক্তির প্রকট অভাব, অন্যদিকে বাড়ছে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত বেকারের মিছিল। বিত্তশঅলীরা দেশে বা বিদেশে তাদের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। অথচ বিত্তহীন মানুষের দরিদ্র সন্তান, যাদের আয় ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য এ ধরনের শিক্ষার আরো বেশি প্রয়োজন, তাদের সামনে সকল সুযোগের দুয়ার রুদ্ধ। ধনী-দরিদ্রের গগণচুম্বি ব্যবধান আরো বেড়ে চলেছে। যেন বিত্তহীন মানুষদের চিরস্থায়ী দরিদ্র্যের অন্ধকূপে ফেলে রাখার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। মুসলিম সমাজের আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য পূরণ ও যুগের দাবির প্রতি সাড়া দিতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এসব শিক্ষার সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক ইসলামী মূল্যবোধের দৃঢ় সংযোজন প্রয়োজন। উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা-প্রশাখা সারাদেশে সুলভ ও সুগম্যভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে দূরতম গ্রামের একটি দরিদ্র বিধবার সন্তান বা শহরে বস্তির একটি মাতৃহারা সন্তানও উপযুক্ত শিক্ষার প্রশস্ত সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার মানবৃদ্ধি সন্তানও উপযুক্ত শিক্ষঅর প্রশস্ত সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার মানবৃদ্ধি ও সুলভে সবার জন্য দ্বারা অবারিত করে দেয়া হবে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণের পথে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রত্যেক মানুষের আন্তর্নিহিত সুপ্ত গুণাবলী বিকাশের সুযোগ প্রাপ্তি এবং অর্জিত দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ মৌলিক অধিকার। অত্রুপ উপযুক্ত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের মুখ্য ও অপরিহার্য দায়িত্ব।
শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা। মুসলিম সমাজে সৃজনশীলতা, কর্মপ্রেরণা ও কর্মদক্ষমতার যে বিপুল ভাণ্ডার সুপ্ত রয়েছে, শিক্ষা তার জীয়নকাঠি। প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীকে ইসলামের মৌলিক ও গভীর গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু এটাই যথেষ্ট নয়। তাদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
মুসলিম দেশের বর্তমান সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রসমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও ইসলামী গুণাবলী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সাথে যুগের চাহিদা অনুযায়ী তাদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখা-প্রশাখায়ও দক্ষ করে তুলতে পারেনি। পর্যপ্ত পরিমাণ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যবস্থাপনার বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহের অভাবে অগণিত প্রতিভাবান ছাত্রের কাছে এসব উচ্চশিক্ষার দিগন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। ঔপনিবেশিক যুগের সিলেবাস অনুযায়ী চালু কলাবিদ্যার মান্ধাতার আমলের প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে ডিগ্রি নিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে আসছে। অফিস-আদালতের কেরানির চাকরির জন্য এসব ডিগ্রিধারীদের চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা। সেসব পদসমূহও ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। একদিকে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী দক্ষ জনশক্তির প্রকট অভাব, অন্যদিকে বাড়ছে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত বেকারের মিছিল। বিত্তশঅলীরা দেশে বা বিদেশে তাদের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। অথচ বিত্তহীন মানুষের দরিদ্র সন্তান, যাদের আয় ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য এ ধরনের শিক্ষার আরো বেশি প্রয়োজন, তাদের সামনে সকল সুযোগের দুয়ার রুদ্ধ। ধনী-দরিদ্রের গগণচুম্বি ব্যবধান আরো বেড়ে চলেছে। যেন বিত্তহীন মানুষদের চিরস্থায়ী দরিদ্র্যের অন্ধকূপে ফেলে রাখার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। মুসলিম সমাজের আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য পূরণ ও যুগের দাবির প্রতি সাড়া দিতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এসব শিক্ষার সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক ইসলামী মূল্যবোধের দৃঢ় সংযোজন প্রয়োজন। উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা-প্রশাখা সারাদেশে সুলভ ও সুগম্যভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে দূরতম গ্রামের একটি দরিদ্র বিধবার সন্তান বা শহরে বস্তির একটি মাতৃহারা সন্তানও উপযুক্ত শিক্ষার প্রশস্ত সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার মানবৃদ্ধি সন্তানও উপযুক্ত শিক্ষঅর প্রশস্ত সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার মানবৃদ্ধি ও সুলভে সবার জন্য দ্বারা অবারিত করে দেয়া হবে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণের পথে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রত্যেক মানুষের আন্তর্নিহিত সুপ্ত গুণাবলী বিকাশের সুযোগ প্রাপ্তি এবং অর্জিত দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ মৌলিক অধিকার। অত্রুপ উপযুক্ত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের মুখ্য ও অপরিহার্য দায়িত্ব।