১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮০
প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা
কল্যাণ রাষ্ট্রের রাজনীতির অপর অঙ্গ প্রগতিশীল করব্যবস্থাও অধিকতর কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি। প্রথম দিকে বৈষম্য হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রগতিশীল করের প্রতি বিশ্বাস এত প্রবল ছিল যে, হেনরি সীমনস দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ‘তাই আমি বলব…. বৈষম্য হ্রাসের জন্য প্রগতিশীল করব্যবস্থা শুধুমাত্র কার্যকর ও সক্ষম পদ্ধতিই নয়, বরং এটিই একমাত্র উপযুক্ত ব্যবস্থা যা এ যাবত প্রণয়ন করা হয়েছে। যে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আমাদের কাম্য, অন্য সব ব্যবস্থা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’। প্রগতিশীল করব্যবস্থা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলো, কেননা এটা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে মৌলিক কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তা প্রগতিশীল কর বৈষম্য হ্রাস করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সমীক্ষা হতে দেখা যায় যে, কর কাঠামোয় প্রগতিশীলতার একটি আবরণ থাকলেও নানা ছাড়, রেয়াত, অব্যাহতি ও সুবিধা প্রদান এ ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে ভোতা করে দিয়েছে। কর হতে বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর অব্যাহতি প্রদানের ব্যবস্থা রাজস্ব হ্রাস করে এবং সম্ভবত কর ব্যবস্থাকেও ন্যায়নীতির পরিপন্থী করে তোলে। স্ট্রেয়ার অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, সাধারণভাবে আয়করকে আয় পুনর্বণ্টনের হাতিয়ার হিসেবে যেরূপ কার্যকর মনে করা হয়, আয়কর বর্তমানে যেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাতে তার সেই কার্যকারিতা থাকছে না। অন্যান্য অনেক সমীক্ষা অনুরূপ উপসংতারে উপনীত হয়েছে। পেচম্যান আরো অগ্রসর হয়ে বলেছেন যে, কর্পোরেট ট্যাক্সের উপর কম এবং বেতন ও মজুরির উপর অধিক আয়কর আরোপের নির্ভরশীলতার কারণে গত ২০ বছরে করব্যবস্থা অধিক নিপীড়নমূলক হয়ে পড়েছে। British Institute of Fiscal Studies এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা হতে দেখা যায় যে, ১৯৭৯ সাল হতে বৃটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য কর-ভার লাঘবের জন্য রেয়াত পাবার এক জটিল পদ্ধতি উদ্ভাবন করে নিয়েছে। করব্যবস্থার নানা ফাঁকফোকর ও অসামঞ্জস্যতাকে ব্যবহার করে ধনীরা ধনীই থেকে যায়। ফলে সাধারণভাবে এ ধারণাই বদ্ধমূল হয়েছে যে, প্রগতিশীল কর কোনো কোনো দেশে তা উল্টো দিকে চালিত হয়েছে।
যথাযথভাবে প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হলে করব্যবস্থার আয়ের পুনর্বণ্টন ন্যায়পরায়নতা আনয়নে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কল্যাণ রাষ্ট্রের ব্যয় বৃদ্ধির চাপে আয় ন্যায়পরায়নতামুখী সংস্কারের পরিবর্তে আয়কর ও কর্পোরেট কর হার হ্রাসের দাবি উঠল। পুনর্বণ্টন করব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করে মর্মে দাবি করা হলো। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৬ সালের কর সংস্কার আয়কর হারকে হ্রাস করে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনলো যা ১৯২০ সালের পর আর এরকম দেখা যায়নি। ফল দাঁড়াল এই যে, যখন পূর্বে অন্তত বাহ্যিক আবরণ হতে আয়-ন্যায়পরায়নতা অর্জন করব্যবস্থার লক্ষ্যস্বরূপে মনে হতো, কর হার হ্রাসের পর সে ধারণাও অবলুপ্ত হয়ে গেল।
যথাযথভাবে প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হলে করব্যবস্থার আয়ের পুনর্বণ্টন ন্যায়পরায়নতা আনয়নে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কল্যাণ রাষ্ট্রের ব্যয় বৃদ্ধির চাপে আয় ন্যায়পরায়নতামুখী সংস্কারের পরিবর্তে আয়কর ও কর্পোরেট কর হার হ্রাসের দাবি উঠল। পুনর্বণ্টন করব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করে মর্মে দাবি করা হলো। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৬ সালের কর সংস্কার আয়কর হারকে হ্রাস করে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনলো যা ১৯২০ সালের পর আর এরকম দেখা যায়নি। ফল দাঁড়াল এই যে, যখন পূর্বে অন্তত বাহ্যিক আবরণ হতে আয়-ন্যায়পরায়নতা অর্জন করব্যবস্থার লক্ষ্যস্বরূপে মনে হতো, কর হার হ্রাসের পর সে ধারণাও অবলুপ্ত হয়ে গেল।