১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮০
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ সাধারণত এ সকল শর্তাবলী পূরণ করে না। এখানে ব্যয়ের প্রতিষ্ঠানসমূহ অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ণ, এমনকি কর ব্যবস্থাও অদক্ষ, অন্যায্য ও দুর্নীতিপরায়ণ। এ অবস্থা সরকারের কর মরফত তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দেয়। নিশ্চিতই মুসলিম দেশসমূহে অধিক করারোপ করা হয়নি। তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের শতকরা হার হিসেবে কররাজস্ব তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু তারা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতোই খারাপ কর পদ্ধতির মধ্যে আছে। তাদের কর রাজস্বের সামান্য অংশই প্রত্যক্ষ কর থেকে আসে। ফলে করব্যবস্থা হয়ে পড়েছে পশ্চাৎমুখী। কারণ প্রত্যক্ষ কর থেকে আসে। ফলে করব্যবস্থা হয়ে পড়েছে পশ্চাৎমুখী। কারণ প্রত্যক্ষ করদাতাদের সংখ্যা নগণ্য। এছাড়া রয়েছে নানা ধরনের কর অব্যাহতি ও রেয়াত। ফলে করভিত্তি সংকীর্ণ ও করব্যবস্থা অনমনীয় হয়ে পড়ে। জনসাধারণের আয় বৃদ্ধি পায় ও কালো টাকার সৃষ্টি হয় এবং এর ফলাফল হচ্ছে অপচয় ও মূলধন পাচার। করভিত্তি, করহার, কর এড়ানো ও কালো টাকা হচ্ছে একই দুষ্ট চক্রের অংশ বিশেষ। করভিত্তি যত দুর্বল হবে, নিদিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের জন্য করহারও ততই অধিক হবে। আর করহার যত বেশি হবে, ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা ও কালো টাকা ততই বেশি হবে। এ দুষ্ট চক্র কেবল উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিম্নহার সৃষ্টি করে না; বরং নেতিবাচক পরোক্ষ করের প্রতি নির্ভরতাও বাড়িয়ে দেয়। এটি সবাই জানে, ‘সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা বিপুল কর ফাঁকি দেয় এবং তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে নগণ্য ক্তিু দরিদ্র জনগোষ্ঠী সংখ্যায় বিপুল। এতে করব্যবস্থা পশ্চাৎমুখী পরোক্ষ করের প্রতি নির্ভর করতে বাধ্য হয়।’
সুতরাং করব্যবস্থাকে ন্যায়ানুগ করা এবং এর নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্য এ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন প্রয়োজন। যদি করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি, অধিকাংশ অপ্রয়োজনীয় কর মওকুফ ও রেয়াত বাতিল এবং করহার যুক্তিসংগত পর্যায়ে আনা না হয়, তবে এ ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা ব্যতীত জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে এবং কোষাগারে পর্যাপ্ত রাজস্ব প্রদানে উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে না। ব্যাপকভাবে করভিত্তি সমপ্রসারণ ও ন্যায়পরায়ণ করদাতাগণের উপর করভার হ্রাস করে এবং করব্যবস্থাকে সুবিচারমূলক করতে মুসলিম দেশগুলো যত শিগগির সংস্কার সাধন করতে পারবে, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করতে তা ততই সহায়ক হবে। নিঃসন্দেহে এটি কঠিন কাজ, তবে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে তাহেল অসম্ভব নয়।
সুতরাং করব্যবস্থাকে ন্যায়ানুগ করা এবং এর নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্য এ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন প্রয়োজন। যদি করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি, অধিকাংশ অপ্রয়োজনীয় কর মওকুফ ও রেয়াত বাতিল এবং করহার যুক্তিসংগত পর্যায়ে আনা না হয়, তবে এ ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা ব্যতীত জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করতে এবং কোষাগারে পর্যাপ্ত রাজস্ব প্রদানে উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে না। ব্যাপকভাবে করভিত্তি সমপ্রসারণ ও ন্যায়পরায়ণ করদাতাগণের উপর করভার হ্রাস করে এবং করব্যবস্থাকে সুবিচারমূলক করতে মুসলিম দেশগুলো যত শিগগির সংস্কার সাধন করতে পারবে, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করতে তা ততই সহায়ক হবে। নিঃসন্দেহে এটি কঠিন কাজ, তবে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে তাহেল অসম্ভব নয়।