hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১০

ভবিষ্যতের কর্মসূচি

শিল্পোন্নত দেশগুলো যে সমস্যার সম্মুখীন, মুসলিম দেশগুলোর সমস্যা তার চেয়ে আরো বেশি কঠিন। তাদের সম্পদ আরো দুর্লভ। তাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাসের জন্যে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের প্রয়োজন। মাকাসিদ অর্জন করতে হলে এর বিপরীত অবস্থানের প্রয়োজন-তা হলো কতিপয় অপরিহার্য অথচ অবহেলিত লক্ষ্যের জন্য বর্ধিত ব্যয়। মুসলিম দেশসমূহের সামনে চ্যালেঞ্জই হচ্ছে কিভাবে এ সংঘাতের সমাধান করা সম্ভব। ব্যর্থ কর্মকৌশল অনুসরণ করে তারা সাফল্যজনভাবে এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে না, ব্যর্থ কর্মকৌশল শুধু ব্যর্থতার দিকেই নিয়ে যায়।

মুসলিম দেশগুলোর যা করা প্রয়োজন, তা হলো নিজস্ব কর্মকৌশল উদ্ভাবন, যা ‘হায়াতে তাইয়্যেবা’র দাবি অনুসারে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দক্ষতা ও ন্যায়পরতার সঙ্গে বিতরণে তাদেরকে সাহায্য করে। এটি তাদেরকে অন্য দেশের জন্য যোগ্য উদাহরণ ‘কুদওয়াহ হাসানাহ’ হওয়ার নৈতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে সাহায্য করবে। এটি এমন উদাহরণ যা তারা তাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে অনুসরণ করতে পারে। যে কর্মকৌশল উন্নয়ন করতে হবে, তাতে যে তিনটি উপাদান থাকতে হবে সেগুলো নিয়ে এ বইয়ের সকল আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। যেমন: (ক) সমাজসম্মত বিশোধক কর্মপদ্ধতি যা দিয়ে অদক্ষ অন্যায় ব্যবহার থেকে দুর্লভ সম্পদের দক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবহার আলাদা করা যায়; (খ) এ বিশোধক কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে এসব সম্পদ ব্যবহারে প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রবৃত্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকারী ব্যবস্থা; এবং (গ) হায়াতে তাইয়্যেবার দাবি অনুসারে সম্পদ বিতরণ ও পুনর্বণ্টনের লক্ষ্যে উপর্যুক্ত দুটি উপাদানকে জোরদার করার জন্য আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন।