১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩৭
শর্তসমূহ কখন পূরণ হয়
বৈধতার এ চারটি শর্ত পূরণ হবে না যতক্ষণ রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা তাদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা জনগণের নিকট হতে প্রাপ্ত না হয় এবং তাদের কার্যকলাপের জন্য সরাসরি জনগণের নিকট দায়ী না থাকে। একমাত্র মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দ্বারা এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব। এরূপ নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যকিরেকে জনগণ আল-কোরআনের ঐ নির্দেশ বাসত্মবায়ন করতে পারে না, যাতে বলা হয়েছে: “তাদেরকেই অভিভাবকত্ব দাও যারা যোগ্য” (৪:৫৮)। জনগণের স্বাধীনভাবে তাদের মন মতো যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ও ক্ষমতা থাকতে হবে। বলপূর্বক বা বংশানুক্রমিকভাবে শাসন ক্ষমতা দখল বৈধ হতে পারে না।
তাই সমকালীন প্রখ্যাত দু’টি ইসলামী আন্দোলনের নেতা ইমাম হাসান আল-বান্না এবং সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন। হাসান আল-বান্নার মতে, জনগণের নির্বাচিত সরকার ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের স্পিরিটের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নৈকট্যপূর্ণ। অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করে মাওলানা মওদূদী বলেছেন, ‘জনগণের সাথে গভীর সম্পৃক্তির মাধ্যমে সরকার গটিত ও পরিচালিত হওয়া উচিত। সরকারের গঠন এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে জনগণ খোলাখুলিভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে। একমাত্র জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাই প্রাধান্য পারে। এ টা হতে পারে শুধুমাত্র এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যা গঠন ও কার্যপ্রণালীতে গণতান্ত্রিক’। তিউনিসিয়ার ইসলামী আন্দোলন’ হিযব আল-ইসতিকলাল’ এর সভাপতি শেখ আলস্নাল আল ফাসি একইরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সবার কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফ কায়েমের কায়েমের জন্য শাসক শ্রেণী শরীয়াহর বিধান মেনে চলবে। এটা শুধুমাত্র জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে পারে। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, বর্তমান প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই। এতে এসব ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে সামরিক একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করা যায় না। প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মুসলমানরা ইতিবাচকভাবে যতদূর সংস্কার করতে পারবে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনে অপকৌশল, অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব যতদূর হ্রাস বা অপসারণ করতে পারবে, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামের আদর্শ শুরা ব্যবস্থার তত কাছাকাছি চলে আসবে। সার্বিকভাবে এটি হবে একটি পদড়্গেপ ও অগ্রাযাত্রা। তবে একবারেই এর সং স্কার সাধন হবে এরূপ প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘকালীন সময়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তাই সমকালীন প্রখ্যাত দু’টি ইসলামী আন্দোলনের নেতা ইমাম হাসান আল-বান্না এবং সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন। হাসান আল-বান্নার মতে, জনগণের নির্বাচিত সরকার ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের স্পিরিটের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নৈকট্যপূর্ণ। অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করে মাওলানা মওদূদী বলেছেন, ‘জনগণের সাথে গভীর সম্পৃক্তির মাধ্যমে সরকার গটিত ও পরিচালিত হওয়া উচিত। সরকারের গঠন এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে জনগণ খোলাখুলিভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে। একমাত্র জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাই প্রাধান্য পারে। এ টা হতে পারে শুধুমাত্র এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যা গঠন ও কার্যপ্রণালীতে গণতান্ত্রিক’। তিউনিসিয়ার ইসলামী আন্দোলন’ হিযব আল-ইসতিকলাল’ এর সভাপতি শেখ আলস্নাল আল ফাসি একইরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সবার কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফ কায়েমের কায়েমের জন্য শাসক শ্রেণী শরীয়াহর বিধান মেনে চলবে। এটা শুধুমাত্র জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে পারে। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, বর্তমান প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই। এতে এসব ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে সামরিক একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করা যায় না। প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মুসলমানরা ইতিবাচকভাবে যতদূর সংস্কার করতে পারবে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনে অপকৌশল, অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব যতদূর হ্রাস বা অপসারণ করতে পারবে, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামের আদর্শ শুরা ব্যবস্থার তত কাছাকাছি চলে আসবে। সার্বিকভাবে এটি হবে একটি পদড়্গেপ ও অগ্রাযাত্রা। তবে একবারেই এর সং স্কার সাধন হবে এরূপ প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘকালীন সময়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।