১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১২
সমাজতন্ত্র
কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতিসমূহের সাফল্য উল্লেখযোগ্যভাবে খুব ভালো কিছু নয়। একটি স্বল্পমেয়াদী জীবনমুখী সমাজে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মুনাফার প্রেষণার অবলুপ্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, প্রেরণা ও সৃষ্টিশীলতা বিনষ্ট করে। এতে দক্ষতা হ্রাস পায় এবং অর্থনীতির সরবরাহের দিকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও যৌথ মালিকানা সাম্য বিস্তারেও সফল হয় না, বরং তা পলিটব্যুরোর গুটিকতক সদস্যের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। এটা এমনকি একচেটিয়া ধনতন্ত্রের চেয়েও খারাপ। ধনতন্ত্রে সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হয় বটে, তবে তা সমাজতন্ত্রে মতো এত কঠোর নয়, কারণ সাধারণ বাজারের বিকেন্দ্রীকৃত প্রকিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রী ব্যবস্থার সহজাত সেকুলার ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সমাজসম্মত মূল্যবোধ থেকে বঞ্চিত করে। নৈতিক মূল্যবোধ ও মূল্যব্যবস্থা উভয়ের অনুপস্থিতিতে সম্পদ বরাদ্দের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একমাত্র যে বিশোধক কর্মপদ্ধতি অবশিষ্ট থাকে, তা হচ্ছে ক্ষমতাধর পলিটব্যুরো সদস্যদের ব্যক্তিগত খেয়াল। এভাবে এ ব্যবস্থায় ধনী ও উচ্চপদস্থ লোকেরা যা চায় তাই করার সুযোগ পায়, যেমন পায় পুঁজিবাদী দেশগুলোতেও। অথচ গরীব লোকেরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণেও অসুবিধার সম্মুখীন হয়। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, একনায়ক ব্যবস্থাসমূহ বস্তুগত বঞ্চনা ও মানবিক দু্র্ভোগের সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় প্রত্যেক স্থানেই গণবিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।