১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪৯
নৈতিক পরিপ্রেক্ষিত
শ্রমসাধ্য ও দক্ষ কাজ আদায়ের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক থাকা প্রয়োজন। তবু কাজে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিশ্চিতকরণের জন্য এটাই যথেষ্ট নয়। ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রবণতা প্রভাবিত করার জন্য আরো কিছু প্রয়োজন। বিভিন্ন মুসলিম দেশের ঝোঁক পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র যেদিকেই হোক না কেন, তারা মোটামুটি সেকুলার দর্শনকেই গ্রহণ করে নেয়। মনজিলে মকসুদে পৌঁছার জন্য এসব দেশে বর্তমানে ইসলামের সেই সঞ্জীবনী প্রাণশক্তিসুধা বা কারিশমা নেই, যা মানুষকে অতীতে বিশাল আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মানুষের চরিত্রের আমূল পরিবর্তনে ইসলামের সেই উজ্জীবনী শক্তিকে ব্যবহার করে বিপুল সম্ভাবনার সেই রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিতে হবে। বৈদেশিক দুঃশাসন ও বহু প্রজন্ম ধরে নৈতিকতার অবক্ষয়ের ফলে মুসলিম জনগণ তাদের ঈমান ও বিশ্বাসের গভীরতম মর্মবাণীর সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। তাই পুনরায় সেই সজীব ঈমানের রক্তবীজকে মহীরূহে রূপান্তর করতে হবে যা মানবিকতার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেবে।
অনেকে মনে করেন, মানুষের নৈতিক চরিত্রে পরিবর্তন আনয়ন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া ব্যয় সম্পর্কে অমূলক আশংকা ব্যক্ত করা হয়। প্রকৃত প্রস্তাবে নৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ আমাদের সমাজেই রয়েছে। সুদূর পল্লী অঞ্চলের প্রান্তসীমায় রয়েছে অন্তত একটি মসজিদ। এসব মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যম এবং সমাজ সংস্কার ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যদি এ লক্ষ্যে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে নৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টির কর্মসূচির সুচারু রূপায়ণ ব্যয়বহুল বা অতিরিক্ত সময় সাপেক্ষ হবার কোনো কারণ নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মসজিদের ইমাম, কলেজ-বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমাজকর্মীদের এ প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। রচনা করতে হবে চরিত্র গঠনমুলক পুস্তিকা ও সাহিত্য। আয়োজন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলের যথাযথ প্রশিক্ষণের। প্রয়োজনীয় এ ইসলামী সাহিত্য রচনা কঠিন কোনো কাজ নয়। ইসলামের মূল উৎস কোরআন ও সুন্নাহ সর্বাবস্থাতেই রয়েছে। উপরস্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম চরিত্রের উপাদান, স্রষ্টা ও সৃষ্ট জীবের নিকট জবাবদিহিতা ও দায়িত্ব তথা ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপর অসংখ্য মনীষীর গবেষনালব্ধ অসংখ্য অমূল্য লেখার ভাণ্ডার জমা হয়ে আছে। সরকারের আশু দায়িত্ব হচ্ছে, এসব উপায়-উপকরণ, সাজ-সরঞ্জাম ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ব্যবহার করে জনগণের বিপুল কর্মক্ষমতাকে সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়নের কাজে লাগানো।
চরিত্র গঠনের সময় সাপেক্ষতার আশংকা অবশ্য বাস্তবানুগ। যদি সমাজ অর্থনীতির উন্নতির জন্য চরিত্রের সংস্কার ও উজ্জীবন প্রয়োজনীয় হয়, তবে সে লক্ষ্যে অবশ্যই কাজ করতে হবে। এ উদ্যোগ গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা সমাজ পরিবর্তনের ধারাকেই শুধু বিলম্বিত করবে। মুসলিম দেশসমূহে মানুষের চারিত্রিক গুণাবলী উন্মেষের জন্য সামাজিক আন্দোলন চলছে। কিন্তু সরকারি অবহেলা ও ঔদাসীন্য, সঠিকভাবে বলতে গেলে সরকারের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বরং এটাই কাঙ্ক্ষিত ছিল, সরকার নৈতিকতা বর্জিত সেকুলারিজমের নামাবলী ছুঁড়ে ফেলে সমাজ পরিবর্তনে ইসলামী ধারাকে বেগবান করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। তা হলেই মানুষের নৈতিক জাগরণ ও মনোবিপ্লব দ্রুততর হতো। ফলশ্রুতি হিসেবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাফল্যের শিখরে পৌঁছাত। যদি তা না করা হয় তবে নৈতিক অবক্ষয়ের ক্রমবর্ধমান ধারা মানুষকে আরো বেশি পশুত্বের দিকে নিয়ে যাবে। অথচ সর্বজনবিদিত যে, মানুষের চরিত্র ও গুণাবলীর উপরই সমাজ ও অর্থনীতির উন্নতি ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে যথাযথভাবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের কাজে ব্যবহার করে ইসলামের মূল্যবোধের পরিপন্থি নানা আনুষ্ঠানিকতা ও আচার-আচরণ সর্বস্ব অপচয়মূলক বিলাস-ব্যসন, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান প্রভৃতি সম্পদ ধ্বংসকারী অভ্যাসের মূল্যোৎপাটনে সহায়তা করা যায়। সরকারকে সর্বশক্তি নিয়োগ করে ধনী- গরীব, অভিজাত-আনভিজাত নির্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সম্পদ অপচয়কারী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে এবং সম্পদ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অনেকে মনে করেন, মানুষের নৈতিক চরিত্রে পরিবর্তন আনয়ন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া ব্যয় সম্পর্কে অমূলক আশংকা ব্যক্ত করা হয়। প্রকৃত প্রস্তাবে নৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ আমাদের সমাজেই রয়েছে। সুদূর পল্লী অঞ্চলের প্রান্তসীমায় রয়েছে অন্তত একটি মসজিদ। এসব মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যম এবং সমাজ সংস্কার ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যদি এ লক্ষ্যে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মানুষের মধ্যে নৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টির কর্মসূচির সুচারু রূপায়ণ ব্যয়বহুল বা অতিরিক্ত সময় সাপেক্ষ হবার কোনো কারণ নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মসজিদের ইমাম, কলেজ-বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমাজকর্মীদের এ প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। রচনা করতে হবে চরিত্র গঠনমুলক পুস্তিকা ও সাহিত্য। আয়োজন করতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলের যথাযথ প্রশিক্ষণের। প্রয়োজনীয় এ ইসলামী সাহিত্য রচনা কঠিন কোনো কাজ নয়। ইসলামের মূল উৎস কোরআন ও সুন্নাহ সর্বাবস্থাতেই রয়েছে। উপরস্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম চরিত্রের উপাদান, স্রষ্টা ও সৃষ্ট জীবের নিকট জবাবদিহিতা ও দায়িত্ব তথা ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপর অসংখ্য মনীষীর গবেষনালব্ধ অসংখ্য অমূল্য লেখার ভাণ্ডার জমা হয়ে আছে। সরকারের আশু দায়িত্ব হচ্ছে, এসব উপায়-উপকরণ, সাজ-সরঞ্জাম ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ব্যবহার করে জনগণের বিপুল কর্মক্ষমতাকে সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়নের কাজে লাগানো।
চরিত্র গঠনের সময় সাপেক্ষতার আশংকা অবশ্য বাস্তবানুগ। যদি সমাজ অর্থনীতির উন্নতির জন্য চরিত্রের সংস্কার ও উজ্জীবন প্রয়োজনীয় হয়, তবে সে লক্ষ্যে অবশ্যই কাজ করতে হবে। এ উদ্যোগ গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা সমাজ পরিবর্তনের ধারাকেই শুধু বিলম্বিত করবে। মুসলিম দেশসমূহে মানুষের চারিত্রিক গুণাবলী উন্মেষের জন্য সামাজিক আন্দোলন চলছে। কিন্তু সরকারি অবহেলা ও ঔদাসীন্য, সঠিকভাবে বলতে গেলে সরকারের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বরং এটাই কাঙ্ক্ষিত ছিল, সরকার নৈতিকতা বর্জিত সেকুলারিজমের নামাবলী ছুঁড়ে ফেলে সমাজ পরিবর্তনে ইসলামী ধারাকে বেগবান করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। তা হলেই মানুষের নৈতিক জাগরণ ও মনোবিপ্লব দ্রুততর হতো। ফলশ্রুতি হিসেবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাফল্যের শিখরে পৌঁছাত। যদি তা না করা হয় তবে নৈতিক অবক্ষয়ের ক্রমবর্ধমান ধারা মানুষকে আরো বেশি পশুত্বের দিকে নিয়ে যাবে। অথচ সর্বজনবিদিত যে, মানুষের চরিত্র ও গুণাবলীর উপরই সমাজ ও অর্থনীতির উন্নতি ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে যথাযথভাবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের কাজে ব্যবহার করে ইসলামের মূল্যবোধের পরিপন্থি নানা আনুষ্ঠানিকতা ও আচার-আচরণ সর্বস্ব অপচয়মূলক বিলাস-ব্যসন, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান প্রভৃতি সম্পদ ধ্বংসকারী অভ্যাসের মূল্যোৎপাটনে সহায়তা করা যায়। সরকারকে সর্বশক্তি নিয়োগ করে ধনী- গরীব, অভিজাত-আনভিজাত নির্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সম্পদ অপচয়কারী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে এবং সম্পদ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।