১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সমাজতন্ত্রের পশ্চাৎপসরণ
পুঁজিবাদী সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনিবার্য দুঃখদুর্দশা ও ভোগান্তি। মানবচিত্তের স্বভাবজাত শুভবুদ্ধি এ অবস্থাকে মেনে নিতে পারেনা। স্বাভাবিকভাবেই এ অমানবিক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রকার মতবাদ ও জীবনাদর্শের উদ্ভব ঘটেছে যার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ। অবশ্য সমাজতন্ত্র কোনো এক ব্যক্তির চিন্তাপ্রসূত মতবাদ নয়। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে; যেমন- ইউটোপিয়ান, ফ্যাবিয়ান, সিন্ডিক্যালিস্ট, গিল্ড, মার্কসিস্ট, মার্কেট, ডেমোক্রেটিক এবং অন্যান্য। সমাজতন্ত্রের এসব বহুবিধ প্রকারের পারস্পরিক তারতম্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যাবশ্যক নয়। তবে সমাজতান্ত্রিক এসব মতবাদের মধ্যে কতক বৈশিষ্ট্য সাধারণ। সমাজতন্ত্রের ধারণা সমূহের সবগুলোই (কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত, যেমন-পল টিললিক, আর এইচ টাউনি এবং কুর্ট সুমেকার) তৎকালীন প্রবল সেকুলার আবহে লালিত হয়েছিল এবং বিশ্ব সম্পর্কে ধারণার ক্ষেত্রে এদের সবার দৃষ্টিভংগি ছিলো পুঁজিবাদী মতবাদের মতোই সেকুলার। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার সমানভাবে সমালোচনা করে এরা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, মুক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা অনিবার্যভাবে সম্পদের অসম বন্টন ঘটিয়ে বিত্তশালীকে আরো বিত্তবান এবং দরিদ্র্যকে আরো দরিদ্র্যতর করে আয় ও সম্পদের অসম বন্টনের দুষ্ট চক্রকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়। সমাজতান্ত্রি মতবাদসমূহ ব্যক্তি মালিকানা ও মজুরি ব্যবস্থাকে সকল অনিষ্টের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে ধারণা পোষণ করে যে, সম্পদের বিভিন্ন মাত্রায় জাতীয়করণ ব্যতীত দরিদ্র্য জনসাধারণের প্রতি ন্যায় বিচার করার সম্ভব নয়। যতদিন পর্যন্ত সম্পদের অসম বন্টন ব্যবস্থা ও বিশেষ স্বার্তভোগী শ্রেণী বিদ্যমান থাকবে, ততোদিন এমনকি গণতন্ত্রের পক্ষেও কার্যকর রূপ নেয়া সম্ভব নয়। সমাজতান্ত্রিক মতবাদসমূহ এমন একটি ভবিষ্যতের ধারণা পোষণ করে যখন জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে বা বলপূর্বক পুঁজিবাদীদের কবল হতে সরকারের নিয়ন্ত্রভার গ্রহণ করবে এবং উৎপাদন উপকরণের জাতীয়করণ ও পরিকল্পিত উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থার ভিত্তিতে শ্রেণী সংঘাতমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক ও সুষম সমাজব্যবস্থার পত্তন ঘটাবে। অন্য কথায় তারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ার এক ভিন্ন ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব করে। সমাজতন্ত্রের এ নানাবিধ প্রকরণের মধ্যে মূল পার্থক্য বিশ্বব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাদে দৃষ্টিভংগিতে নয়, বরং অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে তাদে কার্যপদ্ধতি বা কৌশলের মধ্যে নিহিত।
সমাজতন্ত্রের বহুবিধ প্রকরণের মধ্যে এখানে শুধুমাত্র মার্কসবাদী (Marxist) বাজারব্যবস্থা (Market) ও গণতান্ত্রিক (Democratic) -এই তিনটি চিন্তাধারার উপর আলোকপাত করা হবে। সমাজতন্ত্রের অন্যান্য ধারণাসমূহ এই তিনটি মূলধারার পূর্বসূরি এবং যেহেতু এগুলোর মূলধারা তিনটির মতো রাজনৈতিক প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি, তাই তাদের আলোচনা দ্বারা সমাজতন্ত্রের মূর বিষয়বস্তু অনুধাবনে কোনো সুযোগের অবকাশ নেই।
সমাজতন্ত্রের বহুবিধ প্রকরণের মধ্যে এখানে শুধুমাত্র মার্কসবাদী (Marxist) বাজারব্যবস্থা (Market) ও গণতান্ত্রিক (Democratic) -এই তিনটি চিন্তাধারার উপর আলোকপাত করা হবে। সমাজতন্ত্রের অন্যান্য ধারণাসমূহ এই তিনটি মূলধারার পূর্বসূরি এবং যেহেতু এগুলোর মূলধারা তিনটির মতো রাজনৈতিক প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি, তাই তাদের আলোচনা দ্বারা সমাজতন্ত্রের মূর বিষয়বস্তু অনুধাবনে কোনো সুযোগের অবকাশ নেই।