১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৪
(ক) নিয়ন্ত্রণমুলক বিধিবিধান
দ্রব্যসামগ্রীর মান, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং অন্যের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তনেরে জন্য কিছু মানদণ্ড বা ঐকমত্য প্রয়োজন যার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়। যদি এ ধরনের সর্বজনস্বীকৃত মানদণ্ড বা ঐকমত্য না থাকে এবং এরূপ দ্বিধাবিভক্ত সমাজের প্রত্যেক শ্রেণী নিজস্ব স্বার্থে চালিত হতে থাকে, তবে রাষ্ট্রকে নানা স্বার্থের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালন করতে হয়। বিভিন্ন শ্রেনীর মাঝে রাজনৈতিক দরকষাকষির মধ্য দিয়ে সমঝোতামূলক যা কিছু সাব্যস্ত হয় তাই হয় রাষ্ট্রের কার্যাবলী। এ ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত ঐকমত্য না থাকায় ভোটদানে প্রভাববিস্তার, সংবাদ মাধ্যমের উপর আধিপত্য, নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থবল, লবিং ক্ষমতা প্রভৃতি যে দল বা শ্রেণীর মধ্যে বেশি, সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রণ তাদের অনুকূলে চলে যায়। আর্থিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা ও সম্পদ বিভিন্ন স্বার্থের শ্রেণীর মাঝে যেহেতু সমভাবে বণ্টিত নয়, তাই তাদের মাঝে আন্তঃশ্রেণী শক্তির ভারসাম্য বিরাজ করার কথা নয়। অবশ্য স্ট্রেচি, গলব্রেথ ও অন্যান্যের ধারণা বিভিন্ন শ্রেণীর স্বার্থসমূহ একে অন্যকে প্রতিহত করে ন্যায়পরায়নতা আনয়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণীর মাঝে রাজনৈতিক দরকষাকষির মধ্য দিয়ে সমঝোতামৌলক যা কিছেু সাব্যস্ত হয় তাই হয় রাষ্ট্রের কার্যাবলী। এ ক্ষেত্রে সর্বজনস্বীকৃত ঐকমত্য না থাকায় ভোটদানে প্রভাববিস্তার, সংবাদ মাধ্যমের উপর আধিপত্য, নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থবল, লবিং ক্ষমতা প্রভৃতি যে দল বা শ্রেণীর মধ্যে বেশি, সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রণ তাদের অনূকূলে চলে যায়। আর্থিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা ও সম্পদ বিভিন্ন স্বার্থের শ্রেণীল মাঝে যেহেতু সমভাবে বণ্টিত নয়, তাই তাদের মাঝে আন্তঃশ্রেণী শক্তির ভারসাম্য বিরাজ করার কথা নয়। অবশ্য স্ট্রেচি, গলব্রেথ ও অন্যান্যের ধারণা বিভিন্ন শ্রেণীর স্বার্থসূহ এক অন্যকে প্রতিহত করে ন্যায়পরায়নতা আনয়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণীর মাঝে শক্তির দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, সরকারি নিয়ন্ত্রণ নীতি ধনী ও শক্তিশালীদের অনুকূলে চলে আসে। কেননা তাদের পক্ষে অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার দ্বারা প্রচার মাধ্যমকে কাজে লাগানো, নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল অর্থব্যয় ও প্রভাবিত করার অন্যান্য পন্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয়।
অধিকন্তু সঠিক আইন কাঠামো প্রণয়ন করা হলেও বিধিবিধানের কার্যকারিতার জন্য কেবল রাষ্ট্রীয় শক্তিই যথেষ্ট নয়। এর সাথে প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক উদ্দীপনা শক্তি যা শুধু নৈতিক চেতনাসম্পন্ন সমাজেই আশা করা যায়। যদি বিধিবিধান মেনে চলার জন্য ব্যক্তি মানুষের মাঝে অভ্যন্তরীণ তাগিদ না থাকে, যত বাঁধনকষণ দিয়ে আইন রচনা করা হোক না কেন, আইনকানুন ফাঁকি দেবার বা ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাবার জন্য মানুষ ছলেবলে চেষ্টা করে যাবে। সমাজের সামগ্রিক স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থকে ত্যাগ করার নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য সম্পর্কে ঐকমত্য ছাড়া আর্থ-সামাজিক ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুধুমাত্র রাষ্ট্র ও প্রশাসন যন্ত্রের শক্তির সাহায্যে আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে বলে প্রত্যাশা করা আসলে একটি ভ্রান্তিবিলাস মাত্র। সেকুলার মতবাদ যা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি তাতে লক্ষ্য সম্পর্কে ঐকমত্য ও নৈতিক চেতনা- এ উভয় শক্তিকেই অস্বীকার করা হয়েছে।
পুঁজিবাদী সমাজের বিত্তশালী ও ক্ষমতাশালী শ্রেনীও সমাজতন্ত্রের অগ্রযাত্রার মুখে বিকল্প হিসেবে কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে কল্যাণ রাষ্ট্র যখন রাজস্ব সংকটের মুখে পড়ল, তখন ব্যবসায়ী শ্রেণী রক্ষণশীল সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে বিধিবিধান শিথিলকরণের পক্ষে আওয়াজ তুলল। তারা যুক্তি দেখাল যে, বিধিবিধানের নিগড়ে অর্থনীতির স্বাচ্ছন্দ্য ও গতিশীলতা হ্রাস পায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, আর্থ-সামাজিক সুবিচারের প্রতি সুদৃঢ় সামাজিক অঙ্গীকার এবং ঐকমত্যসম্মত মূল্যবোধের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়সংগত হিস্যা অন্যকে দেবার স্পৃহা ও প্ররণা ছাড়াই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে য়িন্ত্রণমূলক বিধিবিধানের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক হাওয়া বদলের চাপে আইনকানুন যাই প্রবর্তন করা হোক না কেন, সময় ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে ক্রমশ তা তার কার্যকারিতা হারাবে।
অধিকন্তু সঠিক আইন কাঠামো প্রণয়ন করা হলেও বিধিবিধানের কার্যকারিতার জন্য কেবল রাষ্ট্রীয় শক্তিই যথেষ্ট নয়। এর সাথে প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক উদ্দীপনা শক্তি যা শুধু নৈতিক চেতনাসম্পন্ন সমাজেই আশা করা যায়। যদি বিধিবিধান মেনে চলার জন্য ব্যক্তি মানুষের মাঝে অভ্যন্তরীণ তাগিদ না থাকে, যত বাঁধনকষণ দিয়ে আইন রচনা করা হোক না কেন, আইনকানুন ফাঁকি দেবার বা ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাবার জন্য মানুষ ছলেবলে চেষ্টা করে যাবে। সমাজের সামগ্রিক স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থকে ত্যাগ করার নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য সম্পর্কে ঐকমত্য ছাড়া আর্থ-সামাজিক ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুধুমাত্র রাষ্ট্র ও প্রশাসন যন্ত্রের শক্তির সাহায্যে আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে বলে প্রত্যাশা করা আসলে একটি ভ্রান্তিবিলাস মাত্র। সেকুলার মতবাদ যা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি তাতে লক্ষ্য সম্পর্কে ঐকমত্য ও নৈতিক চেতনা- এ উভয় শক্তিকেই অস্বীকার করা হয়েছে।
পুঁজিবাদী সমাজের বিত্তশালী ও ক্ষমতাশালী শ্রেনীও সমাজতন্ত্রের অগ্রযাত্রার মুখে বিকল্প হিসেবে কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে কল্যাণ রাষ্ট্র যখন রাজস্ব সংকটের মুখে পড়ল, তখন ব্যবসায়ী শ্রেণী রক্ষণশীল সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে বিধিবিধান শিথিলকরণের পক্ষে আওয়াজ তুলল। তারা যুক্তি দেখাল যে, বিধিবিধানের নিগড়ে অর্থনীতির স্বাচ্ছন্দ্য ও গতিশীলতা হ্রাস পায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, আর্থ-সামাজিক সুবিচারের প্রতি সুদৃঢ় সামাজিক অঙ্গীকার এবং ঐকমত্যসম্মত মূল্যবোধের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়সংগত হিস্যা অন্যকে দেবার স্পৃহা ও প্ররণা ছাড়াই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে য়িন্ত্রণমূলক বিধিবিধানের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক হাওয়া বদলের চাপে আইনকানুন যাই প্রবর্তন করা হোক না কেন, সময় ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে ক্রমশ তা তার কার্যকারিতা হারাবে।