১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯২
অন্তঃসারশূন্য বিতর্ক
সামাজিক ঐকমত্য দ্বারা নির্ণীত মূল্যবোধ ও আর্থ-সামাজিক ন্যায়পরায়ণতার ছাঁকিনি (filter) ব্যবস্থার দ্বারা উন্নয়ন ও তার ফসল সমগ্র জনগণের মধ্যে বণ্টনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি উন্নয়ন অর্থনীতির দর্শনের যে অঙ্গীকারের প্রয়োজন ছিল, তা ছিল দুঃখজনকভাবে অনুপস্থিত। ফলে উন্নয়ন সম্পর্কিত এ যাবত সমগ্র আলোচনা পরিণত হয়েছে শূন্যগর্ভ চুলচেরা বিশ্লেষণ ও অর্থহীন বিতর্কে। উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন এবং সমাজে বৈষম্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উন্নয়ন-এ দুই উন্নয়ন অর্থনীতির দর্শন দেশজ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য ও প্রত্যাশিত সেই ছাঁকনি প্রক্রিয়ার আনজাম দিতে পারেনি যা বিভিন্ন খেয়ালখুশি ও ঝোঁক তাদের সমগ্র আলোচনা ও অভিসন্দর্ভকে অন্তহীন ও দিশাহীন এক পথে ঠেলে দিয়েছে। উন্নয়নের সকল বিবেচ্য ক্ষেত্রেই একথা সত্য। কৃষি বনাম শিল্প, গ্রামীণ বনাম নগর উন্নয়ন, ভারসাম্যপূর্ণ বনাম ভারসাম্যহীন উন্নয়ন, আমদানি প্রতিস্থাপন বনাম রপ্তানি উন্নয়ন, বাজার অর্থনীতি বনাম পরিকল্পনা-সকল বিষয়ের আলোচনার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। অর্থনীতিতে দক্ষতা ও ন্যায়পরতা এ দু’টিই যদি আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হয়, তবে দেখা যাবে, এ যাবত উন্নয়ন সম্পর্কিত সমগ্র আলোচনা এ দু’টি বিষয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সমগ্র আলোচনাই পরিণত হয়েছে এক অর্থহীন বাকসর্বস্ব আপাত চাকচিক্যময় কথামলায়। উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনাতেই উন্নয়নের লক্ষ্য হিসেবে আর্থ-সামাজিক ন্যায়নীতিকে ধরা হয়নি। উন্নয়নশীল দেশসমূহ উন্নয়নের কোন ধাপে অবস্থান করছে, তাদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কী, কোন উদ্দীপনাসমূহ মানুষকে সমাজস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থের সাথে সংগতি রেখে কর্মপ্রেরণা দান করে-এসব সম্পর্কে উন্নয়ন অর্থনীতির আলোচনায় পরিষ্কার ধারণার অভাব সুস্পষ্ট। এর ফলে উন্নয়নশীল অর্থনীতির যে সামগ্রিক ক্ষতি হয়েছে তা হচ্ছে, স্বাচ্ছন্দ গতিশীলতার বদলে প্রতিবন্ধকতা, শ্লথ প্রবৃদ্ধি রেখা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, প্রাণশক্তি শুষে নেয়া ঋণ এবং সামাজিক অস্থিরতা। সত্যিকার কর্মচেতনা ও ন্যায়ানুগ বণ্টন নীতিমালার বোধ ও স্পৃতা সম্বলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ধারণা ও কাঠামো গড়ে তোলা যেত, যদি সমগ্র নীতিমালার লক্ষ্য থাকত আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাহলে উন্নয়ন পরিকল্পনার এত বেশি বাধাবিঘ্ন, শ্লথ গতি ও ধসে পড়ার মুখোমুখি হতে হতো না।