১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৯
(ঘ) রাষ্ট্রের ভূমিকা
অর্থনীতিতে রাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন না করলে এত ব্যাপক একটি পুনর্গঠণ সম্ভব নাও হতে পারে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসলামের মূল্যবোধ ও লক্ষ্যসমূহের বাস্তব রূপদানের চেষ্টা করতে হবে। এর কারণ হচ্ছে, এমনকি একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ পরিবেশেও কোনো লোক এ ধরনের হওয়া সম্ভব, যে অন্যদের অতি জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে একেবারেই অসচেতন অথবা দুস্প্রাপ্য সমস্যা এবং সম্পদ ব্যবহারের সামাজিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে উদাসীন। তছাড়া, এমন অনেক কাজ আছে যা সাধারণ কল্যাণের স্বার্থে সম্পাদিত হওয়া প্রয়োজন, অথচ কোনো ব্যক্তি তা করতে আগ্রহী নাও হতে পারে অথবা বাজারের ব্যর্থতা বা পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রতে অপরাগতার কারণে এককবাবে বা সমষ্টিগতভাবে তা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। এমতাবস্থায়, নৈতিক উন্নতি বা মূল্যব্যবস্থা, তা যত অপরিহার্যই হোক না কেন, সম্পদ বিতরণ ও বরাদ্দে ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার জন্য যে ধরনের পুনর্গঠন প্রয়োজন তা অর্জনে পর্যাপ্ত হতে পারে না। অতএব প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তাধারায় অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কয়েকটি বিষয়ের আওতায় এটি আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আল-আহকাম-আল সুলতানিয়া (সরকারি বিধিবিধান), মাকাসিদ আল-শরীয়াহ, আল-সিয়াসাহ আল-শরীয়াহ (শরীয়াহর রাজনৈতিক নীতি) এবং আল-হিসবাহ (সরকারি হিসাব)।
যাইহোক, ইসলামী অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা ‘হস্তক্ষেপ’ প্রকৃতির নয়, যেখানে লেইজে ফেয়ার পুঁজিবাদের গন্ধ থাকে। এতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উদ্যম নিঃশেষকারী ও স্বাধীনতা হরণকারী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় বিতরণ ব্যবস্থার প্রকৃতি নেই। এটি ধর্মনিরপেক্ষ কল্যাণ রাষ্ট্রের মতোও নয়, যা মূল্যবোধ বিচারের প্রতি অনীহার কারণে সম্পদের উপর জোর দাবি জানায় এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। বরং এর ভূমিকা ইতিবাচক ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করে সকলের কল্যাণ অর্জনে সহায়তা করা, অর্থনৈতিক যন্ত্রযানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। শক্তিশালী সুবিধাবাদী গোষ্ঠীকে বিচ্যুতি থেকে বাধা দেয়া রাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামী মূল্যবোধ বাস্তবায়নে জনগণের প্রণোগনা যত বেশি হবে এবং মাকাসিদ অর্জন এবং সম্পদ ও দাবির মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক সমতা সৃষ্টিতে আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি কার্যকর হবে, অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের তত কম ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে রাষ্ট্রের ভূমিকা যাই হোক না কেন, তা স্বেচ্ছাচারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়; শরীয়াহর বিধিনিষেধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ‘আলাপ আলোচনা’র (শুরা) মাধ্যমে কার্যকরী হওয়া উচিত।
এভাবে ইসলাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে মূল্য কৌশলের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়, তবে বাজার শক্তিকে অলঙ্ঘনীয় মনে করে না। বাজার শক্তির অন্ধ প্রয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিকভাবে সৃজনশীল, উৎপাদনশীল উদ্যোগকে প্রতিদান দেয় না, শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে না অথবা দুর্বল ও অভাবীদেরকে সাহায্য করে না। অতএব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে মাকাসিদ অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তি ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই বা অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করা বা তার মালিকানার উপর নির্ভর করারও প্রয়োজন নেই। শরীয়াহ বাস্তবায়নে জ্ঞান, দৃঢ় প্রত্যয় ও কৌশলের অনুসরণ প্রয়োজন (কোরআন-২:২৫৬; ও ১৬:১২৫)। রাষ্ট্র বরং সামাজিক কল্যাণের সীমারেখার মধ্যে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বেসরকারি খাতকে সাহায্য ও উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা করবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে জনগণের নৈতিক সচেতনতার উপর নির্ভর করতে হবে, যাতে সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত হয়। এ জন্য সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য অর্জনে মানবসত্তার মধ্যে যথাযথ আন্তঃসংযোগ, মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য একটি যথাযথ কাঠামো সৃষ্টির দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরবর্তী অধ্যায়ে এ ভূমিকা আরো সুস্পষ্ট হবে এবং সেখানে ইসলামী মূল্যবোধের নীতিনির্ধারণের মর্মার্থ আলোচিত হবে।
যাইহোক, ইসলামী অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা ‘হস্তক্ষেপ’ প্রকৃতির নয়, যেখানে লেইজে ফেয়ার পুঁজিবাদের গন্ধ থাকে। এতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উদ্যম নিঃশেষকারী ও স্বাধীনতা হরণকারী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় বিতরণ ব্যবস্থার প্রকৃতি নেই। এটি ধর্মনিরপেক্ষ কল্যাণ রাষ্ট্রের মতোও নয়, যা মূল্যবোধ বিচারের প্রতি অনীহার কারণে সম্পদের উপর জোর দাবি জানায় এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। বরং এর ভূমিকা ইতিবাচক ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করে সকলের কল্যাণ অর্জনে সহায়তা করা, অর্থনৈতিক যন্ত্রযানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। শক্তিশালী সুবিধাবাদী গোষ্ঠীকে বিচ্যুতি থেকে বাধা দেয়া রাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্ব। ইসলামী মূল্যবোধ বাস্তবায়নে জনগণের প্রণোগনা যত বেশি হবে এবং মাকাসিদ অর্জন এবং সম্পদ ও দাবির মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক সমতা সৃষ্টিতে আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি কার্যকর হবে, অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের তত কম ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে রাষ্ট্রের ভূমিকা যাই হোক না কেন, তা স্বেচ্ছাচারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়; শরীয়াহর বিধিনিষেধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ‘আলাপ আলোচনা’র (শুরা) মাধ্যমে কার্যকরী হওয়া উচিত।
এভাবে ইসলাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে মূল্য কৌশলের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়, তবে বাজার শক্তিকে অলঙ্ঘনীয় মনে করে না। বাজার শক্তির অন্ধ প্রয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিকভাবে সৃজনশীল, উৎপাদনশীল উদ্যোগকে প্রতিদান দেয় না, শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে না অথবা দুর্বল ও অভাবীদেরকে সাহায্য করে না। অতএব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে মাকাসিদ অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তি ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজন নেই বা অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করা বা তার মালিকানার উপর নির্ভর করারও প্রয়োজন নেই। শরীয়াহ বাস্তবায়নে জ্ঞান, দৃঢ় প্রত্যয় ও কৌশলের অনুসরণ প্রয়োজন (কোরআন-২:২৫৬; ও ১৬:১২৫)। রাষ্ট্র বরং সামাজিক কল্যাণের সীমারেখার মধ্যে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বেসরকারি খাতকে সাহায্য ও উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা করবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে জনগণের নৈতিক সচেতনতার উপর নির্ভর করতে হবে, যাতে সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত হয়। এ জন্য সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রকে তার লক্ষ্য অর্জনে মানবসত্তার মধ্যে যথাযথ আন্তঃসংযোগ, মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য একটি যথাযথ কাঠামো সৃষ্টির দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরবর্তী অধ্যায়ে এ ভূমিকা আরো সুস্পষ্ট হবে এবং সেখানে ইসলামী মূল্যবোধের নীতিনির্ধারণের মর্মার্থ আলোচিত হবে।