১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৬
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও ঋণ
উদারনীতি গ্রহণে অগ্রসর যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাংগেরি এবং চিন এ বিষয়ে উত্তম উদাহরণ। মুল্যস্ফীতি ও শ্রমিক অসন্তোষের যাতাকলে আর্তনা করছে যুগোস্লাভিয়া ও পোল্যান্ড। উভয় দেশে প্রতি বছর মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলছে। যুগোস্লাভিয়ার ১৯৭৯ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিলো ২১.২% যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮৯ সালে হয়েছে ১২৪০%। পোল্যান্ডে মুদ্রাস্ফীতি ১৯৭৯ সালের ৭.১% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮৯ সালে দাঁড়িয়েছে ২৪৫%। এ দু’দেশের মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে যা ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে ২৬৮৫% এবং ৬৪০% এ। হাঙ্গেরী ও চীনে মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। চীনে তা ১৯৮৩ সালের ২.০% হতে ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮৫ সালে ১১.৯% এ দাঁড়িয়েছে। চীনাদের যারা বিগত ৩০ বছর যাবত মূল্য স্থিতিশীলতা দেখে আসছে এ মূল্যবৃদ্ধি তাদের নিকট তীব্র আঘাত হিসেবে দেখা দেয়। ফলে প্রতিবাদ ও ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিণতিতে অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির রূপকার ও কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান হু ইয়াও ব্যাংকে অপমানজনকভাবে পদত্যাগ করতে হয়। সরকার মূল্য বৃদ্ধির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ সাময়িকভাবে অর্থনীতিকে উন্মুক্তকরণের নীতি শিথিল করে। ফলে ১৯৮৬ সালে মূল্যবৃদ্ধিতে বিরতি এসে মূল্যস্ফীতি ৭% এ নেমে আসে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি রোধের এই ঢাকনি শক্তভাবে আটকে রাখা সম্ভ হলোনা। ১৯৮৬ সালে মূল্যবৃদ্ধিতে বিরতি এসে মূল্যস্ফীতি ৮.৮% এবং ১৯৮৮ সালে ২০.৭ এ এসে দাঁড়াল। অর্থনীতি উদারনীতিকরণ পুনরায় শুরু হলে চেপে রাখা মুদ্রাস্ফীতির বিস্ফোরণের সম্ভাবনা রয়েই গেল। বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে শুরু করলো। বেকারদের জন্যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করেই সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির উৎপাদন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে থাকা অদক্ষতা হ্রাসের উদ্যোগ নেয়া হলে এ অবস্থা সৃষ্টি হতে বাধ্য। প্রথমদিকে বেকারত্বের কোনো অস্তিত্ব আছে বলে স্বীকার করা হলোনা। যুগোস্লাভিয়ায় বেকারত্বের পরিমাণ দাঁড়াল ১৫% যা ওইসিডি দেশের তুলানায় দ্বিগুণ এবং তা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ ও যুগোস্লাভিয়ার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বিশালাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৫-৮৯ এ চার বছরে মার্কিন ডলার ৭১.৭ বিলিয়ন হতে মার্কিন ডলার ১০১.২ বিলিয়নে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ হাংগেরী, পোল্যান্ড ও যুগোস্লাভিয়ার মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৮৯ সালে যথাক্রমে ২০.৬ বিলিয়ন, ৪৩.৩ বিলিয়ন এবং ১৯.৭ বিলিয়ন মর্কিন ডলার। চীনের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ আরো দ্রুততরভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮০ সালের ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে তা ১৯৮৯ সালে ৪৪.৯ মার্কিন ডলারে পরিণত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ ও যুগোস্লাভিয়ার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বিশালাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৫-৮৯ এ চার বছরে মার্কিন ডলার ৭১.৭ বিলিয়ন হতে মার্কিন ডলার ১০১.২ বিলিয়নে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ হাংগেরী, পোল্যান্ড ও যুগোস্লাভিয়ার মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৮৯ সালে যথাক্রমে ২০.৬ বিলিয়ন, ৪৩.৩ বিলিয়ন এবং ১৯.৭ বিলিয়ন মর্কিন ডলার। চীনের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ আরো দ্রুততরভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮০ সালের ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে তা ১৯৮৯ সালে ৪৪.৯ মার্কিন ডলারে পরিণত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।