১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫৮
সমপ্রসারিত মালিকানা ও কর্পোরেশন নিয়নন্ত্রণ
যেহেতু ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সকল প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত হবে না, সেজন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে বৃহদাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। এতে মালিকানার দ্রুত বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখার ক্ষেত্রে বৃহৎ সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। যাইহোক, পাশ্চাত্য জগতে যে কর্পোরেশনগুলো বিদ্যমান সেগুলো সম্পদ ও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণের প্রাথমিক উৎস হিসেবে কাজ করছে। এতদসত্ত্বেও কর্পোরেশনগুলো অর্থনীতির প্রধান খাতের অন্তর্ভুক্ত এবং মৌলিক পণ্য উৎপাদন, মূল্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী এবং তা সমগ্র জাতি তথা বিশ্বকে প্রভাবিত করে থঅকে। তারা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে প্রতিফলিত করে না। কর্পোরেশনগুলো স্বৈরতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। এর স্টক কতিপয় পরিবার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবার ফলে তার সকল নীতিগত সিদ্ধান্তের উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা তাদের পক্ষে সম্ভব। এটা হচ্ছে পাশ্চাত্যের সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিণতি যাতে উঁচু-নীচুর পার্থক্য বৃদ্ধি করে এবং কর্পোরেট ক্ষমতাকে শেয়ারের ভিত্তির উপর পিরামিডের ব্যয় সংকীর্ণ কাঠামো গড়ে তোলে। সমপ্রতিক বছরগুলোতে এরূপ উঠানামার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয় পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে।
অতএব পাশ্চত্যের কর্পোরেশনগুলো মুসলিম দেশগুলোর জন্য কোনো আদর্শ হতে পারে না। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমানোর লক্ষ্যে এ ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কার করতেই হবে। ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সংগতি রেখে কর্পোরেশনগুলোর মূলধন কাঠামোতে অংশীদারীত্বের উল্লেখযোগ্য সমপ্রসারণ এবং সুদের বিলোপ সাধন শুধুমাত্র ধনী পরিবারগুলোর প্রভাবকে কমাবে না; বরং তা কর্পোরেট অংশীদারীত্বে মালিকানার সমপ্রসারণ ঘটাবে এবং ক্ষমতার অধিকতর সুষম বণ্টনে সহায়ক হবে। এ ব্যবস্থা যথেষ্ট নাও হতে পারে; কারণ অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার বোর্ড সভায় অংশ গ্রহণ করে না। এমতাবস্থায় বোর্ড পরিচালকদের অবাঞ্ছিত ক্ষমতা কমানোর জন্য অন্যান্য সংস্কারের প্রয়োজন হবে।
অতএব পাশ্চত্যের কর্পোরেশনগুলো মুসলিম দেশগুলোর জন্য কোনো আদর্শ হতে পারে না। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমানোর লক্ষ্যে এ ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কার করতেই হবে। ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সংগতি রেখে কর্পোরেশনগুলোর মূলধন কাঠামোতে অংশীদারীত্বের উল্লেখযোগ্য সমপ্রসারণ এবং সুদের বিলোপ সাধন শুধুমাত্র ধনী পরিবারগুলোর প্রভাবকে কমাবে না; বরং তা কর্পোরেট অংশীদারীত্বে মালিকানার সমপ্রসারণ ঘটাবে এবং ক্ষমতার অধিকতর সুষম বণ্টনে সহায়ক হবে। এ ব্যবস্থা যথেষ্ট নাও হতে পারে; কারণ অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার বোর্ড সভায় অংশ গ্রহণ করে না। এমতাবস্থায় বোর্ড পরিচালকদের অবাঞ্ছিত ক্ষমতা কমানোর জন্য অন্যান্য সংস্কারের প্রয়োজন হবে।