১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৩
৩. আয় ও সম্পদের সমতাভিত্তিক বণ্টন
চাহিদা পূরণ সত্ত্বেও আয় ও সম্পদের চরম বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে। একটি মুসলিম সমাজে তখন বৈষম্য মেনে নেয়া যায়, যখন তা প্রথমত কমবেশি দক্ষতা, উদ্দ্যোগ, প্রচেষ্টা ও ঝুঁকির অনুপাতে হয়ে থাকে। যেখানে ইসলামী শিক্ষাসমূহ আন্তরিকভাবে অনুসৃত হয়, সেই সমাজে এগুলো সাধারণভাবে বণ্টিত হতে বাধ্য। চরম বা খুব বড় ধরণের বৈষম্য ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ইসলামী শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয় যে, সম্পদ কেবল সমগ্র মানবসত্তার জন্য আল্লাহর দানই নয় (কোরআন-২:২৯), তা একটি আমানতও বটে (কোরআন-৫৭:৭)। সুতরাং গুটিকতক লোকের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত থাকার কোনো কারণ নেই। বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কার্যকর কর্মসূচি না থাকলে ইসলামের কাঙ্ক্ষিত ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি তরান্বিত করার পরিবর্তে ধ্বংসই এনে দেবে। অতএব, ইসলাম মূলত সম্মানজনক উপার্জনের উৎসের মাধ্যমে প্রত্যেকের চাহিদাই পূরণ করতে চায় না, বরং উপার্জন ও সম্পদের ন্যায়ভিত্তিক বণ্টনের উপর গুরুত্ব প্রদান করে। কোরআনের ভাষায়, ‘সম্পদ যেন কেবল তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়’ (কোরআন-৫৯:৭)।
ন্যায়ভিত্তিক বিতরণ বিষয়টিকে ইসলামে এত বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যে, বেশ কিছু মুসলিম চিন্তাবিদ এরূপ ধারণা পোষণ করেন যে, মুসলিম সমাজে সম্পদের সমতা অপরিহার্য। নবী করিম (ﷺ) এর একজন সাহাবী হযরত আবু জর (রা) এ ধারণা পোষণ করতেন যে, কোনো মুসলমানের তার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়া ঠিক নয়। তবে নবী করিম (ﷺ) এর অধিকাংশ সাহাবী তার এ চরম মতের সঙ্গে একমত হননি। অবশ্য আবু জর উপার্জনের সমতার কোনো প্রবক্তা নন। তিনি সম্পদের (সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণ) সমতায় বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেন, এটা অর্জন করা সম্ভব, যদি ধনী লোকেরা নিজেদের প্রকৃত ব্যয় মিটানোর পর সমস্ত উদ্বৃত্ত সম্পদ তাদের কম সৌভাগ্যশালী ভাইদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য ব্যয় করে। মুসলিম পণ্ডিতগণের সাধারণ ধারণা হচ্ছে, সামাজিক আচরণ পদ্ধতি ও অর্থনীতি ইসলামের শিক্ষানুযায়ী পুনর্বিন্যস্ত করা হলে মুসলিম সমাজে সম্পদ ও আয়ের চরম অসমতা থাকতে পারে না।
ন্যায়ভিত্তিক বিতরণ বিষয়টিকে ইসলামে এত বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যে, বেশ কিছু মুসলিম চিন্তাবিদ এরূপ ধারণা পোষণ করেন যে, মুসলিম সমাজে সম্পদের সমতা অপরিহার্য। নবী করিম (ﷺ) এর একজন সাহাবী হযরত আবু জর (রা) এ ধারণা পোষণ করতেন যে, কোনো মুসলমানের তার পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়া ঠিক নয়। তবে নবী করিম (ﷺ) এর অধিকাংশ সাহাবী তার এ চরম মতের সঙ্গে একমত হননি। অবশ্য আবু জর উপার্জনের সমতার কোনো প্রবক্তা নন। তিনি সম্পদের (সম্পদ পুঞ্জীভূতকরণ) সমতায় বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেন, এটা অর্জন করা সম্ভব, যদি ধনী লোকেরা নিজেদের প্রকৃত ব্যয় মিটানোর পর সমস্ত উদ্বৃত্ত সম্পদ তাদের কম সৌভাগ্যশালী ভাইদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য ব্যয় করে। মুসলিম পণ্ডিতগণের সাধারণ ধারণা হচ্ছে, সামাজিক আচরণ পদ্ধতি ও অর্থনীতি ইসলামের শিক্ষানুযায়ী পুনর্বিন্যস্ত করা হলে মুসলিম সমাজে সম্পদ ও আয়ের চরম অসমতা থাকতে পারে না।