hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১৩

কল্যাণ রাষ্ট্র

বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে কল্যাণ রাষ্ট্র মূল্য পদ্ধতির সঙ্গে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি, বিশেষত সাম্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কর্তৃক কল্যাণ ব্যয় একত্র করার চেষ্টা করেছে। মূল্যবিচার এবং প্যারিটো অপটিমালিটির স্ব-আরোপিত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে বিতৃষ্ণার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয়-এ দুটির মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা বা আর্থিক সংগতি পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কল্যাণ রাষ্ট্র সরকারি খাতে বর্ধিত ব্যয়ের মাধ্যমে ধনী-গরীব সবার জন্য কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের চেষ্টা করেছে। প্রথমে তা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এই বলে যে, বরাদ্দ ও বিতরণ উভয় সমস্যারই সার্বিক সমাধান করা হয়েছে। আসলে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি; কাজটির জন্য কর্মকৌশলটি ছিল অপর্যাপ্ত। সরকারি খাতে বর্ধিত ব্যয়ের পাশাপাশি সম্পদের উপর অন্যান্য দাবি হ্রাসের মতো ব্যবস্থা না থাকায় করের ভারী বোঝা সত্ত্বেও বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পায়, যেহেতু ভোক্তা সংস্কৃতি একই সাথে বেসরকারি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ঘটায় সেহেতু বেসরকারি খাতে তার সমন্বয়ের জন্য কোনো সঞ্চয় বৃদ্ধি ঘটেনি। বরং আনুপাতিকভবে মজুদ ব্যাংকব্যস্থায় মুদ্রার অত্যধিক সম্প্রসারণ ঘটেছে। এ ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি খাত যত বেশি ঋণ নিতে আগ্রহী, তত বেশি ধার দেয়া হয় জামানত ও নিম্নস্তরের ঝুঁকির ভিত্তিতে এবং সেক্ষেত্রে ঋণের অর্থ কী কাজে ব্যয় করা হবে, তার প্রতি কোনো তোয়াক্কা করা হতো না। এভাবে সম্পদের উপর দাবির আরো অবনতি ঘটেছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতদসত্ত্বেও দারিদ্র্য ও বঞ্চনার সমস্যা অব্যাহত রয়েছে এবং তা আরো ঘনীভূত হয়েছে। প্রয়োজন অপূর্ণ রয়ে গেছে। বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।