১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫
অর্থায়ন
কৃষি খাতের অপর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকূলতা হলো, ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সুযোগের অভাব। যদিও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, তথাপি কেবলমাত্র ধনী কৃষকগণই সাধারণত সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ ক্ষুদ্র কৃষকগণের পক্ষে কঠিন হয়। ফলে তারা উন্নতমানের কৃষি উপকরণ ক্রয় এবং ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করতে এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের পূর্ণরূপে নিয়োজিত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ পায় না। এভাবে ‘ব্যবসায়ী, অপ্রতিষ্ঠানিক মহাজন, সুদখোর ও আত্মীয়স্বজনদের নিকট অব্যাহতভাবে ঋণগ্রস্ত থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যে স্থায়ী রূপ লাভ করে’। যদিও সমানুপাতিক ভূমিব্যবস্থা অপরিহার্য, কিন্তু এটি অধিক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে না, যদি কৃষকদের পর্যাপ্ত অর্থায়ন করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়। কৃষদের কেবলমাত্র তাদের কৃষিখামারে নিয়োগের জন্য অর্থায়ন করলেই চলবে না, তাদেরকে ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্যও অর্থায়ন করতে হবে, যাতে তারা বাড়তি আয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই ইসলাম প্রদর্শিত সুদমুক্ত ব্যবস্থার বিকল্প কাঠামের মধ্যে এ কাজগুলো করতে হবে। সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বৃহদায়তন শহুরে প্রতিষ্ঠানকে দশকের পর দশক ধরে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। তারা যদি ভরসাম্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কৃষি খাতে এবং ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানকে রেয়াতি পন্থায় বা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মাধ্যমে অর্থায়ন না করে, তবে হয়ত পূর্বোক্ত কাজগুলো করা সম্ভবপর হবে না। কিভাবে এগুলো করা সম্ভব তা পরিবর্তীতে আলোচনা করা হবে।