hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭২

দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপচয়

উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সঞ্চয় অর্জনের সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক সুস্পষ্ট পথ হলো, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপচয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা। কারণ সরকারের সীমিত সম্পদ দক্ষতার সাথে ব্যবহারের ক্ষমতাকে এগুলো সাংঘাতিকভাবে ক্ষয় করে দিচ্ছে। ১৯৫৫ সালে তিবর মেনডে লিখেচন যে, ‘সম্ভবত দুর্নীতি অপেক্ষা অন্য কোনো লক্ষণ পাকিস্তানী জনসাধারণকে অধিক হতাশ করে নাই’। অবৈধ কার্যকলাপ এতদূর গেছে যে, ‘এর ফলে নতুন অর্থনৈতিক প্রকল্পসমূহ যে কল্যাণ সৃষ্টি করতে পারত, তা প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়’। দুর্নীতি হ্রাসে কার্যকর কোনো ব্যবস্থার অনুপস্থিতি অব্যাহত দুর্নীতি বৃদ্ধি থেকে এমনভাবে প্রতিভাত হয় যে, মেনডে একথা লেখার দুই দশকেরও অধিক পরে পাকিস্তান জাতীয় সংসদের পাবলিক একউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলতে বাধ্য হন, ‘উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ আত্মসাৎ হয়ে যায়’। তিনি যে সকল দৃষ্টান্ত দেন তা হলো, নির্মাণের কয়েক বছর পরই ত্রুটিপূর্ণ ভবন ধসে পড়ে, একটিমাত্র বর্ষতেই রাস্তা ধুয়ে যায়, ব্যবহার করার আগেই আমদানিকৃত রেলওয়ে যন্ত্রপাতি লোহালক্কড়ে পরিণত হয়; আমদানিকৃত দ্রব্য পাকিস্তানে পৌঁছার আগেই অন্যত্র বিক্রি হয়ে যায় এবং জাতীয়করণকৃত ব্যাংক কর্তৃক প্রভাবশালী ব্যক্তিগণের নামে প্রদত্ত ঋণ মওকুফ করায় হয়। এ ব্যাপক দুর্নীতি কেবলমাত্র পাকিস্তানেই নয়, বরং সকল মুসলিম দেশেই বিরাজমান, যদিও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। যাইহোক, নৈতিক সংশোধন, জীবনযাপন পদ্ধতির পরিমার্জন ও অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া দুর্নীতি হ্রাসের কোনো প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না।